মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

চার বছর ধরে পাঁচশ’রও বেশি শিল্প ও সৃজনশীলতা চর্চাকারীর পাশে ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : শনিবার, ২১ মে, ২০২২
  • ২৫ Time View

ঢাকা: চার বছর ধরে বার্মিংহাম, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ৫০০’র বেশি শিল্প ও সৃজনশীলতা চর্চাকারীর (ক্রিয়েটিভ প্র্যাকটিশনার) মাঝে সংযোগ স্থাপন ও সহযোগিতা করে আসছে ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস। এ চার বছরে প্রকল্পটি নতুন শিল্পকমের্র পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, নতুন আন্তঃসমন্বয় তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে, পেশাগত বিকাশকে অনুপ্রাণিত করেছে ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সহায়তা করেছে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভসের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে কালচার সেন্ট্রাল এবং একে সহযোগিতা করছে আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ড ও দ্য ব্রিটিশ কাউন্সিল। এটি দ্য ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বার্মিংহাম-ভিত্তিক দশটি অংশীদারের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে। এ অংশীদাররা হচ্ছে বার্মিংহাম কন্টেম্পোরারি মিউজিক গ্রুপ (বিসিএমজি), বার্মিংহাম মিউজিয়ামস ট্রাস্ট (বিএমটি), বার্মিংহাম রেপার্টরি থিয়েটার, আইকন গ্যালারি, ক্যালাবোরেশন আর্টস, লিগ্যাসি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, মিডল্যান্ডস আর্টস সেন্টার, সাউথ এশিয়ান ডায়াস্পোরা আর্টস আর্কাইভ (এসএডিএএ), সাম্পাদ ও সোনিয়া সাবরি কোম্পানি।

এ ছাড়াও, ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস একটি নতুন ডিজিটাল টাইমলাইন ফিচার নিয়ে এসেছে, যেখানে ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভসের পেছনের গল্প জানার পাশাপাশি অমৃত সিং নির্মিত নতুন শর্ট ফিল্ম দেখার সুযোগ রয়েছে। প্রোগ্রামটি যে সব শিল্পীকে সহায়তা করেছে, তাদের কাজ ও ভাবনাগুলো এ শর্ট ফিল্মে তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভসের প্রজেক্ট ডিরেক্টর সোফিনা জাগোট বলেন, ‘আমরা যদি শর্ট ফিল্ম ও ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভসের টাইমলাইনের দিকে তাকাই, তাহলে ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস কীভাবে নতুন কাজকে সহায়তা করছে, প্রথাগত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করেছে ও বার্মিংহাম, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মাঝে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে, সে সম্পর্কে জানতে পারব। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে অনেক অর্জন এসেছে এবং আমি আশা করি, গত চার বছরে যে সব কাজ হয়েছে ও কানেকশন তৈরি হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভে মানুষ ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভসের ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন। এ কানেকশন, সমর্থন ও কার্যক্রম আগামী বছরগুলোতে এ তিন স্থানের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক আন্তঃবিনিময়ে ভূমিকা রাখবে।’

ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস নতুন শিল্পকর্ম পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি করেছে, যা শিল্পী, কিউরেটর ও বিভিন্ন সংস্থাকে একত্রিত করার মধ্য দিয়ে নতুন ধরনের কাজ ও ভাবনার প্রচার ঘটিয়েছে। শিল্পীদের নতুন শিল্পকমের জন্য সহায়তা করা হয়েছে ও এ ক্ষেত্রে শিল্পীদের ওপর আস্থা রেখে তাদেরকে নিজেদের মত কাজ করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বার্মিংহাম, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিল্পীদের মাঝে সংযোগ তৈরি হয়েছে। বার্মিংহামে বসবাসকারী বা কর্মরত পাকিস্তানি, বাংলাদেশি ও কাশ্মীরিদের প্রেক্ষাপট জানার জন্য বার্মিংহামে কমিউনিটি ফ্যাসিলিটরদের গবেষণা প্রতিবেদনের এক সিরিজের জন্যও পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। এটি দলগত পর্যায়ে সমসাময়িক সংস্কৃতি, শহরের সাথে মানুষের সম্পৃক্ততা ও শহরের সাংস্কৃতিক জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে সহায়তা করেছে।

করোনা ভাইরাস আঘাত হানার পর ডিজিটাল কোলাবোরেটিভ গ্রান্টসের নতুন প্রোগ্রাম ১৭টি নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে, সেই সাথে এ তিনটি স্থানকে সংযুক্ত করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস মেলা ও সিম্পোজিয়াম বার্মিংহাম, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিল্পী ও দর্শকদের তিন দিনব্যাপী এক চমকপ্রদ অনলাইন উৎসবের মাধ্যমে একত্রিত করে। এতে ছিল ১৪টি কমিশন্ড প্রজেক্ট।

অ্যাঙ্গনের প্রযোজক সামিরা সৈয়দ বলেন, ‘আপনি যখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মানুষকে একত্রিত করে তাদের কথা বলার ও শিল্পকর্ম সৃষ্টির সুযোগ করে দেন, তখন রাজনীতি ও দেশের সীমানার ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষের মাঝে নতুন এক বন্ধন তৈরি হয়। আমি মনে করি, এটি আমাদের শিক্ষা ও আমাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

ক্যালাবোরেশন আর্টস’র মুখতার দার বলেন, ‘ট্রান্সফর্মিং ন্যারেটিভস অপার সম্ভাবনাময় কিছু দরজা খুলে দিয়েছে, যা আগে বদ্ধ ছিল।’

Share This Post

আরও পড়ুন