বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩টি ১০ টনের মোবাইল ক্রেন ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আভাস

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৩৪ Time View

চট্টগ্রাম: ২০১৪ সালে ১০ টন ক্ষমতার ১০টি মোবাইল ক্রেন কিনেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। সে বার ক্রেন সরবরাহের কাজ পেয়েছিল জার্মানির সেনেবুগান কোম্পানি। কিন্তুু ১০টি ক্রেন বন্দরে সুনামের সাথে চালু থাকা অবস্থায় অদৃশ্য কারণে এ বার বিশ্বের নাম করা জার্মানির সেনেবুগান ও জাপানের কাটু কোম্পানিকে বাদ দিতে চাই কুচক্রী মহল। তাতেই ক্রেন ক্রয়ে দুর্নীতির আবাস পওয়া যাচ্ছে। কারো নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাই কুচক্রী মহল। দরপত্রে চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। দরপত্রের শর্তমতে, সর্বনিম্ন দরদাতা মোবাইল ক্রেনগুলো সরবরাহের কাজ পাবে।

পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতীক্ষিত ১০ টনের মোবাইল ক্রেন। ৬০ কোটি টাকার ২৩টি ১০ টন ক্ষমতার মোবাইল ক্রেন কেনার দরপত্রে ইতিমধ্যে চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে এ ক্রেনগুলো কেনা হচ্ছে।

এসব ক্রেন বন্দরে যুক্ত হলে পণ্য ওঠা-নামানোর পরিচালন খরচ বেশ কমে আসবে। কারণ, সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পরিমাণে ও ওজনে কম পণ্য ওঠানো-নামানো হচ্ছে ২০ টন, ৩০ টন ও ৫০ টনের মোবাইল ক্রেন দিয়ে। এতে খরচ বেশি পড়ে।

২৩টি ১০ টনি মোবাইল ক্রেন বন্দরে যুক্ত হলে সাত বছরের প্রতীক্ষার অবসান হবে। এর আগে ২০১৪ সালে ১০ টন ক্ষমতার ১০টি মোবাইল ক্রেন কিনেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বেড়ে যাওয়া এ ১০টি ক্রেন অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে।

‘চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ’ প্রকল্পের আওতায় এসব ক্রেন কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চবক।

ফ্রান্সের মেনিটক ক্রেন গ্রুপ ফ্রেন্স এসএএস। তাদের দেশীয় এজেন্ট হলো ঢাকার এসেনশিয়াল ট্রেড লাইনস লিমিটেড এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো ইউএসএর মেনিটক; সিঙ্গাপুরের ইকমট্রেড হোল্ডিং (প্রা.) লিমিটেড, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের কাটু ওয়ার্কস কোম্পানি লিমিটেড ও জাপানের তাদানো লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নিজেই ক্রেন উৎপাদন করে; জার্মানির সেনেবুগান ফেব্রিকস। তারা নিজেরাই ক্রেন তৈরি করে। তাদের লোকাল এজেন্ট হলো ঢাকার বাংলামার্ক কর্পোরেশন। দরদাতা চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জার্মানির সেনেবুগান কোম্পানি ও তাদানো, কাটু জাপানের এবং মেনিটক ক্রেন গ্রুপ ফ্রেন্স এসএএস সরবরাহ করে থাকে।

দরপত্রের শর্তমত সর্বনিম্ন দরদাতা মোবাইল ক্রেনগুলো সরবরাহের কাজ পাবে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যুর প্রায় এক বছর পর ক্রেনগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

‘চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ’ প্রকল্পের মাধ্যমে আটটি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ মোট ১০৪টি যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এগুলো বন্দরে যুক্ত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো/কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্টের পর্যাপ্ততা ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে। এনসিটিতে গ্যান্ট্রি ক্রেনের চাহিদা পূরণ হবে শতভাগ। জাহাজের ওয়েটিং টাইম ৬০ ঘণ্টা থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে এবং তৈরি পোশাক খাতে পোর্ট লিড টাইম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রেস রিলিজ

Share This Post

আরও পড়ুন