বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরের দাবি: রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ১৪৬ Time View

চট্টগ্রাম: পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ও জাহাজের কোন ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। চবকের দাবি, রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানী-রপ্তানি পণ্য পরিবহন, ডেলিভারি ও জাহাজীকরণ জটিলতা সৃষ্টি সংক্রান্ত খবর গণ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়ে এ দাবি করেছে (চবক)।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) গণ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে চবক বলছে, ‘সম্প্রতি করোনা মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশে লকডাউনের জন্য সিঙ্গাপুর ও কলম্বোসহ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজের এবং পণ্যের জট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে লকডাউনের ফলে শ্রমিক সংকট, আমদানী-রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা, বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে কনজেশনজনিত কারণে বিশ্বের সব প্রান্তেই পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বৃহৎ বন্দরগুলো যথা- সিঙ্গাপুর, কলম্বো, চায়নার বিভিন্ন বন্দরে কনজেশনের কারণে ওই সব বন্দরের জেটিতে জাহাজ ভিড়তে আট থেকে দশ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ, ভারত, কম্বোডিয়ার মত ছোট বন্দর হতে ট্রান্সশিপমেন্ট হাব-পোর্টের মাধ্যমে মাদার ভেসেলের রপ্তানিযোগ্য কনটেইনারের কানেকশন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর হতে কনটেইনার সিঙ্গাপুর, কলম্বো বন্দরে পৌঁছানোর পর মাদার ভেসেলের কানেকশন পেতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগছে। কিন্তু চটগ্রাম বন্দরে করোনাকালীনও আমদানী রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়েছে এবং চটগ্রাম বন্দর সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। ফলে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কনটেইনার তিন দশমিক শুন্য নয় শতাংশ এবং জাহাজ সাত দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর এবং অফডকগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউজের বেশি খালি কনটেইনার সংরক্ষিত আছে। তার মধ্যে অফডকগুলোতে ১৩ হাজার ৬৪৭টি (২০ ফিট) এবং ১২ হাজার ৬৮৯টি (৪০ ফিট) কনটেইনার এবং চট্টগ্রাম বন্দরে দুই হাজার ৪৩১টি (২০ ফিট) এবং এক হাজার ৪৭৭টি (৪০ ফিট) কনটেইনার রয়েছে। তাই বন্দরে খালি কনটেইনারের কোন সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বাংলাদেশে বিভিন্ন এমএলও গণের যে খালি কনটেইনার রয়েছে, তা পরস্পরের মধ্যে ডিরেক্ট ইন্টারচেঞ্জের (ডিআই) মাধ্যমে সমন্বয় করে ব্যবহার করলে ক্রম বর্ধমান রপ্তানি চাহিদা খুব সহজেই পূরণ করা সম্ভব।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর হতে আমদানী-রপ্তানি পণ্য নিয়ে ১০-১২টি জাহাজ বন্দরে আগমন ও নির্গমন করছে। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে দেখা যায়, প্রতিটি জাহাজেই তাদের প্রকৃত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ২৫-৩০ শতাংশ স্লট খালি নিয়ে যাওয়া আসা করছে। এতে প্রমাণিত হয়, পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের কোন ঘাটতি নেই। বর্হিনোঙ্গরে সম্প্রতি কনটেইনার জাহাজের অবস্থানকাল দুই-তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিভিন্ন এমএলও এবং ফিডার অপারেটরদের মধ্যে কমন ক্যারিয়ার এগ্রিমেন্ট ও কনটেইনার ডিরেক্ট ইন্টারচেঞ্জের (ডিআই) প্রথা চালু না থাকায় বা দুয়েকটি এমএলও এবং ফিডার অপারেটরের মধ্যে এগ্রিমেন্ট থাকলেও তার ফলপ্রসু প্রয়োগ না থাকায়, রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একে অপরের কনটেইনার ব্যবহার করতে পারলে এবং একে অপরের জাহাজের অব্যবহৃত স্লট ব্যবহার করলে আমদানী-রপ্তাণি পণ্য পরিবহন আরো বেশি সহজ হবে।

Share This Post

আরও পড়ুন