সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

চিম্বুককে করা হোক উপজেলা; গড়ে উঠুক বাংলাদেশের একমাত্র শৈল শহর

লিয়াকত হোসেন খোকন
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৭৯ Time View

বান্দরবান পার্বত্য জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে এই পাহাড়ের উচ্চতা দেড় হাজার ফুট। চিম্বুক পাহাড় থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত যে কোনো পর্যটককে আকৃষ্ট করবে। কিন্তু আজও এই পাহাড়ি জনপদে গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্র। চিম্বুকে রয়েছে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের তত্বাবধানে একটি রেস্টহাউজ, কিন্তু তা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

চিম্বুকের চৌহদ্দির মধ্যে নেই কোনো প্রাইভেট আবাসিক হোটেল মোটেল, যেখানে গিয়ে রাত যাপন করা যেতে পারে। অথচ এই চিম্বুক পাহাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে সুন্দর একটি উপজেলা শহর আর তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের চিম্বুক হতে পারে একটি শৈল শহর।

এই চিম্বুক পাহাড়ে যাওয়ার পথে দেখা যায় আঁকাবাঁকা পথ; দুই পাশের চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্য; সর্পিল সাঙ্গু নদী; ঝর্ণা আরও কত কি। আর চিম্বুক পাহাড়ে মেলে মেঘের স্পর্শ, যা দেখে মনে হবে চিম্বুক যেন এক স্বর্গের দেশ। তাই চিম্বুক পাহাড় ও এর আশপাশ এলাকা নিয়ে একটি শহর গড়ে তোলা জরুরি প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ি শহর গড়ে উঠলে এই জনপদে লাগবে উন্নয়নের ছোঁয়া। আর নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য দলে দলে দেশ বিদেশের পর্যটকরা আসবে চিম্বুকের পথে।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, ১৯৭৭ সালে চব্বিশ বছর বয়সে এই চিম্বুক পাহাড় দেখার জন্য প্রথম গিয়েছিলাম। তখন তো সড়কটড়ক তেমন ছিল না। উপজাতি পত্র বন্ধুর হাতে হাত রেখে এসেছিলাম অনেক স্বপ্নের চিম্বুক পাহাড় দর্শনের জন্য। এরপরে ১৯৮৩ সালে আরেকবার গিয়েছিলাম। আমার ভাইয়ের ছেলে ১৯৯৯ সালে যায় চিম্বুকে। কিন্তু ওখানে রাত যাপনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসে বান্দরবান শহরে।

আর এই ২০২১ সালের শুরুতে করোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আমার বড় ভাইয়ের নাতি মানে আমারও নাতি বেড়িয়ে এলো চিম্বুক পাহাড় থেকে। সে জানালো, দাদু , সত্যি বলতে কী, প্রেমে পড়ে গেলাম চিম্বুক পাহাড়ের রূপে। কিন্তু দুঃখ আমার, চিম্বুক পাহাড় ও এর আশেপাশের এলাকা নিয়ে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো শহর। ওখানে নেই কোনো প্রাইভেট-আবাসিক হোটেল।
কত সুন্দরী চিম্বুক পাহাড়, আহা ওই পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বারে বারে যেতে মন চায় চিম্বুক পাহাড়ে।

আহা, কবে আর কতকাল পরে চিম্বুকে গড়ে উঠবে এক পাহাড়ি শহর! অথচ এই চিম্বুক পাহাড়ে যাওয়া হয়ে গেল আমার তিন প্রজন্মের। ১৯৭০ সালে প্রথম বান্দরবান গিয়েছিলাম। তখন নাম ছিল বান্দরবন। তখন এই অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল খুব কষ্টের ও দুরূহের। পরবর্তী বহুবার গিয়েছি এই পাহাড়ি জনপদে। কত উপজাতি ছেলে-মেয়ে ছিল আমার প্রাণের বন্ধু। বহুবার এই জনপদে ঘুরেছি। সঙ্গে থাকতো কোনো না কোনো উপজাতি ছেলে বন্ধু।

বগা হ্রদ; বুদ্ধ ধাতু জাদি, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র; রাইখিয়াং খাল; রাজবিহার; উজানিপাড়া বিহার; রেমাক্রী; লুং ফের ভা সাইতার; শৈলপ্রপাত; সাকা হাফং; সাত ভাই খুম জলপ্রপাত; সাফাখুম জলপ্রপাত; প্রান্তিক লেক; নীলাচল; চিম্বুক পাহাড়; নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র; আলীর সুড়ঙ্গ; আলীকদম সেনানিবাস; শিলবুনিয়া ঝর্ণা; লাদ মেরাগ ঝর্ণা; রূপমুহুরী ঝর্ণা; রং রং পাহাড়; মারাইতং পাহাড়; পোয়ামুহুরী ঝর্ণা; পালংখিয়াং ঝর্ণা; থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা; তিনাম ঝর্ণা; তামাংঝিরি জলপ্রপাত; ডিম পাহাড়; ডামতুয়া ঝর্ণা; চাইম্প্রা ঝর্ণা; ক্রিসতং পাহাড়; বান্দরবান সরকারি কলেজ; আমিয়াখুম জলপ্রপাত; কিয়াচলং লেক; ঋজুক জলপ্রপাত; কেওক্রাডং পাহাড়; চিংড়ি ঝর্ণা; জাদিপাই ঝর্ণা; দেবতাখুম; তাজিংডং পাহাড়সহ কত কি দেখেছি তা শুধু মনে পড়ে জীবনের শেষ বেলায়।

বান্দরবানের কত জনপদ দেখেছি। যেমন: আলীকদম, চৈক্ষং, নয়াপাড়া, কুরুকপাতা, রেমাক্রী, তিন্দু, থানচি, বলিপাড়া, নাইক্ষংছড়ি, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি, সোনাইছড়ি, রাজবিলা, কুহালং, সুয়ালক, টংকাবতী, রুমা, পাইন্দু, রেমাক্রীপ্রাংসা, গ্যালেংগ্যা, রোয়াংছড়ি, তারাছা, আলেক্ষং, নোয়াপতং, লামা, গজালিয়া, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর, সরই, রূপসী পাড়া, ফাইতং ইত্যাদি।

Share This Post

আরও পড়ুন