ঢাকাশুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকামুখী অভিবাসন রোধ করা না গেলে কোন পরিকল্পনায় কার্যকর হবে না

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
অক্টোবর ১৬, ২০২১ ১০:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা: ঢাকামুখী অভিবাসন রোধ করা না গেলে যত পরিকল্পনায় নেওয়া হোক, তা কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ওয়াটার এইড বাংলাদেশের উদ্যোগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‌‌‘পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) সেক্টরে ৫০ বছরের অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ তাপস আরো বলেন, ‘ঢাকা আজ দুই কোটি দশ লাখ মানুষের শহর। ২০৩০ সালে কি এটা তিন কোটি হবে, ২০৪১ সালে কি পাঁচ কোটি হবে? তাহলে কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদেরকে আগে দুই কোটি দশ লাখ মানুষের সব নাগরিক সুবিধা, উন্নত ঢাকার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য আমাদেরকে দেশের গ্রামগুলোতে চাকুরি, কর্মসংস্থান ও অন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যখন ঢাকার দিকে এ গতি (গ্রাম হতে শহরে অভিবাসন) রোধ করতে পারব, তখনই আমরা ২০৩০ সালে ঢাকার দুই কোটি দশ লাখ মানুষের যথার্থ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারব। কিন্তু আমরা যদি ধরেই নিই যে, ঢাকার দিকে এ অভিবাসনের গতি চলতে থাকবে, তাহলে আমরা যতই পরিকল্পনা করি না কেন, ২০৩০ সালে গিয়ে দেখা যাবে- আমাদের কোন পরিকল্পনায় কার্যকর হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া রূপরেখা আলোকেই কেবল ঢাকামুখী অভিবাসন রোধ করা যাবে উল্লেখ করে শেখ তাপস বলেন, ‘শেখ হাসিনা ‘গ্রাম হবে শহর’- যে পথনকশা আমাদেরকে দিয়েছেন, তা যদি সঠিকভাবে, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে অভিবাসনের এ গতি রোধ করা যাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকাবাসীর জন্য উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যাবে।’

ঢাকা শহরের ৯৫ শতাংশ বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক ও ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বাড়িতে সোক ওয়েল নেই কিন্তু বাড়ির মালিকদের সেগুলো নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে বাধ্য করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এ ইমারত নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণের আবেদন ও অনুমতি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে নিতে হবে বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটা রাজউক দিয়ে থাকে। আমরা একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, মন্ত্রণালয় সেটা পর্যালোচনা করছে। আমি আশাবাদী, ডিসেম্বরের মধ্যে সেটা পেয়ে যাব। পেয়ে গেলে আগামী বছর থেকে সেটা বাস্তবায়ন করব। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই বসত-বাড়ি, আবাসনগুলো নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল স্থাপনা বা নির্মাণ করবে না, আমরা সেগুলোর কোন অনুমতি দেব না। সেটা যত বড় অট্টালিকার ডেভেলপার কোম্পানিই হোক অথবা ছোটখাট ঘরই হোক।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

Facebook Comments Box