ঢাকাশনিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রামের নাট্যজন ম সাইফুল আলম চৌধুরীর ৬২তম জন্মদিন আজ

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
এপ্রিল ২৯, ২০২১ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: নাটকের মানুষ নাট্যজন ম সাইফুল আলম চৌধুরীর ৬২তম জন্মদিন আজ। চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ গনায়ণ নাট্য সম্প্রদায়ের দল প্রধান ম সাইফুল আলম চৌধুরী, যিনি একাধারে একজন অভিনেতা, নির্দেশক, নাট্যকার, অনুবাদক, নাট্য সংগঠক এবং শিক্ষক। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথিতযশা নাট্য সংগঠন গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়েরর সাথে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই জড়িত। বিগত চার দশক ধরে তিনি গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়ের দল প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন৷

সাইফুল আলম চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার উত্তর গবীন্দারখীল গ্রামের হাদু চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার মাতা রওশন আরা বেগম এবং পিতা আবদুল মালেক চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিন দশকের অধিক সময় ধরে পটিয়াস্থ হুলাইন ছালে নূর ডিগ্রী কলেজে অধ্যাপনা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চবির নাট্যকলা বিভাগে অতিথি শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন৷

সাইফুল আলম চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য রুপান্তরিত নাটকগুলো হচ্ছে- মিশরীয় নাট্যকার তাওফিক আল হাকীমের নাটকের বাংলারুপ ‘শেষ সংলাপ’, জার্মান নাট্যকার জুলিয়াস হের নাটকের রুপান্তর ‘ঘোড়া এলো শহরে’, ইতালীয় নাট্যকার ইয়োগো বেটির নাটক অবলম্বনে ‘অতিকায় অজগর’, রাশিয়ান নাট্যকার আন্তন চেখভের নাটক অবলম্বনে ‘বিষের বালি’, ‘আমাদের বাগান’, জার্মান নাট্যকার ফ্রিৎজ করিন্থির নাটক অবলম্বনে ‘অদ্ভুত অন্ধকার’, আমেরিকান নাট্যকার আর্থার মিলারের নাটক অবলম্বনে ‘এই ঘর এই বসতি’, রোমানিয়ান নাট্যকার ইউজিন আয়েনেস্কোর নাটক অবলম্বনে ‘তিনি আসছেন’, ‘আবার আসিব ফিরে’, নরওয়েজীয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের নাটক অবলম্বনে ‘কাকস্য পরিবেদনা’, ‘সমুদ্র কন্যা’, ইংরেজ নাট্যকার বেন জনসনের নাটক অবলম্বনে ‘ভন্ডের পদাবলি’ ও স্পেনিশ নাট্যকার ফেদেরিকো গার্সিয়ারর নাটক অবলম্বনে ‘ইরমা’।

সাইফুল আলম চৌধুরীর অনুবাদকৃত নাটকগুলো হচ্ছে গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘আন্তিগোণে’, উইলিয়াম শেক্সপীয়ারের ‘জুলিয়াস সিজার’।

তার মৌলিক নাটকগুলো হচ্ছে ‘অসমাপ্ত’ ও ‘একাত্তর আমার একাত্তর।’

তার রচিত চিত্রনাট্য হচ্ছে ‘মুক্তি মুক্তি’।

বিদেশী নাটককে দেশীয় পটভূমিতে এনে ঝরঝরে রুপান্তরের মাধ্যমে বাংলা মৌলিক নাটকের স্বাদ দিতে তিনি বরাবরই সচেষ্ট। তিনি প্রায় ত্রিশটি নাটকের সফল নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে- মহামানব, সাজানো বাগান, রাস্তার ছেলে, ডাকাত, রাত ফেরার, এবার ধরা দাও, ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল, একটি অবাস্তব গল্প, অবশেষে জেনারেল, বিষের বালি, অতিকায় অজগর, শত্রু শত্রু, সংবাদ কার্টুন, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, এবারের সংগ্রাম, যায় দিন ফাগুনো দিন ইত্যাদি।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে- রাস্তার ছেলে, ডাকাত, ঘোড়া এলো শহরে, সুবচন নিবার্সনে, গফুর-আমিনা সংবাদ, রাত ফেরার, ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল, একটি অবাস্তব গল্প, এই ঘর এই বসতি, রাজনীতির কবি ইত্যাদি।

নব্বই সালের শেষের দিকে তিনি ‘চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার সমম্বয় পরিষদ’র সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এবং ২০০৬ সালে সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সব আন্দোলন সংগ্রামের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে তিনি সমসাময়িক সময়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা৷

জন্মদিনে নাট্যজন সাইফুল আলম চৌধুরীর প্রতি রইল প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। তার কর্মে আরো সমৃদ্ধ হোক চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গণ।

Facebook Comments Box