শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

গৌরীকেদার ভট্টাচার্য ও চট্টগ্রাম চির দিনের প্রেম: পর্ব এক

লিয়াকত হোসেন খোকন / ১০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১

১৯৫১ সালে ‘সমাধিতে মোর ফুল ছড়াতে কে গো এলে’ গানটি রেকর্ড গেয়ে গৌরীকেদার ভট্টাচার্য তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। এই গৌরীকেদার ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার পারাইকোরা গ্রামে। জন্মও এই গ্রামে ১৯১৬ সালে।

গৌরীকেদার ভট্টাচার্যের গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান: সেই মধুর রাতে আধখানা চাঁদ; নাই বা রাঙিল এ দুটি জীবন; নিয়ো না গো অপরাধ; এনেছি আমার শত জনমের প্রেম; তুমি কি জানোরে বন্ধু; পরদেশি গো যেয়ো না; ও তো নহে চাঁদ; তোমার এ মালা; এসো প্রদীপ হাতে; এলো বাদল রিমঝিম; নিশি কাজল শ্যামা; নাই বা হলো মিলন মোদের; কারার ওই লৌহ কপাট; কত মধুরাতি এল, এল আর চলে গেল জীবনে জোয়ার এলো না; কেন পিয়া পিয়া পিয়া বলে ডাকে পাপিয়া, হায় অভিমানে চলে গেছে তারও কি প্রিয়া; আজি মিলন নিশি ভোরে, জেগে দেখি গেছ চলে কখন ঘুমঘোরে; মোর ফেলে আসা পথে কে যেন আমায়, পিছু ডাকে বারে বারে, ফিরে চাই যবে দেখিতে পাই না তারে।

শৈশবে বাবা-মায়ের সাথে গৌরীকেদার চলে যান বানারসে। সেখানে কয়েক বছর থাকার পর এলেন কলকাতায়। ১৯৪০ সালে ‘নিমাই সন্ন্যাস’ ছবিতে বাউল সাজেন তিনি। হিন্দি ছবি ‘রতন, ‘বৈজু বাওরা’, ‘আওয়ারা’, ‘নয়া দৌড়’, ‘শ্রী ৪২০’ এ তিনি প্লেব্যাক করেছিলেন।

বাংলা ছবি ‘এই তো জীবন’, ‘মৌচাকে ঢিল’, ‘চন্দ্রশেখর’ প্রভৃতিতে গৌরীকেদার মনে রাখার মতো কিছু গান করেছেন।

‘চন্দ্রশেখর’ ছবিতে (১৯৪৭) ‘তুমি কি জানোরে বন্ধু কাঁন্দাও যে আমায়’ বাঙালি কোনোদিনও ভুলবে না। ১৯৭৪ সালে সন্ন্যাস হয়ে তিনি মন্দিরে জীবন কাটাতে শুরু করেন। তখন তার নাম ছিল ‘মহাত্ম চন্দ্রশেখর গিরি’। ১৯৮৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।

গৌরীকেদার ভট্টাচার্যের গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান:
সমাধিতে মোর ফুল ছড়াতে কে গো এলে
সমাধিতে মোর….
সুখ নীড়ে ভাসা এ কি সুখ-দুঃখ ঢেলে
কত বার গিয়ে তব দ্বারে
আমি আজ এসেছি আমি
ফিরে বারে বারে জানি মরুতে বাঁধিলে বাসা
মেঘ নাহি মেলে
ফুল ছড়াতে কে গো এলে…
মনে করো ভিখারি আমারে
ভিক্ষা নাহি দিলে তুমি
ফিরায়েছ যারে
যবে ক্ষুধা ছিল সুধা কেন দাওনি গো
কেন ঢেলে দাওনি গো ঢেলে
সমাধিতে ফুল ছড়াতে…(১৯৫১)।

তোমার আমার জনমে জনমে
খেলা ভাঙিবার খেলা
এক মালা গেঁথে ছিঁড়ে ফেলা ।
মিলনের বাসা বিরহ সাগর তীরে
যত বার বাঁধি ভেঙে যায় ফিরে ফিরে
মোদের বিরহে কাঁদে যে সাগর কাঁদে
ভাঙে সাগরের বেলা।
তোমার নয়নে দুলে ওঠে ঝড়
আমার নয়নে চাঁদ
আজিও আমার মিটিল না ওগো
ভালোবাসিবার সাধ।
মাটির প্রদীপ বিমনা বাতাসে চায়
কাছে পেলে তবু আলো তার নিভে যায়
ক্ষণিকের লাগি হাসিয়া শুকায়
আজও শিশিরের খেলা।

তুমি কি জানোরে বন্ধু কাঁন্দাও যে আমায়,
বন্ধু কাঁদাও যে আমায়
আমার মনের বনে বাউরী বাতাস কাঁন্দিয়া লুটায়
বন্ধু কাঁন্দিয়া লুটায়।
যখন তাকাই দূরে গাঁয়ের পানে,
কার জল ভরা চোখ আমায় টানে–
আমি ভেসে যেন চলেছি হায়
কোন অচেনার নায় গো
কোন অচেনার নায়।
মনের বনে বাউরী বাতাস কাঁন্দিয়া লুটায় বন্ধু কাঁন্দিয়া লুটায়
তুমি কি জানোরে বন্ধু কাঁন্দাও যে আমায় বন্ধু কাঁন্দাও যে আমায়
কী দোষে ছাড়িলে বন্ধু, দিলে বিষম জ্বালা গো
দিলে বিষম জ্বালা-
হায় বিফলে শুকায় গো আমার হিজল ফুলের মালা।
বন্ধু, বিনি-সুতার মালাখানি
কেন গলায় দিলে নাাহি জানি-
মালা ছিঁড়ে না যে, বুকে বাজে,
করি কি উপায়-
তুমি কি জানরে বন্ধু!
চন্দ্রশেখর ছবির গান (১৯৪৭)।

এনেছি আমার শত জনমের প্রেম,
আঁখিজলে গাঁথা মালা ;
ওগো সুদূরিকা, আজও কি হবে না শেষ
তোমারে চাওয়ার পালা।
স্বপনে আমার সাথী হারা রাতে
পেয়েছি তোমায় পলকে হারাতে,
তোমারে খুঁজিতে যে দীপ জ্বেলেছি হায়
বিফলেতে দীপ জ্বালা।।
মনে মনে তবু স্বপন বাসর গড়ি
এনেছি হৃদয় মিলনের গানে ভরি।
দূরে আছ তুমি তবু দূরে নহ
স্মরণ সুধায় ভরেছ বিরহ-
প্রেম যেন তব সুদূর গগন হতে
চাঁদের জোছনা ঢালা।।
কথা- মোহিনী চৌধুরী, সুর- শৈলেশ দত্তগুপ্ত।

সেই মধুরাতে আধখানি চাঁদ ছিল জাগিয়া,
আর বুকে মম ছিলে জাগি সে তুমি প্রিয়া।
আমি কহিনু তোমারে, বলো একবার,
শত জনমে মরণে প্রিয় আমি যে তোমার,
তব আঁখিপাতা আধো লাজে এল নামিয়া।
যবে স্বপনে পড়িল ঢুলে চাঁদের আঁখি
এল অধর কুলায়ে দুটি অধীর পাখি –
মোরা দুজনে নীরব, শুধু মুখর হিয়া।
আজ আঁধারে হারায়ে গেছে সে মধু তিথি,
তব স্মরণের তীরে একা জাগিছে স্মৃতি –
মোর ভালোবাসা খোঁজে তোমায় দীপ জ্বালিয়া।

(চলবে)

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ