শিরোনাম
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের সমন্বয় সভায় ট্রেনে যাত্রী সেবা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ নিংশ্বাসের বন্ধু’র প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে ১৬-১৭ জুন থিয়েটার থেরাপি প্রয়োগ বিষয়ক রিফ্রেশার্স ট্রেনিং চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে সাতটি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা বিজিএমইএর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৬৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

ঢাকা: তৈরি পোশাক শিল্প খাতের উন্নয়নে ‘গো হিউম্যান গো গ্রীন’ উদ্যোগের আওতায় সাতটি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ।

পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করার সাথে সাথে একটি আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এ সাতটি প্রতিশ্রুতির মূল লক্ষ্য।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে অনলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সব প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেন বিজিএমইএ এর সভাপতি ড. রুবানা হক।

এগুলো হলো- শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা, শ্রমিকদের সন্তানদের প্রাক শৈশব শিক্ষা, শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম, ফ্যাশন বিশ্বে রপ্তানি পণ্যে ঐতিহ্য উপস্থাপন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা এবং দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশের প্রতিশ্রুতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রী পরিষদের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এতে শ্রমিকদের শিক্ষার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে রুবানা হক বলেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনদের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছি আমরা। বর্তমানে মোট ৭০ জন নারী কর্মী সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় চট্রগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রোগ্রামের অধীনে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে। এ বছরই প্রথম ব্যাচ হিসেবে তাদের মধ্য থেকে চারজন স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং শিল্পের ভেতরে ও বাইরে কর্মস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। পোশাক শিল্পের ইতিহাসে এটি আমাদের নারী কর্মীদের শিক্ষা ও তাদের মর্যাদা উন্নীতকরনের যাত্রাপথে একটি বিশাল মাইলফলক।’

শ্রমিকদের সন্তানদের প্রাক শৈশব শিক্ষার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনেরা যখন কারখানাতে কর্মরত থাকেন, তখন তাদের শিশু সন্তানেরা পুরো দিনটি কারখানার ডে কেয়ার সেন্টারেই কাটায়। এ শিশুদেরকে অনলাইন শিক্ষা প্রদানের জন্য বিজিএমইএ এবং জাগো ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে একটি পাইলট কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আগামীতে এ কর্মসূচী আরো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হবে।’

শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে রুবানা হক বলেন, ‘বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে প্রথম বারের মতো পোশাক শিল্পখাতে কর্মরত শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থের উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’ এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিজিএমইএ। এ পর্যন্ত ৫০টি কারখানায় মনের বন্ধু সেশন পরিচালনা করেছে।’

আর্থ-সামাজিক এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে রুবানা হক বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পোশাক কারখানাগুলো কি প্রভাব রাখতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য আমরা ইউএনডিপি এবং জিআরআইয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের ৫০টি পোশাক কারখানায় সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টিং স্টাডি’ শীর্ষক একটি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এ প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনে এবং জাতীয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের অবদান নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে।’

ফ্যাশন বিশ্বে রপ্তানি পণ্যে ঐতিহ্য উপস্থাপনে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রপ্তানি করে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বিশ্বে আমাদের নিজস্ব পদচিহ্ন এঁকে দিতে পারি, তবে সেটি হবে আমাদের এ শিল্পের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। বিজিএমইএ দেশি ও বিদেশী ফ্যাশন ডিজাইনারদেকে সাথে নিয়ে এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পও নিয়েছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বাজার আকৃষ্ট করার জন্য জানুয়ারী মাসে একটি ভার্চুয়াল ফ্যাশন শো’ এর আয়োজন হচ্ছে, যেখানে পোশাকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপস্থাপিত হবে।’

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাই-বোনদের করোনা সংক্রমণ পরীক্ষায় বিজিএমইএ গাজীপুরের চন্দ্রায় বিশ্বমানের পিসিআর ল্যাব স্থাপন; কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও এর বিস্তার রোধকল্পে এবং শ্রমিকদেরকে সাধারণ ও মানসিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মায়া এবং কমন হেলথের সাথে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বিশ্ব ফ্যাশন শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলোকে দ্রুত ও সহজ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স কাটিং সফটওয়্যার, থ্রিডি মস্যাম্পলিং ও প্যাটার্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবর্তিত চাহিদার সাথে মিল রেখে আমাদের পোশাক শিল্পখাতও উৎপাদন ব্যবস্থায় মউদ্ভবনী সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। পোশাক শিল্পের প্রতিযোগি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিজিএমইএ কারখানাগুলোর জন্য উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতার বিকাশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ