ঢাকাশনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রামের বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, ‘জেলা পর্যায়ের আদালতে বিচার প্রার্থীদের যে ভীড়, তা অনাকাঙ্খিত। গ্রামীণ সমাজের বিচার ব্যবস্থায় মানুষ সন্তষ্ট নয়। গ্রামের বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষ আস্থা হারিয়েছেন। তারা কোন এক পক্ষের হয়ে কাজ করেন বলে বিচার প্রার্থীরা তাদের দ্বারস্থ হন না। বাস্তব পরিস্থিতি দেখে এবং ন্যায় বিচার করলে গ্রাম আদালতে প্রান্তিক মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির আইনি সহায়তা পাওয়া ও আস্থার জায়গা হচ্ছে গ্রাম আদালত।’

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণের (দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্প) সহযোগিতায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রনয়ন সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মমিনুর রহমান আরো বলেন, ‘গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে জানাতে হবে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতেই হয়। সমাজের সহজ-সরল মানুষটি বিচারের জন্য এসে দীর্ঘসূত্রিতার শিকার না হয় সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা স্থানীয় সরকার উপপরিচালক বদিউল আলমের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরজাহান আক্তার সাথীর সঞ্চালনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এসএম জাকারিয়া, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাধবী বড়ুয়া, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক সাঈদ হাসান, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোডের চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মোরশেদ আলম, জেলা সমাজসেবা উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হায়দার হেনরি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম, স্বপ্নীল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. আলী শিকদার, বেসরকারি এনজিও ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারুসহ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বদিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত হচ্ছে সরকারের ইনোভেশন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবন-মান উন্নয়ন ও বিচারিক সেবা প্রাপ্তির অন্যতম মাধ্যম। আদালতের মামলার জট কমাতেও গ্রাম আদালত ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্প) অগ্রগতি ও বাস্থবায়নের তথ্যচিত্র পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন ডিষ্ট্রিক ফেসিলেটেটর (জেলা সমন্বয়কারী) উজ্জ্বল কুমার দাস চৌধুরী।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৪৬টি ইউনিয়নে এ প্রকল্পের আওতায় সাধারণ জনগণ সেবা পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে। সারা বাংলাদেশে আট বিভাগে ২৭টি জেলায় ১২৮ উপজেলায় এক হাজার ৮০টি ইউনিয়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাদের মামলা নিস্পত্তির হার ৯৭ শতাংশ।

সভায় আরো জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে সহজে কম খরচে দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিস্পত্তি করা এবং অন্যায়ের প্রতিকার লাভের জন্য তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। নারী সংঘঠিত বিষয় হলে গ্রাম আদালত গঠনের ক্ষেত্রে নারী সদস্য অবশ্যই রাখার বিধান রয়েছে বলে জানানো হয়।

খবর পিআইডির

Facebook Comments Box