বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

অবশেষে ঘুম ভেঙ্গেছে চট্টগ্রামের পেশাজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীদের!

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন / ১৮৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করার পর ইতিমধ্যে ১৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিমার্ণ না হলে আবারও তওহিদী জনতা নিয়ে শাপলা চত্ত্বর কায়েমের হুমকিও দেন তিনি।

এর পর থেকে থেকেই মামুনুল হকদের প্রতিহত করতে দেশব্যাপী মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। চট্টগ্রামেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ ও সমাবেশ করেছে।

এ দিকে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম নগরে এসে ঘুরেও গেছেন মামুনুল হক।

এতো কিছুর পরেও এতো দিন ঘুমিয়েছিল চট্টগ্রামের পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও সংস্কৃতি কর্মীরা। অবশেষে ১৮ দিন পর ঘুম ভেঙ্গেছে চট্টগ্রামের পেশাজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীদের।

মামুনুল হক ও হেফাজত নেতাদের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রামের পেশাজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীরা।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে বুধবার (২ ডিসেম্বর) বিকালে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে মামুনুল-বাবুনগরীর বিচার দাবি করা হয়। সমাবেশে প্রতিবাদি গান এবং আবৃত্তিও পরিবেশিত হয়।

এতে প্রফেসর ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাইফুল আলম বাবু সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিএফইউজের (বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন) সহ-সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

সমাবেশে চট্টগ্রামে একটি বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার প্রতিষ্ঠা করে সেখানে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি সৌধ নির্মাণের দাবি জানান সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি মৌলবাদীদের ডানায় ভর করে বদলা নিতে চাচ্ছে। তাই তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ হুংকারের দুঃসাহস দেখায়।’

মামুনুল জন বিক্ষোভে চুপিসারে চট্টগ্রাম ত্যাগ করলেও রাতের আধারে কীভাবে, কাদের তত্বাবধানে এই হুংকারদানকারী চট্টগ্রামে আসার দুঃসাহস করে, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান রিয়াজ হায়দার।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে একিউএম সিরাজুল ইসলাম অবিলম্বে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীতাকারী বাবুনগরী-মামুনুল গংয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দেশের গণতন্ত্র উন্নয়নের বিরুদ্ধে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধীতাকারীদের বিষয়ে যথাযথ করণীয় নির্ধারণ করতে তথ্য ও আইসিটি মন্ত্রনালয়ের পদক্ষেপের দাবি জানান।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ