ঢাকাসোমবার, ৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রাম সিটির নতুন ‘মহানাগরিক’ রেজাউল করিমের ‘কুণ্ডলী’

মোহাম্মদ আলী
জানুয়ারি ২৮, ২০২১ ১:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রেজাউল করিম এখন চট্টগ্রাম সিটির ‘মহানাগরিক’। আগামী পাঁচ বছরের জন্য চট্টগ্রাম নগরীর নগর পিতা তথা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

পরম বাংলাদেশ.কমের পাঠকদের জন্য তার কুণ্ডলী তথা রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত পরিচিতি তুলে ধরা হল।

পুরো নাম মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, পিতার নাম মরহুম হারুন-অর-রসিদ চৌধুরী ও মাতারর নাাম মরহুমা সামসুন নাহার বেগম এবং
দাদার নাম মরহুম এডভোকেট ছালেহ আহমদ চৌধুরী।

পিতা মরহুম হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী ছিলেন একজন উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ও দাদা ছালেহ আহমদ ছিলেন ইংরেজ শাসিত ভারত এবং পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও চট্টগ্রামে বৃটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত বিলুপ্ত কমরেড ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পাকিস্তান আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরিবারের বড় ভাই অধ্যাপক সুলতানুল আলম চৌধুরী ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও তার পূর্ব পুরুষেরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ২৩টি মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ অসংখ্য জনকল্যানমূলক কাজ করেছেন। যার কারণে এলাকার জনসাধারণ এখনও শ্রদ্ধা ভরে খ্যাতিমান ঐতিহ্যবাহী বহরদার পরিবারের কথা।

রেজাউল করিম ১৯৫৩ সালের ৩১ মে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার অন্তর্গত ছয় নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন জমিদার বংশ বহরদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

সাবেক বৃহত্তর পাঁচলাইশ থানায় তার পরিবারের পূর্ব পুরুষেরা এলাকায় শিক্ষার প্রসারের জন্যে ১৮২০ সালে বহরদার হাটে নিজস্ব জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব ষোলশহর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে পঞ্চম শ্রেণি এবং পরবর্তী চট্টগ্রাম সরকারী মুসলিম হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রী অর্জন করেন এবং তারপর আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্যে ভর্তি হন। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সামরিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধ লড়াইয়ে নেমে ফাইনাল পরিক্ষা দিতে পারেন নি।

তার প্রকাশিত প্রকশনা: সম্পাদক-মাসিক অযুত কন্ঠ (১৯৭২), বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ১৯৭৬ সালে সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে ‘সূর্যপথ’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। পাক্ষিক পত্রিকা ‘বারুদ’ এর সম্পাদক।

প্রকাশিত বই: জামায়াত শিবিরের হিংস্রতা ও ধর্মীয় রাজনীতি (১৯৯৩), কালো টাকা নির্ভর রুগ্ন রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে হবে (২০১৪), ছাত্রলীগ ষাটের দশকে চট্টগ্রাম (২০১৬) এবং স্বদেশের রাজনীতি ও ঘরের শত্র বিভীষন (২০১৯)।

ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্রের জনক রেজাউল করিম। স্ত্রীর নাম সেলিনা আক্তার। মেয়ে তানজিনা শারমিন নিপুণ চবির শিক্ষক। বর্তমানে সরকারী বৃত্তি নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের জন্যে বিদেশে পড়াশোনা করছেন।

দ্বিতীয় কন্যা চবি থেকে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং ছোটো ছেলে ইমরান রেজা চৌধুরী কেমিক্যাল প্রকৌশল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

রেজাউল করিম চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবিতে সর্ব প্রথম সংগঠন চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও চট্টগ্রামের দুঃখ নামে খ্যাত চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৮৩-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বিজয় মেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ১৯৯১-১৯৯২ সাল পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব ছিলেন ২০১১সালে এবং ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন ২০১৪ সালে। সামশুন নাহার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সামশুন নাহার টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। সভাপতি চান্দগাঁও এনএমসি উচ্চ বিদ্যালয় ও পূর্ব ষোলশহর ওয়াছিয়া আহমদিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ। সভাপতি বদর শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

রাজনৈতিক জীবন: রেজাউল করিম ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যেগ দেন, ১৯৬৯-১৯৭০ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ, ১৯৭০-১৯৭১ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ, ১৯৭২-১৯৭৬ সালে সভাপতি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ, ১৯৭০ সালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ কার্য্যকরী কমিটির সদস্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, ১৯৭২-১৯৭৩ সালে দপ্তর সম্পাদক চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ, ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, ১৯৭৬-১৯৭৮ সালে সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, ১৯৭৮-১৯৭৯ সালে আহ্বায়ক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্য্যকরী কমিটির সদস্য, ১৯৯২ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্য্যকরী কমিটির সদস্য, ১৯৯৭-২০০৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৬-২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৪ সালে থেকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

Facebook Comments Box