রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

জনসংযোগ সমিতি চট্টগ্রামের প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১
  • ১৬৪ Time View

চট্টগ্রাম: গান, কবিতা আর আড্ডা। সূচি থেকে বাদ যায়নি কথামালা কিংবা নৌকো ভ্রমণও। হয়েছে দিনভর হই-হুল্লোড়। আনন্দ ভাগাভাগি। সবার অংশগ্রহণ আর প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে জনসংযোগ সমিতি চট্টগ্রামের প্রীতি সম্মিলন ২০২১ এর অনুষ্ঠান।

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর একটা বেজে ৩০। পাহাড় বেষ্টিত ফয়’স লেকের গেইটের বাইরে আগেই টাঙানো হয়েছিল প্রীতি সম্মিলনের ব্যানার। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন দুজন করে ভিড় জমাতে লাগলেন সবাই সেখানেই।
যান্ত্রিক শহরে একসাথে কাজ করা হলেও কারো সাথে ছিল না কারো পরিচয়। দেখা হওয়া মাত্রই যেন কত দিনের চেনা। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দুপুর দুইটার মধ্যেই সবাই চলে আসলেন অনুষ্ঠানস্থলে।

দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানসূচির প্রথমেই ছিল মধ্যাহ্নভোজ আর পরিচিতি পর্ব। শুরুতেই মাইক্রোফোন হাতে তুলে নেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমদ সাকী। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছোট ছোট বাক্যে তিনি তুলে ধরেন সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

মুঠোফোনে প্রীতি সম্মিলনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন সমিতির সভাপতি কবি ও নাট্যজন অভীক ওসমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দী হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। তথ্য ছাড়া এখন পৃথিবী অচল। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ সময়ে সারা পৃথিবীতে জনসংযোগ অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

জনসংযোগ ছাড়া বর্তমান বিশ্বে কোন কিছু পূর্ণতা পায় না উল্লেখ করে অভীক ওসমান বলেন, ‘পেশাগত কারণে জনসংযোগ পেশাজীবীরাও সমাজে গুরুত্ব পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তাঁরা বিরামহীন পরিশ্রম করে থাকেন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সমিতির উদ্যোগে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন তিনি।

ফয়’স লেকের লেক ভিউ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সম্মিলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি ইউসুফ মুহাম্মদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল হায়দার চৌধুরী।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা কালাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশনা বিভাগের প্রধান কবি খালেদ হামিদী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোকাম্মেল হক খান, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ম্যানেজার (পিআর) জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।

বাইরে তখন দুপুরের রোদ কমে গিয়ে বিকালের মিষ্টি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল কেক কাটা ও পায়রা উড়িয়ে প্রীতি সম্মিলনের উদ্বোধন। বিশাল আকারের কেক কেটে সম্মিলনের উদ্বোধন হতেই মুহুর্মুহু করতালি। এ সময় কেউ কেউ মেতে উঠলেন সেলফিতে। ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখতে চাইলেন দিনটি। কেক কেটেই সংগঠনের সব সদস্য লম্ফঝম্ফ করে উঠে পড়লেন সাম্পানে। কার আগে কে বসবে তা নিয়ে হৈচৈ। একটু পর সবাই গান ধরলেন ওরে নীল দরিয়া কিংবা চল না ঘুরে আসি অজানাতে……।

সন্ধ্যার আলো পুরোপুরি নিভে গিয়ে ফয়’স লেকের পাহাড়ে জোনাকির উড়াউড়ি। বারবিকিউ সন্ধ্যায় আসর জমিয়ে দিলেন চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দীন জুয়েল। গিটার হাতে গেয়ে চললেন ফোক কিংবা লালনের সুর।

চট্টগ্রাম চেম্বারের মোকাম্মেল শোনালেন দারুণ সব জোকস আর মাইজভান্ডারি গান।

অনুষ্ঠানের অতিথি সাংবাদিক রাতুলের কবিতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রীতি সম্মিলন ২০২১ এর আহ্বায়ক খলিলুর রহমান আগামিতে আরো বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Share This Post

আরও পড়ুন