সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী, একজন শৈল্পিক আদর্শের নাম

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২২৬ Time View

নুরুন্নবী নুর: এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের একজন কাণ্ডারী। তিনি আমাদের কাছে পরিচিত ‘চট্টলবীর’, ‘বীর মহিউদ্দিন’ ও চট্টলপিতা।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে যে কজন রাজনীতি করতে করতে নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মহিউদ্দীন চৌধুরী অন্যতম। চট্টগ্রামের রাজনীতির ইতিহাসে নব্বই দশকের পর যাদের জন্ম, তাদের কাছে মহিউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন, একজন শৈল্পিক আদর্শের নাম, একজন নিঁখুত রাজনীতিবিদ এবং অনুসরণ ও অনুকরণ করবার মতোন চরিত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মহিউদ্দীন চৌধুরীর রাজনীতি করে করে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চিনেছি। তিনি নতুন প্রজন্মদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু চর্চা করিয়েছেন। তিনি আমাদের বলতেন, কাউকে তোয়াজ না করে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে। আমরা তাঁর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনীতি করেছি, করছি।

বর্তমানে, তাঁর সুযোগ্য পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, আমাদের রাজনীতির গুরু। নওফেল ভাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, আরেক ত্যাগী নেতা, রেজাউল হক রুবেলকে। যিনি আমারও একজন প্রিয় নেতা।

বাবার শিখিয়ে দেয়া রাজনীতি, তিনি আমাদের শেখান। আপোসহীন রাজনীতি চর্চা, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের রক্তে প্রবাহিত। আমরা মহিউদ্দীন চৌধুরীর কর্মীরা, সে ধারায় হাঁটছি। কখনও রাজনীতির মাঠকে খালি রাখিনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা, সে যোগ্য দায়িত্ব আমাদের মহিউদ্দীন চৌধুরীপুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলকে দান করেছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘শিক্ষা উপমন্ত্রী” করেছেন। যার জন্য পুরো চট্টলাবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।

চট্টলবীর সম্পর্কে বলতে গেলে, এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি দেশ স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যু অবধি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত কয়েক দফায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নগর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বপ্রকার দায়িত্ব, প্রয়াত মহিউদ্দীন চৌধুরী গুরুত্বের সাথে পালন করেছিলেন। চট্টলাকে করেছেন, উন্নয়নের শহর। তিনি কখনও পিছনে ফিরে তাকাননি, কারণ পুরো চট্টলাবাসী, তাঁর পাশে ছিলেন।

তিনি ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। সেই সময় গ্রেফতার হন পাকিস্তানি সেনাদের হাতে। পরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে উত্তর প্রদেশের তান্ডুয়া সামরিক ক্যাম্পে প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার নিযুক্ত হন মহিউদ্দিন। এরপর শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।

যুবলীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে প্রতিশোধ নিতে মৌলভী সৈয়দের নেতৃত্বে ‘মুজিব বাহিনী’ গঠন করেন মহিউদ্দিন। ওই সময় ‘চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলা’র আসামি করা হলে তিনি পালিয়ে কলকাতায় চলে যান। ১৯৭৮ সালে দেশে ফেরেন বলে আত্মজীবনীমূলক বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।

মহিউদ্দীন চৌধুরীর জন্ম চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রেল কর্মকর্তা হোসেন আহমদ চৌধুরী এবং মা বেদুরা বেগম। ছাত্র অবস্থাতেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ৭৩ বছর বয়সে তিনি ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত ৩:৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে মারা যান।

আজ প্রিয় নেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর শুভ জন্মদিন। তিনি ১ ডিসেম্বর, আমাদের মহান বিজয় দিবসের মাসে, ১৯৪৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেনদ।

জন্মদিনে প্রিয় নেতার প্রতি অশেষ ভালোবাসা রইল। ওপারে ভালো থাকবেন প্রিয় নেতা। দেশকে যা দিয়েছেন, তা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি।

লেখক: প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিদ্যালয়

Share This Post

আরও পড়ুন