ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চান্দগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী, বিধবার জায়গা দখল ও মিথ্যা মামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের দাবি

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
মে ২৫, ২০২১ ৪:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটির চান্দগাঁও থানার পূর্ব মোহরায় প্রতিবন্ধী ও বিধবার জায়গা দখল, প্রতিবাদকারীদের উপর ও মসজিদে হামলা এবং মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৫ সে) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, স্থানীয় প্রতিবন্ধী মো. ইসমাইল আমার ফুফাতো ভাই হয়। মামলার অভিযুক্ত আসামীরা প্রতিবন্ধী ইসমাইলের সম্পত্তি দখলে নেওয়ার পায়তারা করলে আমার বড় ভাই প্রতিবাদ করেন। আসামীরা আমার পরিবারের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় এবং যে কোনভাবে ক্ষতি করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত থাকে। সে ঘটনার আক্রোশে পবিত্র মাহে রমজানে ঈদের ঠিক দুই আগে আমি এবং আমার পরিবারের প্রতি অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাদের পরিবারের প্রতিবাদের কারণে ভূমি দখল করতে না পারায় প্রতিবন্ধী ইসমাইল ও একজন বিধবার উপর হামলার পরিকল্পনা করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সোলাইমান মহিউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই-তিন জন সন্ত্রাসী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আহত করে। এক পর্যায়ে মহিউদ্দিনের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বাড়ি মারলে তা হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে আমার ডান হাতের কব্জি বরাবর লেগে দুই টুকরা হয়ে যায় এবং সোলাইমানের হাতে থাকা চৌকাঠ দিয়ে আমার মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে আমার মুখে পড়ে আমার দাঁত ভেঙ্গে যায়। আমি গুরুতর রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আমাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ‘ওই সন্ত্রাসীরা একত্রিত হয়ে হাতে লাঠি, দামা, ছুরি, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে আমাদের ঘরে প্রবেশ করে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ঘরের বেড়া, বিদ্যুৎ মিটার, আসবাবপত্র, মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর করে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা। ঘটনার সময় আমার ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ ও আমি ফেইসবুকে লাইভে এসে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে এবং ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোন করলে তারা পালিয়ে যায়। একই দিন তারাবীর নামাজের পর রাত সাাড়ে নয়টার দিকে আমার বাবা মো. মুছাকে স্থানীয় পূর্ব মোহরা জামে মসজিদে ইতেকাফে থাকা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করে আব্দুল্লাহ আল নোমান কিরিচ, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে মারধর শুরু করে এবং কিরিচ দিয়ে আমার বাবাকে কোপ মারলে তা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে বাম কাঁধে লাগে এবং গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয় ও হাঁড় ভেঙ্গে যায়, (যার চমেক হাসপাতালের এক্স-রে ফিল্ম আছে)। আমার বাবার আত্মচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে আমার বাবা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। তখন চান্দগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। আমার বাবা মো. মুছাকেও একই ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এছাড়াও আমার বড় ভাই জালাল উদ্দিনকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ারে চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে আমরা সবাই প্রাইভেট চিকিৎসা নিচ্ছি। ঈদে আদালত বন্ধ থাকায় এবং আমরা শারীরিকভাবে অসুস্থতার কারণে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় মো. সোলাইমান (৪৮), মো. মহিউদ্দিন (২৮), আবদুল্লাহ আল নোমানকে (২৬) আসামী করে বিজ্ঞ চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চট্টগ্রাম বরাবরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার অপরাধীদের বিচার চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. মুছা, প্রতিবন্ধী মো. ইসমাইল, বিধবা রহিমা বেগম, শামীমা আক্তার।

Facebook Comments Box