রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের সঙ্গীতাঙ্গনে উজ্জ্বল মুখ শহীদ ফারুকী ও শারমিন হোসেন

আবছার উদ্দিন অলি
  • প্রকাশ : বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ১৩৫ Time View

আবছার উদ্দিন অলি: সঙ্গীতে আলোকিত মুখ শহীদ ফারুকী ও শারমিন হোসেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সঙ্গীতাঙ্গনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তারা। তাদের বেশ কিছু গান ইতিমধ্যে শ্রোতাদের হৃদয়ে সাড়া জাগিয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন মঞ্চে তাদের মনোমুগ্ধকর দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশনা সঙ্গীতাঙ্গনে সৃষ্টি করেছে নতুন আবহ।

শিল্পী শহীদ ফারুকীর জন্য ‘গীতির সাথে সুরের সাথে নিত্য তার ঘর, শুদ্ধধারার সংস্কৃতিতে ঋদ্ধ তার অন্তর।’ এ কবিতা যথার্থ। সংগীতকে হৃদয়ে মননে ধারণ করে তার দীর্ঘ পথ পরিক্রমার প্রতি বাঁকে মুগ্ধতার আবেশ ছড়ানো। দ্রুত জনপ্রিয়তার মোহাবিষ্ট গায়ক হবার চেয়েও ব্যতিক্রমী শিল্পীসত্তার ধারণ, লালন ও পরিচর্যায় শহীদ ফারুকী বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতিকে জীবনাচরনে বিকাশের প্রতি অনুরক্ত, সমৃদ্ধ, সামাজিক-রাজনৈতিক আবহে পুষ্ট এক সম্ভ্রান্ত পারিবারিক পরিমন্ডলে শিল্পীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ১৯৭৫ সালে ১৫ জুন চট্টগ্রামের পটিয়ার কচুয়াই গ্রামে ফারুকী পাড়ায় ফারুকী বংশে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ এ তরুণ শিল্পী গান নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ প্রজন্মের উদীয়মান শিল্পীদের মাঝে একজন তিনি। অ্যালবাম, টেলিভিশন, রেডিও, মঞ্চসহ সংগীতাঙ্গনের প্রায় ক্ষেত্রেই সরব তিনি। পিতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, লেখক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম মিয়া ফারুকী ও মাতা মরহুম রোকেয়া বেগম। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই শোয়েব ফারুকী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার। শহীদ ফারুকী পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, পটিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং স্মাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি নিকটস্থ সংগীত বিদ্যাপীঠ নিবেদনে ভর্তি হন। ছোট বেলা থেকে বেতার টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে আসছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত গান পরিবেশন করছেন। তিনি ২০০৩ সালের ০১ মে কক্সবাজার মহেশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল হকের মেয়ে দিলরুবা নাসরিন মুন্নির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

অন্য দিকে, বেতার, টেলিভিশন ও মঞ্চ তিন মাধ্যমে সমান জনপ্রিয় শারমিন হোসাইন। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আধুনিক ফোক গানে তালিকাভুক্ত হয়েছেন প্রজন্মের উদীয়মান সংগীত শিল্পী শারমিন হোসাইন শর্মিলা। সংগীতকে ভালোবেসে নিষ্ঠার সাথে মননে ও চর্চায় ধারণ করে গানে গানে এক দশক পার করেছেন শিল্পী শারমিন হোসাইন শর্মিলা।

সংগীতের সৌন্দর্যকে এভাবে বোধ ও কর্মে নিতে হলে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে নিতে হয়। বলা বাহুল্য এমন ত্যাগ স্বীকার করে সংগীতের প্রতি অসীম দরদ ধরে রাখার কাজটি করে চলেছেন এমন শিল্পীর সংখ্যা খুব বেশী নয়। আপাতঃ জনপ্রিয়তার পিছনে না ছুটে মানসম্পন্ন পরিবেশনার বিষয়টি অনেকে উপেক্ষা করেন। শিল্পী শারমিন হোসাইন শর্মিলা এ দিক থেকে ব্যতিক্রম। পুরো নাম শারমিন হোসাইন শর্মিলা। পিতা মোবারক হোসেন চৌধুরী, মাতা আমেনা বেগম, স্বামী এসএম ইমাম হোসাইন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী চট্টগ্রামে তার সংগীত শিক্ষার শুরু। পরে সপ্তক সংগীত একাডেমিতে বিশিষ্ট সংগীত শিক্ষক শ্রদ্ধেয় আবদুল হালিম স্যারের কাছে শিখেছেন।

শারমিন জানান, এখনো শিখছি, জীবনভর শিখবো। সংগীত হল গুরু ও চর্চামুখী বিদ্যা। এখানে শেখার শেষ নেই। এখন তালিম নিচ্ছি বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সুরকার শ্রদ্ধেয় সৈয়দুল হকের কাছে। ছোটবেলায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন আমার বাবা। এখন তো আর বাবা নেই। এখন সার্বক্ষণিক প্রেরণা পাচ্ছি আমার স্বামীর কাছ থেকে। ওর সার্পোট না থাকলে সংগীতে আমার এগিয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হত। আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আর অগ্রজ প্রতীম অনেকে আছেন যারা আমাকে নিয়ত নানাভাবে উৎসাহিত করছেন।

জনপ্রিয় এ দুই শিল্পীর জন্য রইল শুভ কামনা। আমরা আশা করি, আগামীতেও তাদের প্রাণবন্ত সঙ্গীত পরিবেশনা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে উত্তরণের পথ পরিক্রমায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Share This Post

আরও পড়ুন