মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে নগর পিতা রেজাউল করিমের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা

মোস্তফা কামাল যাত্রা
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১
  • ১৪৫ Time View

মোস্তফা কামাল যাত্রা: আজ ২৩ জুলাই বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে ‘১৪তম জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২১।’ ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম কর্তৃক ২৩ জুলাই বাংলাদেশে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হিসাবে উদযাপিত হচ্ছে। সারা দেশে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম তার সদস্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতি বছর দিবসটি পালন করলেও এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাপক আয়োজন না থাকলেও দিবসটি সংক্ষিপ্তভাবে ঘরোয়া আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাভূক্ত জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের সহযোগিতায় জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এ বছর ‘মহামারী করোনা ও মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মনো-যন্ত্র’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটির তাৎপর্য সব মহলে তুলে ধরার জন্য একটি সুদৃশ্য পোস্টার প্রকাশ করেছে। যাতে করোনাকালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির প্রসঙ্গটিতে দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

শারীরিক স্বাস্থ্য সেবা খাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃত। তবে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিসিসির পক্ষ থেকে কোন ধরণের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। যা একটি স্বাস্থ্যবান্ধব নগরের সুনাম থেকে চট্টগ্রাম নগরীকে বঞ্চিত করছে।

যদিও চলমান অতিমারী করোনার কারণে নগরবাসী সাধারণ সময়ের চেয়ে অধিক মাত্রায় মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে জীবনাতিপাত করছে। তথাপিও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে নিযুক্ত সিসিসির দায়িত্বশীল কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ নেই। এতে করে নগরবাসীর মানসিক স্বাস্থ্য সেবা অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টার হেলথ (WFMH) ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, করোনা মোকাবেলায় শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা স্ব স্ব রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও অর্থায়নের ক্ষেত্রে যেন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা যথাযথ গুরুত্ব পায়, সেই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক ওই প্রতিষ্ঠান দুইইটি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আপনি জানেন যে সময়মত মনোবৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য সেবা না পেলে মানসিক সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তি স্থায়ী মানসিক রোগী তথা মনোসামাজিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিতে পরিণত হয়। হয়ে পড়ে জনবোঝা। কেবলমাত্র তাই নয়; মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তির পরিবার সম্মূখিন হয় আর্থিক ক্ষতির। যা প্রকারান্তরে জাতীয় অর্থনীতির উপর সৃষ্টি করে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা। তাই চট্টগ্রাম নগর পিতার কাছে একজন নগন্য নাগরিক হিসাবে আমার প্রত্যাশা হল- সিসিসির স্বাস্থ্য সেবা খাতে থাকা অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে নূন্যতম ব্যয়ে নগরবাসীর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের একটি গঠণমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে আপনার অগ্রণী ভূমিকা।

এ মূহুর্তে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হলেও সৃজনশীল শিল্পকলার মনোবিশ্লেষক প্রক্রিয়া অভিব্যক্তিধর্মী শিল্পযজ্ঞ তথা ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’র লক্ষ জনগোষ্ঠী কেন্দ্রিক অধিবেশন আয়োজন করতে পারে সিসিসি। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য খাতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের জন্য আয়োজন করতে পারে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির প্রয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্ম কৌশল আর্ট থেরাপি, ডান্স থেরাপি, মাইম থেরাপি, থিয়েটার থেরাপি, মিউজিক থেরাপি, পয়েট্রি থেরাপি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। যে প্রশিক্ষণ আয়োজন করে সল্প সময়ে চলমান জনবলের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সহজ হবে। যাতে করে পর্যায়ক্রমে আলোচ্য মনোস্বাস্থ্য সেবাকে ওয়ার্ড পর্যায়ে স্থানান্তর করা যায়। অর্থাৎ এ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নগরীর নাগরিকদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার পথও প্রসস্থ হবে।

শিশু, নারী, কিশোর-কিশোরী, যুব ও বয়স্কদের পাশাপশি প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ব্যক্তিদের জন্য আলাদা আলাদা দলে বিভক্ত করে সিটি কর্পোরেশনের কোন একটি হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথোরপি’র অধিবেশন আয়োজন করে মনোস্বাস্থ্য সেবা দেয়ার করার উদ্যোগ নেওয়া অতি জরুরী। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের (টিআইসি) অবকাঠামোকে ব্যবহার করে দেয়া যেতে পারে থেরাপিউটিক থিয়েটারধর্মী মনোবিশ্লেষক নাট্যক্রিয়ামূলক মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা। যা একটি ব্যতিক্রমী ও সাংস্কৃতিক মনোস্বাস্থ্য সেবা উদ্যোগ হিসেবে সব মহলের কাছে পাবে গ্রহণযোগ্যতা।

শ্রদ্ধাস্পদ নগর পিতা, আপনার সদয় অবগতির জন্য আরো জানাচ্ছি যে, চট্টগ্রাম মহানগরে বিগত দুই যুগ ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে মনোস্বাস্থ্য সেবা ইস্যুতে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির বিভিন্ন অনুসঙ্গের অনুশীলন করছে স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা ইউনাট্ থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন্ (উৎস)।

বিগত এক দশক ধরে উৎস ও মেন্টাল হেলথ এডভোকেসি এসোসিয়েশন (মা) যৌথভাবে মনোস্বাস্থ্য সেবার জন্য সিসিসির সাথে অধিপরামর্শ করছে। কিন্তু মেয়র যায় মেয়র আসে; সেই অধিপরামর্শ আলোর মুখ দেখেনি। যে অধিপরামর্শের মূল লক্ষ্য ছিল- সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত একমাত্র জেনারেল হাসপাতালে একটি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কর্ণার স্থাপন করা। যে কর্ণার ব্যবহার করে উৎসের তত্ত্বাবধানে মনোবিশ্লেষক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু অতি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সাবেক প্রশাসক এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক আগ্রহ ও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিলেও, তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

পরিশেষে, করোনাকালের মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ও তার দীর্ঘ মেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নগরবাসীকে মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয় থেকে মুক্ত করতে উল্লেখিত প্রস্তাবনার আলোকে একটি গঠনমূলক পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য আপনার ইতিবাচক ও কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, মেন্টাল হেলথ এডভোকেসি এসোসিয়েশন।

Share This Post

আরও পড়ুন