শিরোনাম
দুঃস্থ নারীদের নগদ টাকা উপহার দিল হিউম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের মিলাদ ও ইফতার বিতরণ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অর্থায়নে ফ্রি সবজি বাজার আন্দরকিল্লায় রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর সমস্যা, সমাধানে করণীয় ও হোমিওপ্রতিবিধান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে আজ মাহে রমজানের শেষ জুমা; জেনে নিন জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব আলোচিত ‘নয়া দামান’ গানের মূল শিল্পী তোসিবা বেগম উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রবেশ বাড়ছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা কেন করবেন? সরকারিভাবে অন্তত ৯০০ টন অক্সিজেন মজুত আছে
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

থিয়েটারের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে চান কঙ্কন দাস

মোহাম্মদ আলী / ৩৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এক দিন নয়, প্রতিদিন হোক নারীদের দিন। ঘরে বাইরে নিরাপদ হোক নারী, নারী তার যোগ্যতার প্রাপ্য সন্মান ও স্বীকৃতি পাক।- এমন প্রত্যাশা মঞ্চাভিনেত্রী কঙ্কন দাসের, যিনি একাধারে একজন আবৃত্তি শিল্পী, উপস্থাপিকা, টিভি অভিনেত্রী, ভয়েস আর্টিস্ট, শিক্ষকও।

পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই ১৯৮৭ সালে প্রতিভাস নাট্যদলের সাথে কাজ করা। আর সেই সূচনাটা এখনো পর্যন্ত ভালোবাসায় ধরে রেখেছেন তিনি।

নাট্যাঙ্গনে আসার আগে কঙ্কন দাস গান আর নাচ নিয়েই ছিলেন। প্রতিভাস নাট্যদলের মাধ্যমে নাটকের মঞ্চে পদার্পণ করে সেখানে তিনি মুনির হেলালের নির্দেশনায় ‘কিনু কাহার থেটার’, ‘জয়াপরজায়া’ ‘কোর্ট মার্শাল’, ‘শরতের মেঘ’ এ অভিনয় করেন।

নাট্য গ্রুপ ‘নাট্য দলের’ হয়েও তিনি কাজ করেন।
অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে তিনি ‘দুতিয়ার চাঁদ’, জলকন্যায় অভিনয় করেন। উত্তরাধিকার নাট্যদলের ‘সাম্পান নাইয়া’, ‘মন তার শঙ্খিনী’, মৃত্যুপাখিতে কাজ করেন। এক্ট ওয়ানের প্রযোজনায় করেন ‘বৃত্তের বাইরে’। বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের ‘অন্তিগণ’, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির ‘বধ্যভূমি’, ‘কানার হাট বাজার’, ‘মেহেরজান’, ‘সোরাব রস্তম’ এ অভিনয় করেন।

এ ছাড়া কাজ করেন একাডেমি অফ পারফর্মিং আর্টের ‘আগুন পাখি’, মঞ্চ মুকুটের ‘পুতুল খেলা’ নাটকে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস এবং পাকিস্তানের অজোকা এর যৌথ প্রযোজনায় ‘দুঃখিনীতে কাজ করেন। যা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ব্যাংককে মঞ্চস্থ হয়। বিটা এবং ভারতের যৌথ প্রযোজনায় ‘মীন কন্যা’তে কাজ করেন। যা বাংলাদেশ ও ভারতে পরিবেশিত হয়। বিটা ও থাইল্যান্ডের যৌথ প্রযোজনায় গ্লোবালাইজেন ভার্সেস আইডেন্টিফিকেশন এ কাজ করেন, যা থাইল্যান্ডে প্রদর্শিত হয়। বিটার ‘ইয়াসমিন’ একটি ওয়ার্কশপ প্রোডাকশনেও কাজ করেছেন

কঙ্কন দাস, মা আদর করে বুড়ি ডাকেন। তাই ডাক নাম বুড়ি। জন্ম চট্টগ্রামে, বেড়ে ওঠাও চট্টগ্রামে। বাবা বিশ্বেশ্বর দাস ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মা মুকুল দাসও পেশায় স্কুল শিক্ষক। মায়ের হাত ধরে তাঁর স্কুলে প্রথম পাঠ, ডাক্তার খাস্তগীর স্কুল থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। এমএড উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

পেশাগত জীবনে তিনি সরাইপাড়া আব্দুল হাকিম সিটি কর্পোরেশন কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক। বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিল্পী। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত নাটক ও বাচিক শিল্পী। এছাড়াও জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের কার্য নির্বাহী কমিটির নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য। একমাত্র ছোট ভাই সুমন, পেশায় চাকুরীজীবী। বাবা ও মায়ের অনুপ্রেরণায় এ অঙ্গনে আসা। প্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আছেন অনেকেই, বিশেষ স্থানটা শ্রদ্ধাভাজন ফেরদৌসী মজুমদারকে দিতে চান।

নাটক ছাড়া অন্য কাজের (চলচ্চিত্র) মধ্যে তিনি মাহবুবুর রহমানের প্রযোজনা ও তানিম রহমান অংশুর নির্দেশনায় চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’, মোরশেদ হিমাদ্রির (হিমু) নির্দেশনায় ‘হলুদ শিকড়ে স্বপ্নের কোলাজ’, হিন্দোল রায়ের নির্দেশনায় ‘খোলা হাওয়া’, শৈবাল চৌধুরির চলচ্চিত্র ‘ভূমিকম্পের পরে’, ইফতেখার আহমেদ সাইমনের নির্দেশনায় ‘দৃশ্য ছায়া’ ও শর্ট ফিল্ম ?’ (প্রশ্নবোধক), মোকাদ্দেম মোরশেদের নির্দেশনায় ‘লড়াই’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। এর মধ্যে উত্তারাধিকার নাট্য সন্মাননা ২০১৪; অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায় ২০১৬; ভূবনেশ্বরী টেলিভিশন, ত্রিপুরা ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭; বাংলাদেশ হাই কমিশনার, আগরতলা ২০১৬;
নান্দীমুখ নাট্য সন্মাননা ২০১৭ উল্লেখযোগ্য।

স্বামী, সন্তান, মা আর স্কুলের কাজ নিয়ে তার জাগতিক জগত। ভালোবাসা আর প্রেরণাটাও পান স্বামী সন্তানের কাছ থেকে। মনের ভালোবাসা, ভালোলাগার সবটা জুড়েই রয়েছে অভিনয়, থিয়েটারের কাজ, মঞ্চ আর মিডিয়ার জগত। পরিবারের পূর্ণ সহোযোগিতায় আর উৎসাহে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও।

বর্তমানে তিনি মহড়া করছেন কথা সুন্দর নাট্যদলের ‘বৃত্তের বাইরে’ এবং চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক নাটক ‘রাজনীতির কবি’র।

সাধারণ বাঙ্গালী খাবার পছন্দ কঙ্কনের। পছন্দের প্রিয় মুখ একমাত্র সন্তান ধ্রুব। প্রিয় ফুল দোলনচাঁপা। অবসরে সময় দেন সন্তান ধ্রুবকে। বইপড়া, গান শোনা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি তার প্রিয়।

থিয়েটারের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে চান কঙ্কন। আশা রাখেন, এক দিন মঞ্চের কাজ দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবেন।

তার হিসাব মতে, থিয়েটারে মেয়েদের উপস্থিতি অনেক কম।

কঙ্কন মঞ্চকে অভিনয়ের মূলভিত্তি হিসেবে মানেন। তার মতে, মঞ্চ হচ্ছে এমন মাধ্যম, যেখান থেকে সরাসরি দর্শকের সাথে সংযোগ করা যায়, যে কোন ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানো যায়। তাই মঞ্চ হচ্ছে তার প্রাণের খোরাক। তিনি মনে করেন, ভিত্তিটা মজবুত হলে যে কোন মাধ্যমে সহজে কাজ করা যায়।

কঙ্কন আশা করেন, থিয়েটারের মাধ্যমে কাজ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি স্বপ্ন দেখেন, এক দিন আবারো মানুষ থিয়েটারে কাজ করবে, দর্শকের সমাগমে আবারো মুখরিত হবে যে কোন মঞ্চায়ন।

add

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “থিয়েটারের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে চান কঙ্কন দাস”

  1. Salim Akter Piyal says:

    Salim Akter পিয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ