রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

গান, নাচ উপভোগ ও চা পানসহ জাহাজে করে আমরা পৌঁছালাম মাজারে

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৭৩ Time View

গত পর্বের পর: রাত নয়টা দশ মিনিটে বরকল অন্তর্ভূক্ত সুবলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পঙ্খিরাজের মতো একটি বোর্ডের ব্যবস্থা করলেন আয়োজক কমিটি। রাঙ্গামাটি বাস ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারা যায় না। ধর্মীয় কাজে আয়োজকের এরূপ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কারণে সম্মানটা বেড়ে গেল।

দুই তলা বিশিষ্ট জাহাজ। চতুর্দিকে বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদরে ফিসারিজ ঘাটে বাধা জাহাজটি বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যাত্রীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিলো। সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম আমরা সকলে। এতো বড় জাহাজ করে প্রথম কোনো দীর্ঘ ভ্রমণে বের হচ্ছি। আগে জাহাজে না চড়লেও স্পীড বোর্ডে চড়ার অভিজ্ঞতা ছিলো, তবে সে সময়টা খুব অল্প।

দুই তলা বিশিষ্ট জাহাজে উঠে এই দিক ওই দিক ঘুরে ফিরে বার বার দেখছিলাম। চিত্তাকর্ষক জাহাজ প্রতিজন যাত্রীর মনে খুশির বন্যা বইয়ে দিলো। দ্বিতীয় তলার সিটগুলো দেখতে সুন্দর ও আরামদায়ক ছিলো, নীচের সিটগুলো পরিত্যাক্ত বাসের সিটের মতো। যা-ই হোক, সব মিলিয়ে জাহাজের ভেতরের অবস্থা খুবই চাকচিক্যময়।

ছয়জন লোক বিভিন্ন প্রকার দায়িত্ব নিয়ে জাহাজ ছাড়ল। তার মধ্যে আছেন ‘সারেং’ যিনি চালকের আসনে বসেন, ‘লস্কর’ যিনি নোঙর তোলা ও ফেলার কাজ করেন, ‘কেরানি’ যিনি ভাড়ার টাকা তোলার কাজ করেন, তিনি অনেকটা মালিক বা ম্যানেজারের মতোন, ‘মিস্ত্রী’ যিনি সারেংয়ের সহকারীর কাজ করে থাকেন। তার কাজ সিগনাল দেয়া, ‘লঞ্চের স্টাফ/বাবুর্চি’ যিনি সবার রান্না বাড়া কাজ করেন, সর্বশেষ ‘দোকানদার’- লঞ্চের স্টাফের মতো দোকানের কাজ করেন।

মূলত এ ছয়জনের তদারকিতে জাহাজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছায়। জাহাজটি প্রায় ৮০০-৯০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। তবে যাওয়ার সময় আমাদের যাত্রীর সংখ্যা ছিলো ৪৫০-৫০০জন।

যাত্রাপথের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে আছে চট্টগ্রাম থেকে আগত বেতার ও টিভি কাওয়ালী শিল্পী। প্রতি বছর এ রুপ আয়োজনের রেওয়াজ আছে। পীরের শানে কাওয়ালী গান (গজল) করবেন দুই জন কাওয়ালী শিল্পী, নাম- মো. ছৈয়দ এরফান কাওয়ালী ও তার সহযোগী মো. বিজয় কাওয়ালী।

সারারাত জাহাজটাকে মাতিয়ে তোলার দায়িত্ব, তাঁদের দুই জনের। গানের সাথে নাচ চলতে না চলতে কিছু দূর গিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। কারণ অতিরিক্ত নাচের ফলে জাহাজ ডানে-বায়ে তীব্রভাবে দুলছিল, যা কিছুটা বিপদসংকুলও বটে। বাধ্য করা হয়, আপাতত ‘না’ নাচার জন্য। কাছাকাছি আসলে নাচতে বলা হয়েছে। শুরুর দিকে কথা মেনে চললেও আরো কিছু দূর যেতে না যেতে নাচ শুরু হয়ে গেল।

জাহাজে যে পাটাতনে গান পরিবেশন হচ্ছিল, গুটিকতক ছেলের দল উপভোগ করতে পারছিলো, বাকিরা নিজ জায়গায় বসে শুনছিলো।

সত্যিই মুহূর্তটা খুবই উপভোগ্য ছিলো। ভুলার মতোন না। মামা ধনা মিয়ার (রাঃ) শানে যত ধরনের বন্দনা করে গান করা যায়, তারা তা পরিবেশন করলেন। এভাবে গান ও নাচ উপভোগের পাশাপাশি জাহাজে চা পানের মধ্য দিয়ে আমরা পৌঁছালাম মাজারে।

অবশ্য যাত্রার শেষ হওয়ার একটু আগে সেনাবাহিনী আমাদের ট্রলার চেক করলেন। যাত্রীদের কাছে অবৈধ কিছু গচ্ছিত আছে কিনা, যাচাই করলেন। কিছুই পেলেন না। আমার কাছে ছাড়া তেমন কারো কাছে ব্যাগ ছিলো না। আমি নিয়েছি, কারণ বরকল থেকে আমি রাঙ্গামাটির আরেক উপজেলা লংগদু যাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি ছিলো।

বরকল মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছতে প্রায় দুই ঘন্টা সময় লেগেছিল। সম্ভবত রাত ১১টায় আমরা মাজারে পৌঁছি।
(চলবে…)

Share This Post

আরও পড়ুন