সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি: ওকালতনামা ৩০০ টাকা ও বন্ড স্টিকার ১০০ টাকা নির্ধারণ অযৌক্তিক

মো. জসিম উদ্দিন
  • প্রকাশ : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩০৭ Time View

বাংলাদেশের সব আদালত পাড়ায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও টাউটের বিস্তার। সেই মুহূর্তে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ওকালতনামা ৩০০ টাকা ও বন্ড স্টিকার ১০০ টাকা নির্ধারণ করেন। যা অযৌক্তিক, স্ববিরোধী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এক ধাপে ওকালতনামা শতভাগ বৃদ্ধির অতীত কোনো রেকর্ড নাই।

এই প্রথম বার কর্তা ব্যক্তিরা কাদের স্বার্থে মূল্য বৃদ্ধি করলো, তা আমরা সাধারণ আইনজীবীরা জানতে চাই। যেখানে বাংলাদেশে ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট অহরহ জাল হয়, সেখানে ওকালতনামা ও বন্ড স্টিকারের মূল্য এতো বৃদ্ধি করলে নিঃসন্দেহে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নকল ওকালতনামা ও বন্ড স্টিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। কারণ আমরা বাঙালি আর কিছু পারি আর না পারি, নকল ও জাল করার বিশ্ব রেকর্ড আছে।

বারের কর্মকর্তাদের প্রতি সব আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জোর অনুরোধ জানাই, আপনারা দয়া করে ওকালতনামা ও বন্ড স্টিকার বৃদ্ধি না করে, পূর্বের দামে রাখেন। অন্যথায়, এটা বার এবং আইনজীবিদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।

আদালত পাড়ায় জিআরও পুলিশ, সেরাস্তা, পেশকার, কোর্ট স্টাফদের দাপট ও কথাবার্তায় আইন পেশা চরম বিপর্যয়ের মুখে। তারা আইনজীবীদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও বেয়াদবি করে, যা ২০-২১ বছর আইন পেশায় আমি দেখি নি।

‘বন্ড স্টিকার কিনলে বেইল বন্ড দেওয়ার সময় সিকিউরিটি টেস্টের টাকা দিতে হবে না’- এমন বক্তব্য প্রদানকারী পূর্বের বারের কর্মকর্তাদের এই ধরনের বক্তব্য এখন কোথায় গেলো?

এখন বন্ড স্টিকারও লাগাতে হয় এবং সিকিউরিটি টেস্টের টাকাও দ্বিগুন দিতে হয়। একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিকের (আইনজীবী) সিকিউরিটি টেস্ট করছে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা বা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, যা আইন পেশায় লজ্জার ব্যাপার।

বর্তমানে আদালতে বেইল বন্ড, নথি দেখা, হাজিরা, ফাইলিং, রি-কলসহ সব কাজে আইনজীবীরা হয়রানি ও বিডম্বনার শিকার হচ্ছে।

কিছু দিন পূর্বে চেকের মামলায় (ছয় লাখ) টাকা উত্তোলনের জন্য মহানগর হিসাব রক্ষক শাখায় আমার থেকে আট হাজার টাকা দাবি করেন। আমি তাকে বলি, হিসাব রক্ষক শাখা পর্যন্ত আসতে প্রতিটা জায়গায় আমি টাকা দিয়েছি। তাহলে আমি আইনজীবী হয়ে আঙুল চুষবো?

গত ২৫ নভেম্বর একটি মামলায় তিনজন আসামীর জামিনের বেইল বন্ড দিতে পেশকার, পিয়ন ও সিকিউরিটি সব জায়গায় অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পর আমি নিজের হাতে রি-কল লিখে শুধুমাত্র স্বাক্ষর ও সিলের জন্য গেলে মহানগর সেরাস্তার দাড়িওয়ালা ভদ্রলোক আমার থেকে ৪৫০ টাকা দাবি করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলেরসে আমাকে রি-কলের বিষয়ে আইন শেখায় এবং খারাপ আচরণ করে। সে বলে, ‘আমরা এত টাকা নিই, তা জর্জ সাহেবরা জানে। আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।’

এভাবে প্রতিটি জায়গায় পুলিশ, কোর্ট সেরাস্তা, পেশকার ও কর্মচারীদের অনৈতিক দাবির মুখে প্রতিনিয়ত আইনজীবীরা লাঞ্চিত হয়। একজন আইনজীবীর সাথে আদালতে তাদের সাথে প্রতিনিয়ত কথা কাটাকাটি হলে, তখন কিছু কিছু আইনজীবী তাদের হয়ে দালালি করে। ডবলমুরিং পুলিশ সেরাস্তায় প্রতিনিয়ত আইনজীবীদের নথি দেখতে চাইলে সেখানকার পুলিশ সেপাই আইনজীবীদের সাথে খারাপ আচরণ করে।

আইনজীবী নেতারা বারের নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করে না। আদালত পাড়ার দুর্নীতি, অনিয়ম, টাউট, বাটপার ও দালালদের প্রতিহত করতে সব আইনজীবীকে
ঐক্যবদ্ধভাবের সোচ্চার হওয়া উচিত।

লেখক: এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এন্ড জর্জ কোর্ট, চট্টগ্রাম।

Share This Post

আরও পড়ুন