ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

করোনার টিকা জটিলতা ও রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

কাজী কামরুল হাসান শামীম
জুলাই ২, ২০২১ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কাজী কামরুল হাসান শামীম: মহামারী করোনা ভাইরাসে বিপযর্স্ত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। রেমিটেন্স নির্ভর দেশগুলোর মধ্য করোনার করুণ ঢেউয়ে রির্জাভ খুঁইয়েছেন অনেক দেশ। রিজার্ভ নিন্মমুখিতার কারণে রির্জাভ নির্ভর অনেক দেশ ঋণ গ্রহণ করেছে বিভিন্ন দেশ হতে। শর্ত সাপেক্ষে ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় কুটনৈতিক দেন দরবার শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের অর্থ ব্যবস্থার সমতা ধরে রাখার জন্য এবং বিশাল অর্থনৈতিক ধসের মুখামুখি না হওয়ার জন্য। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের গুরুত্ব দিয়ে রেমিটেন্স খাতে নজর দিচ্ছেন রেমিটেন্স নির্ভর দেশসমূহ যাতে রেমিটেন্স প্রবাহ সচল রেখে ঘাটতি মিটিয়ে রিজার্ভের মাত্রা উদ্ধমূখী করতে।

এখন কথা হলে- বিশ্বজুডে করোনার ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে অর্থনৈতিক বিশ্বে নেতৃত্ব দানকারী অনেক দেশ, সেখানে আমাদের দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধারা দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠিয়ে রির্জাভের পাহাড় গড়ে দিয়েছেন দেশকে, রির্জাভের উপর দাডিয়ে দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে দূর-বহুদূর এগিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে যাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তারা হল- রক্তকে ঘামে পরিণত করে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রেরণকারী রেমিটেন্স যোদ্ধারা। দীর্ঘ দিন করোনা তান্ডবের কারণে প্রবাসীরা দেশ মাতৃকা ও পরিবার পরিজনের নিরাপত্তার কথা ও করোনা প্রাদূভাবের ঝুঁকির কথা ভেবে দেশে সফর করেনি। করোনা তান্ডবের সামান্য শীতিলতা অনুভব করার কারণে ইত্যিমধ্য অনেক প্রবাসী দেশে গিয়েছেন মা ও মাটির ভালবাসার টানে। কিন্তু আবারো করোনার করুণ ঢেউ দৃশ্যমান হওয়ায় মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের প্রায় দেশ, যেখানে বাংলাদেশের শ্রম বাজার চালু রয়েছে, সে সব দেশগুলো তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য ও জনস্বার্থে আন্তর্জাতিক রুটগুলো ধীরে ধীরে আবারো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং নিয়েছে। এর মধ্য কিছু কিছু দেশের সাথে পরামর্শ দিয়েছেন, যারা দেশে ছুটিতে আছেন, তারা যেন নিজ দেশ হতে টিকা গ্রহণ করে। কারণ টিকার সার্টিফিকেট ছাড়া প্রবেশের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং করতে যাচ্ছে প্যানডামিক করোনা রোধে। বাংলাদেশের শ্রম বাজার চালু দেশগুলো টিকা গ্রহণ ছাড়া প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বা কঠোরতার নৈতিক ভিত্তি রয়েছে এবং জননিরাপত্তা, জনস্বার্থ ও উভয়ের মঙ্গলের জন্য এ কঠোরতা বা নিষেধাজ্ঞাও সাধুবাদ যোগ্য।

মূল কথা হলে- করোনার কারণে দেশে আটকা পড়া রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কি? আদৌ ভাবছে কিনা? তডিৎ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে রেমিটেন্স খাতকে রক্ষা করার এবং রেমিটেন্স প্রবাহ সচল রাখার সদিচ্ছা বা মনমানসিকতা আছে কিনা? খুব জানতে ইচ্ছে করে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্হান মন্ত্রণালয় ও স্বাস্হ্য মন্ত্রনালয়ের টিকা বিষয়ে সমন্বয় হয়েছে কিনা? জানতে চাওয়া এবং জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরী ও বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কারণ টিকা ইস্যুতে দেশে আটকে থাকা প্রবাসীদের অন্ধকারে রাখা-দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়ার শামিল। রেমিটেন্স খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রবাসীদের ভ্যাকসিন প্রদানে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রতি সবিনয় দাবি জানাচ্ছি।

স্হানীয় সব সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করে নতুবা টিকা সেবা কেন্দ্র চালু করে প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে দ্রুত টিকা দেয়ার দাবি রাখছি। না হলে প্রবাসীরা দেশে আটকে গেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। রির্জাভে ধস নামবে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থমকে যাবে।

মোট কথা, প্রবাসীরা টিকে থাকলে, রেমিটেন্স প্রবাহ সচল থাকলে, দেশ ক্রমবর্ধমান এগিয়ে যাবার পথ মসৃণ থাকবে। অন্যথায়, দেশের অর্থ ব্যবস্থা হুমকির সম্মূখীন হবে। রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রতি অনুরোধ, রেমিটেন্স প্রবাহকে রক্ষা করে দেশকে বাঁচান। কারণ প্রবাসীরা দেশকে মন হতে ভালবাসে। দেশের রিজার্ভ গড়তে প্রবাসীর প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে। সুতরাং প্রবাসীদের টিকা ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্ব সাথে আমলে নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি রাষ্ট্র যন্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি।

লেখক: সংগঠক, কলামিষ্ট, মজলিস-এ-শুরা সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট

Facebook Comments Box