বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

তুমি খুব বদলে গেছো!

জয়ান্দিতা ভট্টাচার্য্য
  • প্রকাশ : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৫১ Time View

তুমি খুব বদলে গেছো!
তোমার এই বদলে যাওয়াটা হঠাৎ নয়,
ধীরে ধীরে তুমি বদলেছো।

আচ্ছা!
তোমার কি মনে পরে সে দিনগুলো?
নাকি তাও বদলে যাওয়ার সাথে বদলে নিয়েছো নিজের মতো করে?

তুমি সত্যিই বদলে গেছো!
যখন তোমার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি, সেই বকুল গাছের নিচে,
তখন তুমি রেগে আমায় বলতে, রোজ রোজ দেখা করার ন্যাকামিটা আমার সহ্য হচ্ছে না

আর নাইবা করলে।

আচ্ছা,
সত্যিই কি আমি ন্যাকামো করেছিলাম?
না, তোমার জন্য আমার অপেক্ষা করাটা ন্যাকামো ছিলো না।

তোমার একরাশ বিরক্তির কারণ ছিলো তুমি বদলে গেছো।

যে তুমি আমার সাথে কথা না বললে অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়ে বসে থাকতে,
সে তুমি আজ কথা না বলে দিব্যি ভালো আছো। তোমার চোখে আজ আমি বিরক্তির কারণ।
কিন্তু আজো জানি না কোন্ অপরাধের জন্য তোমার এই শাস্তি আমার প্রতি
নাকি আমি তুচ্ছ বলেই নিদারুণ নিষ্ঠুর ক্রুর অবহেলা।

জানো তো! কাউকে সহ্য করতে পারি না তোমার সাথে এই এতটুকু বলা
তোমার আমার প্রতি জমেছে শিশিরের বিন্দুর মতো শীতল বিরক্তি।
তুমি বলতে কাউকে পছন্দ না হলে তাকে ফিরিয়ে দিও না
শুধু সে তোমার পাশে আছে এই উপস্থিতিটা ভুলে যাও।
আমি এতো বিশাল বুঝি না,
বুঝি শুধু আজ আমি তোমার কাছে অবহেলিত।

তোমার এই বদলে যাওয়া আমি চোখের সামনেই দেখেছি।
খুব যত্ন নিয়ে বদলালে কিংশুকে অলক্ষ্য দিয়ে আমার নজরে পড়ে
তাই অগোচরে থাকে নি কোনো কালে।

অবশেষে এলো সেই সময়।
যে দিন তুমি আমায় বললে, মেঘ!!!

তুমি সেই বকুল গাছের ওখানে অপেক্ষা করো আমার জন্য।
জানো তো, কি খুশিটাই না হয়েছিলাম সেদিন আমি।

ভেবেছিলাম, তুমি বদলাও নি।
তাই তো তোমার দেওয়া সেই আকাশি রঙের শাড়ি পরে চোখে হালকা কাজল দিয়ে হালকা লিপস্টিকে নিজেকে সাজিয়েছিলাম।
কপালে টিপটা দিয়েছিলাম বাঁকা করে, যাতে তুমি ঠিক করে দাও।

হি হি হি হি হি হি হি হি হি হি হি …..

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম একরাশ ভালোবাসা নিয়ে।

তুমি এসেছিলে ঠিকি।
এসেই বললে, তুমি আমায় আর ভালোবাসো না। আমি কেন জিজ্ঞেস করায় তুমি বলেছিলে ভালো লাগে না তাই।

তারপর……
তারপর তুমি ফিরেও তাকালে না!
আমার কপালের অই টিপটাও অলক্ষ্যে থেকে গেলো।
আর আমার সেই মুহূর্তের চোখের জলটাও গড়িয়ে পরলো
তোমার অলক্ষ্যে নীরবতা…..

তোমার মেঘমল্লিকা আর তোমায় বিরক্ত করবে না।
খুব চঞ্চল ছিলে তুমি আমার জন্য, ছিলে নদীর স্রোত
কিন্তু আমি এক মুহূর্তের জন্য ভুলে ছিলাম,
তুমি তো তা নও যা আমি ভাবি
তোমার অগোচরে তুমি তো নীরব
আজ থেকে তোমার নাম দিলাম ‘শুধু নীরবতা।’

কবি: জয়ান্দিতা ভট্টাচার্য্য

Share This Post

আরও পড়ুন