বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৯:১১ অপরাহ্ন

চসিকে বিদায় ঘন্টা বেজে গেল সুজনের!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রাম: কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ অথবা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। করোনা ভাইরাস কারো কারো জন্য সর্বনাশ হলেও খোরশেদ আলম সুজনের জন্য ছিল পৌষ মাস তথা আশির্বাদ। মেঘ না চেয়েও তিনি পেয়েছিলেন বৃষ্টি।

করোনা সংক্রমণের আশির্বাদে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অস্থায়ী কর্তা তথা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে চসিকে বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে সুজনের।

করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে স্থগিত হওয়া চসিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৭ জানুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) ভোটের এ নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।

পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদে শেষ তিন মাসের মধ্যেই চসিক নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২৯ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে মাত্র আট দিনে আগে ২১ মার্চ চসিক নির্বাচন মৌখিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে ইসি। এতে কপাল খুলে যায় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় তাকে গত ৪ আগস্ট চসিকের প্রশাসক নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

গত ৫ আগস্ট মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীনের তথা নির্বাচিত পঞ্চম পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে ৬ আগস্ট চসিকের প্রশাসকের লোভনীয় পদের দায়িত্ব নেন সুজন। তাকে সময় দেওয়া হয় মাত্র ছয় মাস। অর্থাৎ চসিকে আর মাত্র দেড় মাস সময় পাচ্ছেন তিনি।

প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে গত সোয়া পাঁচ মাসে চসিকের গাড়ির জন্য নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে বেশি দামে তেল ক্রয়, নিজের ব্যক্তিগত সহকারীকে চসিকে নিয়োগ, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে বিনা কারণে ওএসডি করে নিজের আত্মীয় অতিরিক্ত হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া, ক্যারাভান কর্মসূচির নামে দলীয় লোকজন নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাস্তা দখল করে জন ভোগান্তি সৃষ্টি করে ব্যাপক নেতিবাচক প্রশংসা কুড়ান সুজন।

এ দিকে, নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘২৭ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইলেকক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ হবে। যেহেতু আগে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোয়ান জমা, বাছাই, প্রত্যাহারের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, সেই প্রার্থীরাই এ নির্বাচনে অংশ নেবেন।’

স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ৫৫ পদে ২৬৯ প্রার্থী রয়েছেন ভোটে।

তবে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে চট্টগ্রাম সিটির ৩০, ৩৭ ও ৪০ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের জন্য নতুন করে তফসিল দেওয়া হয়েছে।

এ চার ওয়ার্ডের আগ্রহী নতুন প্রার্থীরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ৩১ ডিসেম্বর বাছাই হবে এবং ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

যারা আগে প্রার্থী হয়েছিলেন, তারা বহাল থাকবেন তাদের আর নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে না।

সব প্রক্রিয়া শেষে অন্য সব ওয়ার্ডের সঙ্গেই ২৭ জানুয়ারি ভোট হবে এ চার ওয়ার্ডে।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ