সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে পৌঁছেছে আমেরিকা ও চীনের তৈরি মর্ডানা ও সিনোফর্মের এক লাখ ৮৪ হাজার করোনা টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ৪২০ Time View

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে চতুর্থ বারের মত এসে পৌঁছেছে আমেরিকার তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিষেধক মর্ডানা এমআরএনএ এবং চীনের তৈরি সিনোফার্মের এক লাখ ৮৪ হাজার ডোজ কোভিড-১৯ টিকা। এর মর্ডানার ২২ কার্টুন ও সিনোফার্মের ৯৮ কার্টুন ভ্যাকসিন রয়েছে।

মর্ডানার প্রতি কার্টুনে ৪০০ ভায়াল ও প্রতি ভায়ালে ১০ ডোজ করে মোট এক লাখ ৫ হাজার ৬০০ ডোজ এবং সিনোফার্মের প্রতি কার্টুনে ৪০০ ভায়াল ও প্রতি ভায়ালে দুই ডোজ করে মোট ৭৮ হাজার ৪০০ ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই মঙ্গলবার থেকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মর্ডানার ভ্যাকসিন মহানগরীর নয়টি কেন্দ্রে ও সিনোফার্মের ভ্যাকসিন উপজেলা পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশনকারীদের মাঝে প্রয়োগ করা হবে। যাদের বয়স ৩৫ বছর থেকে অধিক তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ভ্যাকসিন গ্রহন করতে পারবে।

রোববার (১১ জুলাই) সকাল সাতটায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ফ্রিজার ভ্যানে করে আসা মর্ডনা ও সিনোফার্ম মিলে মোট ১২০ কার্টন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার সেখ ফজলে রাব্বি। এরপর ভ্যাকসিনগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে ওয়াক-ইন-কুলারে (ডব্লিউআইসি) দুই থেকে আট ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।

এ সময় ভ্যাকসিন গ্রহণ কমিটি সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক সালমা ছিদ্দিকা, জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. হামিদ আলী ও কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান মো. জাফর উল্লাহ। ভ্যাকসিন তদারকিতে ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া, জেলা ইপিআই টেকনোলজিস্ট কাজল কান্তি পাল, বেক্সিমকো ফার্মার ইনস্টিটিউশন অফিসার মোহাম্মদ ওয়াহিদ ও সিনিয়র স্টোর ম্যানেজার মোহাম্মদ মহসীন।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে চট্টগ্রামে প্রথম বারের মত আমেরিকার তৈরি মর্ডানার এক লাখ পাঁচ হাজার ৬০০ ডোজ ও দ্বিতীয় বারের মত চীনের তৈরি সিনোফার্মের ৭৮ হাজার ৪০০ ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আমরা পেয়েছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দফায় পাওয়া সিনোফার্মের ৯১ হাজার ২০০ ডোজ ভ্যাকসিন থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশনকারীদের মধ্যে যারা এখনো সিনোফর্মের প্রথম ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহন করতে পারেনি তাদেরক সোমবারের (১২ জুলাই) মধ্যে ভ্যাকসিন দিয়ে প্রথম ডোজের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য টিকা সংরক্ষণ করা হবে। তবে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সিনোফার্মের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলবে এবং নতুন করে পাওয়া সিনোফার্মের ৭৮ হাজার ৪০০ ডোজ ভ্যাকসিন কমিটির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে বন্টন করা হবে। যাদের বয়স ৩৫ বছর থেকে অধিক তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ভ্যাকসিন গ্রহন করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় মর্ডানার ভ্যাকসিন পেতে মোট নয়টি কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে-চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন জেনারেল হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), মোস্তফা হাকিম ম্যাটারনিটি হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতাল, সাফা-মোতালেব ম্যাটারনিটি হাসপাতাল, বন্দরটিলা ম্যাটারনিটি হাসপাতাল, বিএনএস পতেঙ্গা ও চট্টগ্রাম বিএএফ জহুর মেডিকেল স্কোয়াডন। আশা করা যাচ্ছে, মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) থেকে মর্ডানার ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই শাখায় প্রাপ্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন খুব সাবধানতার সাথে ওয়াক-ইন-কুলারে (ডব্লিউআইসি) সংরক্ষণ করা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারী প্রথম দফায় অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি চার লাখ ৫৬ হাজার ডোজ, ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরো তিন লাখ ছয় হাজার ডোজ এবং ১৮ জুন সিনোফার্মের তৈরী ৯১ হাজার ২০০ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন চট্টগ্রামে আসে। ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে চট্টগ্রামে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

Share This Post

আরও পড়ুন