বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১২:২৩ অপরাহ্ন

টেকনিক্যাল ইস্যু থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখা উচিৎ

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৫৭ Time View

ঢাকা (১৩ ডিসেম্বর): শিল্প বিশেষজ্ঞ, অ্যাকাডেমিয়া ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে ট্রাস্টইনটেক সামিট ২০২০ আয়োজন করলো হুয়াওয়ে।

এতে উপস্থিত ছিলেন হুয়াওয়ের পর্ষদের নির্বাহী পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্যারিয়ার বিজনেস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট রায়ান ডিং, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী জিম রজার্স, জিএসএমএ এর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা স্টেফানি লিঞ্চ-হাবিবসহ অন্যরা।

এ বছর বিশ্বজুড়ে মানুষ যে সব নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে, সামিটে সে সব বিষয়ের ওপরে আলোকপাত করা হয়। সমাজের কল্যাণে এবং অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে সামিটে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করেন বক্তারা।

এ সামিটে উন্মুক্ত অংশীদারিত্ব এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ভয় দূরীকরণের ব্যাপারেও আলোকপাত করা হয়।

এ বছর বৈশ্বিক মহামারি চলাকালে অফিস ও উৎপাদন শুরু করার ক্ষেত্রে আইসিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও, ২০২০ সালে ফাইভজি বিজনেস অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বৈশ্বিক কনসাল্টেন্সি সংস্থা এসটিএল পার্টনারের তথ্য অনুযায়ী, ফাইভজি ভিত্তিক নানা সমাধানেরর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপি এক দশমিক চার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে।

সামিটে এসটিএল পার্টনারসের কো-ফাউন্ডার ক্রিস বারাক্লো নির্মাণ, জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ফাইভজির রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর জোর দেন।

হুয়াওয়ের এন্টারপ্রাইজ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের এক্সপার্ট এডউইন ডিনডার একমত পোষণ করে বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি চলাকালীন ফাইভজি, এআই, বিগ ডাটা এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ওষুধ স্ক্রিনিং, ডায়াগনোসিস, ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং এবং রিমোট ওয়ার্কিং ও এডুকেশন প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করেছে।’

জিএসএমএ এর সিএমও স্টেফানি লিঞ্চ-হাবিব জানান, ফাইভজি কনজ্যুমার কেন্দ্রিক ইন্ডাস্ট্রি যেমন ই-কমার্সকে প্রভাবিত করবে, পাশাপাশি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি মতো উদ্ভাবনী সেবার উদ্ভাবনে সহায়তা করবে।

ভার্চুয়াল লাইভ স্ট্রিম চলাকালীন হুয়াওয়ে ক্যারিয়ার বিজনেস গ্রুপ সিটিও পল স্ক্যানলান ২০২০ সালকে ‘স্পুটনিক’ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘যেমন করে মানুষ তার তৈরিকৃত স্যাটেলাইট স্পুটনিক ১৯৫৭ সালে কক্ষপথে পাঠায় এবং এর মাধ্যমেই মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধানের যাত্রা শুরু হয়, তেমন করেই ২০২০ সালে ফাইভজি প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে।’

অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিরা বলেন, ‘২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া ইভেন্টগুলো অধিক আইসোলেশন ও জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক। অনেক দেশ তাদেরকে সহযোগিতা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের আলাদা করছে।’

ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টর জিম রজার্স বলেন, ‘কেউ কোন বিষয়ে (বিশেষ করে প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে) একপাক্ষিক কৌশল গ্রহণ করলে, তা সমস্যা তৈরি করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশনীতি উন্মুক্ত রাখাই উচিৎ। বিশেষ করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের অন্য দেশ থেকে আলাদা রাখার ভাবনা পরিহার করতে হবে।’

সামিটে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের প্রফেসর জিন কিইউ বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিকল্পের চেয়ে সমন্বয়, সাহায্য ও সহযোগিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

হুয়াওয়ের পর্ষদের নির্বাহী পরিচালক রায়ান ডিং বলেন, ‘টেকনিক্যাল ইস্যুগুলো থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখাই উচিৎ। প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য আমাদের নিরপেক্ষ ও ইতিবাচক মনোভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির সবার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রযুক্তি সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। এ পরিস্থিতিতে যদি আইসোলেটেড কৌশল গ্রহণ করা হয়, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরই পড়বে না।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Share This Post

আরও পড়ুন