শিরোনাম
মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন দশ উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‌‌‌‌‌এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি: বিদ্যায়তনিক পাঠ ও গণ প্রয়োগ কবিতা: আছি সেই সুদিনের অপেক্ষাতে । শ্রাবন্তী বড়ুয়া করোনার চিকিৎসায় পাহাড়তলীতে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রমজানে রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ সন্দ্বীপবাসীর মাউন্টেন ভ্যালির আইভেক্টোসল ও আইভোমেকের প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু এল রহমতের মাস মাহে রমজান
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

চল, পঞ্চম তলায় উঠি

নুরুন্নবী নুর / ৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১
নুরুন্নবী নুর

কোর্টহিল। নতুন ভবনের চতুর্থ তলা। বন আদালত চট্টগ্রাম। পাশে পঞ্চম তলা উঠার সিঁড়িতে বসে, চতুর্থ তলার মুখ করে ফেসবুকিং করছিলাম। পঞ্চম তলা থেকে নেমে কে যেন হঠাৎ মাথায় আলতো করে ছোঁয়া দিল।

আমি পিছনে ফিরে তাকাই দেখি, একজন আইনের রক্ষক। দেখামাত্র দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি বললেন, ‘না, আমার এক পরিচিত ছোট ভাই মনে করেছিলাম।’ তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন। বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব হবে। মাথার চুল পেকেছে কয়েকটা।বুকের ডানপাশে নামের ফলকটা ঝুলে আছে। কথা বলার সময় হাসিটাও বাবাসূলভ। কেন কোর্টে এসেছি জিজ্ঞেস করলেন। বললাম, বন্ধুর সাথে এসেছি। কি করি জিজ্ঞেস করাতে বললাম, এখন তেমন কিছু করি না, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পড়াশোনা করছি। কৌতূহল ভরে আবারো জিজ্ঞেস করলেন, কোন ডিপার্টমেন্টে? বললাম, নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। বিভাগের নাম বলার পর আমার দিকে একটু ভালো করে দেখে বললেন, দেখেই তো মনে হচ্ছে সুদর্শন ছেলে, স্মার্ট। কথাবার্তাগুলো তো বেশ গোছালো।

উনার কথাগুলো শুনতে বেশ ভালোই লাগছিল।কোথায় থাকি, নাম গ্রাম জানতে চাইলেন। আমিও উৎসাহী হয়ে সব পট পট করে বলে দিলাম। তাঁর এক সন্তানও নাকি চবিতে পড়ে। উনার সন্তান সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি সব ভেঙে বলেন। উনার সাথে কথা বলতে ভালই লাগছে। আমার বাবার বয়সের মানুষ। উনার সাথে খুব সম্মানের জায়গা থেকে কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি হঠাৎ করে বলে উঠলেন, ‘চল, আমরা একটু পঞ্চম তলায় উঠে কথা বলি‘। বললাম, এখানে কথা বলি। কারণ, বন্ধু আমাকে খুঁজতে পারে। কথা বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে পঞ্চম তলার একটু আগে একটা ফাঁকা জায়গা ছিল। সেখানে দাঁড় করালেন।

কথা বলতে বলতে, ছেলে পুত্রকে যেভাবে জড়িয়ে ধরে, ঠিক সেভাবেই জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আমাকে তোমার খুব ভাল লেগেছে, তাই না?’ বললাম, না, একজন আইনের রক্ষক তো অপরিচিতের সাথে প্রথম সাক্ষাতে এভাবে ব্যক্তিগত আলাপ করে না। তাই একটু অবাকই হচ্ছি। তাছাড়া আপনি তো আমার বাবার বয়সী মানুষ, কথা বলতে ভালোই লাগছে। তিনি আবার জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘অবশ্যই, তুমি আমার ছেলের মতই তো!’ কিন্তু তার জড়িয়ে ধরার মধ্যে, আমার কেমন জানি অস্বস্তি লাগছিল। বাবার পরশটা পাচ্ছি না। একটু অসহজ অনুভব হচ্ছে। আশপাশে কিছু মানুষও খুব নোংরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কারণ, জড়িয়ে ধরার মত তেমন কোন কথাও হয়নি। নোংরা বলছি এ জন্য যে, আমার কাছেও পরিবেশটা খুব বাজে লাগছে। কি করব! একজন বাবার বয়সী মানুষ, নাও করতে পারছি না।

এক পর্যায়ে উনার মতিগতি হাবভাব আমার খুব ভাল মনে হচ্ছে না। কথা প্রসঙ্গে বললাম, দেখুন, আমি তো আপনার ছেলের মতই, দোয়া করবেন আর কি! আর আপনাকে চবিতে সব সময় আমন্ত্রণ। আমার সরলমনা কথাগুলোকে উনি কিভাবে নিয়েছেন জানি না। মাঝেমাঝে কথার ফাঁকে আমার একটু কুঁচকানো শার্ট, শার্টের কলার ঠিক করে দিচ্ছেন। বিষয়গুলো আমাকে একটু বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। উনার অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তাগুলো আমার কেমন জানি সন্দেহের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। মনে মনে বলছি, এটা কি হচ্ছে, যাকে বাবার মত একজন মানুষ ভেবে কথা বলছি, আর উনি! ছি!

এক পর্যায়ে আমার আর্জেন্টের কথা বলে আবার আগের জায়গায় এসে বসলাম। সামান্য লেখালেখির অভ্যাস থাকায় ঘটনাটা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বার বার উপরে তাকাচ্ছিলাম। আবার এসে যদি দেখে, আমি এগুলো লিখছি।

লেখা শুরু করতেই হঠাৎ করে দেখি, তিনি চতুর্থ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছেন। একটু অবাক হয়েছি। কখন তিনি নিচে নেমেছেন! অবশ্য নিচে নামার জন্য অন্য সিঁড়ি রয়েছে। উঠার সময় আমার দিকে তাকালেন। রীতিমত চোখাচোখি হয়ে গেল। উপরে উঠা অবস্থায় বলতে লাগলেন, ‘চল, তোমার অসুবিধা না হলে, আমার অফিসে।’ বললাম, দুঃখিত একটু তাড়া আছে।

আবার একটু বলতে হয়। ভেবেছিলাম, ছেলে ভার্সিটিতে পড়ে। হয়তো ছেলের মতো ভেবে একটু কুশল বিনিময় করছে। কিন্তু না, উনার আচরণ, ভাবভঙ্গি, মতিগতি কিছুটা তৃতীয় শ্রেণির লোকের মত মনে হয়েছে। বাংলা সিনেমায় কিছু লম্পট পুলিশ ইনস্পেক্টর থাকে না, কোন মেয়ে মানুষ নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গেলে, সেই মেয়ের উপর লোলুপ দৃষ্টি তাকায়। আমার কাছে তাকে তেমনটিই দুশ্চরিত্রের লোকের মত মনে হয়েছে। বাবাসূলভ যে আচরণ আমি আশা করেছি, শুরুর দিকে একটু সে রকম মনে হলেও শেষের দিকে এসে বেশ অবাকই করে দিয়েছে।

আজকাল কোন সম্পর্কতেই বিশ্বাস নেই! বাবা মেয়ের কাছে নিরাপদ নয়, মেয়ে ভাইয়ের কাছে! এভাবে চলতে থাকলে, এক দিন সম্পর্ক শব্দটারই মৃত্যু ঘটবে! বলছি, দীর্ঘদেহী, সুঠামদেহ ও সার্টিফেকেট দেখে, যদি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। সেক্ষেত্রে তো এমন আচরণ আসবেই। সরকারের উচিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে মানুষটির চারিত্রিক দিকটাও ভালভাবে নজরে আনা, পাশাপাশি নজরেও রাখা।

এত যৌনাকাঙ্ক্ষায় যদি সরকারী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপাপ্ত মানুষগুলো ভোগে, বউ বাচ্চাদের কর্মস্থলে না আনতে পারেন, তাদের জন্য প্রতিটি কর্মস্থলের পাশে একটা আবাসিক হোটেল খুলে দেয়া হোক। অন্তত, আমরা যারা সৃষ্টিকর্তার পরে, যাদেরকে স্থান দিয়েছি, তাদের যেন কোন প্রকার সন্দেহ করতে না হয়, তাঁদের কাছে কোন মা-বোনকে সম্ভ্রম হারাতে না হয়!

কিছু দিন আগে একটা ইন্ডিয়ান ফিল্ম দেখেছিলাম। নামটা ঠিক ভুলে গিয়েছি। সেখানে একজন আইনের রক্ষকের যে দেশপ্রেম এবং ত্যাগ দেখেছি, সত্যিই অসাধারণ। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম বোধহয়। এগুলো কাল্পনিক চরিত্র হলেও আইনের সত্যিকার মানুষের প্রতি আমার একটা শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠেছিল সে সময়। কিন্তু এ ঘটনার পর, সেটা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। খুব ঘৃণা জন্মে গেল। অবশ্য সব আইনের মানুষ এক না। ভাল মানুষ আছে বলে পৃথিবীটা এতো সুন্দর।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ