মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন

জামাত ও হেফাজত নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান মন্ত্রী বরাবর আহলে সুন্নাতের স্মারকলিপি

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
  • ১৬০ Time View

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী, জঙ্গিবাদী ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনার দায়ে হেফাজতে ইসলামসহ সব উগ্রবাদী সংগঠনকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ এবং ইসলামী শিক্ষা ধারা একমুখী করার দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

রোববার (২ মে) রাতে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে থেকে পাক-ভারত উপ-মহাদেশে শান্তিপ্রিয় সূফীবাদী পীর-মাশায়েখগণের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াতী কার্যক্রম প্রসারিত হয়। এর প্রেক্ষিতে আমরা মুসলমান হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। ইসলামের সূচনা লগ্ন থেকেই আব্দুল্লাহ বিন সাবা নামের ইয়ামেনী ইয়াহুদি মোনাফেক কর্তৃক ইসলামে বিশৃংখলা সৃষ্টির পায়তারা শুরু হয়। ফলে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) শাহাদাৎ বরণ করেন এবং চতুর্থ খলিফা হযরত আলীর (রা.) খেলাফতকালে শিয়া ও খারেজী নামে ইসলামে প্রথম দু্ইটি ভ্রান্ত দলের উদ্ভব ঘটে। এর আগে দয়াল নবীজি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, ‘‘ইয়াহুদীরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। তার মধ্যে ৭২ দলই হবে বিভ্রান্ত।’’ একমাত্র আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত ইসলামের সঠিক পথে আছে। এ দেশে জামাতী, হেফাজতী, ক্বওমী, আহলে হাদীস (সালাফী) জঙ্গীবাদী গোষ্ঠীগুলো সেই ভ্রান্ত ৭২ দলেরই প্রতিনিধিত্ব করে। দয়াল নবীজী (দ:) আরো ভবিষ্যৎবাণী করে ছিলেন, ‘‘আরবের নজদ বর্তমান রিয়াদ এলাকা থেকে ইসলাম ধর্ম বিনাশী ভূমিকম্প, ধর্মীয় ফিৎনার উদ্ভব ও শয়তানের শিং বের হবে। ওই ভবিষ্যৎবাণীর আলোকে আমরা দেখতে পাই, আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর পূর্বে সেই নজদ (রিয়াদ) এলাকায় ভ্রান্ত ওয়াহাবী আক্বিদার জনক মোহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব নজদীর আত্মপ্রকাশ ঘটে। তার বিভিন্ন লিখনিতে ধর্মীয় উগ্র মতবাদের প্রসার ঘটায়। বর্তমান জামাত, ক্বওমী, হেফাজতী, আহলে হাদীস (সালাফীগণ) ও সব জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী সেই উগ্র মতবাদেরই ধারক বাহক। যা তাদের অতীত বর্তমান কর্মকান্ডে প্রমাণিত। সেই উগ্র-মতবাদ প্রচার প্রসারের লক্ষ্যেই ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্বওমীরা সেই উগ্রপন্থী মাদরাসারই অনুসারী। বিগত প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে পাক-ভারত উপ-মহাদেশে সরলমনা সুন্নী মুসলমানদের নিকট আল্লাহ, রাসুল (দ:), আওলিয়ায়ে কেরাম ও মুসলমানদের বিভিন্ন আকীদা ও আমল নিয়ে তারা বিভ্রান্তিকর লিখনী ও বক্তব্য দিয়ে আসছে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে প্রচন্ড রকম ধর্মীয় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জামাত-হেফাজতীদের উগ্রবাদী কর্মকান্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে শান্তির ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।’

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে, ‘বিগত ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক শাপলা চত্বরের তান্ডব জাতি প্রত্যক্ষ করেছিল। বায়তুল মোকাররমে কোরআন শরীফে অগ্নি সংযোগ, বাসে অগ্নি সংযোগসহ আশেপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকার গাছপালা নিধন, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। যার সাথে ইসলামের দূরতমও কোন সম্পর্ক নাই। ইসলামের দৃষ্টিতে কারো জান-মাল-ইজ্জতে আঘাত করা হারাম। সরকারের সময় উপযোগী সাহসী পদক্ষেপের কারণে দেশ ও জাতি সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা পায়। গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন ও তার পরবর্তী একে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বি-বাড়িয়া ও চট্টগ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে- রাষ্ট্রীয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করে তাও ইসলাম সম্মত নয়। অথচ তারা “হেফাজতে ইসলাম” দাবিদার।২৬ মার্চ পরবর্তী কর্মসূচী তাদের দাবি- হেফাজতের ২০ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়। সেই রক্তের সাথে বেঈমানী করে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টে যায় তাদের নেতা মামুনুল হক, কথিত চুক্তি ভিত্তিক বৌ নিয়ে। মাইন্ড ফ্রেসের নামে জেনা ব্যাভিচারে লিপ্ত হন তিনি। অথচ ‘হেফাজত’ ইসলামী সংগঠন দাবি করলেও তারা এ ব্যাপারে ইসলাম সম্মত কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। উপরন্তু মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধেও হেফাজতে ইসলাম কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাদের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা দাবী করে, ২৬ মার্চ তাদের কোন কর্মসূচী ছিল না এটা সুস্পষ্ট মোনাফিকী চরিত্র। এতেই প্রতীয়মান হয়, তারা ইসলামের হেফাজত নয় বরং ইসলামের নামে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে তাদের ক্ষমতা দখলই ছিল মূল লক্ষ্য। এ ক্বওমী ও জামাতীরাই এক সময় ঘোষণা করেছিল, ‘আমরা হব তালেবান- বাংলা হবে আফগান।’ ইতোমধ্যে জাতির কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে- ‘সব ক্বওমী জঙ্গি নাহলেও কিন্তু সব জঙ্গিই ক্বওমী জামাতি ও সালাফি থেকে সৃষ্ট’। এসব সংগঠনগুলো আজ জঙ্গি প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাই সরকারের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্বওমী মাদরাসার সাথে সংশ্লিষ্টদের জাতিগঠনের মূল ধারায় একিভূত করতে হবে।’

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ‘মানবিক বিয়ে বলতে ইসলামে কোন কিছুর অস্তিত্ব নাই। বরং শরীয়ত সম্মত ‘ইসলামী বিয়ে’ই হলো একমাত্র বিয়ে। এর বাইরে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে মানেই হল জেনা ব্যভিচার তথা হারাম। তথা কথিত ইসলামী নেতা হয়ে এমন অনৈসলামিক কর্ম কান্ডের তীব্র নিন্দা ও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।’

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পীর তরিক্বত আল্লামা অধ্যক্ষ আব্দুল করিম সিরাজনগরী এবং মহাসচিব পীরে তরিক্বত আল্লামা আবুল কাশেম নূরীর নির্দেশে নির্বাহী মহাসচিব আল্লামা আ ন ম মাসউদ হোসাইন আল্ ক্বাদেরীর নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য যথাক্রমে পীরে তরিক্বত আল্লামা সৈয়দ ফকির মুসলিম উদ্দিন আহমদ নুরী আল্ ক্বাদেরী, পীরে ত্বরিক্বত আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আল্ ক্বাদেরী, পীরে ত্বরিক্বত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ মো’তাসিম বিল্লাহ রাব্বানী, যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মুফতি কাজী আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, অধ্যাপক এমএ মোমেন, সাংগঠনিক সচিব মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মতিন, আহলে সুন্নাত আইনজীবী কাউন্সিলে আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ড. শাহ জালাল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সমাজ কল্যাণ সচিব মুহাম্মদ আবদুস সালাম সেলিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নঈমী, আহলে সুন্নাত যুব পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আহ্বায়ক শফিক আল্ মোজাদ্দেদী প্রমূখ।

প্রেস বার্তা

Share This Post

আরও পড়ুন