সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

ক্রেতা নেই কোরবানীর পশুর হাটে; বেপারীরা চায় বেশি দাম

আবছার উদ্দিন অলি
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ৫০ Time View
ছবি: সংগৃহীত

আবছার উদ্দিন অলি: মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। আগামী বুধবার (২১ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে ঈদ-উল-আযহা। আর সেই কারণেই চট্টগ্রামে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে কোরবানীর হাট বসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু আসা শুরু করেছে। কিন্তু করোনার কারণে বাজারে তেমন বেচা বিক্রি নেই। জমে উঠেছে চট্টগ্রামের গরুর বাজার। তবে মহল্লায় মহল্লায় গরু বিক্রি হওয়াতে হাটে লোকজন কম দেখা যাচ্ছে এবং এ সব গরুর দামও বেশি। প্রায় সব হাটে গরু আছে, ক্রেতা নেই।

সাগরিকা মার্কেটের গরু বিক্রেতা আবদুর শুক্কুর জানান, গত বছর এ সময়ে আমরা অনেকগুলো গরু বিক্রি করে ফেলেছিলাম। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারি নাই।

চট্টগ্রামের চৌদ্দ উপজেলায় এবারে স্থায়ী-অস্থায়ী ২২৫ টি কোরবানীর গরুর হাট বসেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধানে নগরীতে তিনটি স্থায়ীসহ সাতটি গরুর হাট বসেছে। হাটগুলো হল- সাগরিকা ও বিবির হাট গরু বাজার, পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার, অস্থায়ী চারটি হাট হল- কমল মহাজন হাট, সল্টগোলা গরুর বাজার, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ বাটারফ্লাইয়ের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ এবং কর্ণফুলী গরু বাজার। গরুর হাটে জালনোট সনাক্ত করণ ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ এবং র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সেই সাথে স্থায়ীভাবে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।

চসিকের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বাজারের ইজারদারদের সাথে সভা করে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছি। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে সব কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার সেখ ফজলে রাব্বী।

বিবির হাট গরু বাজারের বোরহান উদ্দিন চৌধুরী জানান বিয়ে, মেজবান, ওরশ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও হোটেল রেষ্টুরেন্ট বন্ধ থাকার কারণে বাজারে প্রচুর পরিমাণ গরু রয়েছে। কারণ, দীর্ঘ চার মাস গরু ছাগল বিক্রি হয়নি। তাই এবার কোরবানীতে পশু সংকট হবে না।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামীর খামারির মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার খামারে ছোট বড় প্রায় ৬০টি গরু রয়েছে। সেখানে এক লাখ টাকা থেকে পঁচিশ লাখ টাকা দামেরও গরু আছে। ক্রেতারা এসে দেখে যাচ্ছেন, কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি হয়নি। দাম যা বলছেন, তা খরচও উঠবে না।’

অনলাইনে গরু বিক্রেতা আবদুল হামিদ বলেন, ‘করোনার কারণে মানুষ হাটে যেতে সাহস পাচ্ছে না। তাই অনলাইনে গরু কেনার আগ্রহ বেশি। সে চিন্তা মাথায় রেখে আমরা অনলাইনে গরু বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি ‘

সাগরিকা গরু বাজারের আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘করোনার কারণে মানুষ অনলাইনের দিকে ঝুঁকেছে। তাই আমরা যারা বাজারে গরু বিক্রি করতে এসেছি, তাদের গরু বিক্রিতে বেগ পোহাতে হবে।’

এক দিকে চলমান মহামারী করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত হারের উর্ধ্বগতি। অন্য দিকে, চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে গরুর বাজারে একেবারেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বেচা বিক্রি নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা খুব চিন্তায় আছেন। সারা বছর কোরবানীর ঈদে গরু বিক্রির জন্যই ধার দেনা ও ঋণ নিয়ে গরু লালন-পালন করেন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সবকিছু উলোট পালট করে দিয়েছে। প্রতিটি গরুতে যে পরিমাণ খরচ পড়েছে, ক্রেতারা ঐ দামও দিতে আগ্রহী না। সব হতাশার পরও চট্টগ্রামে কাল গরু বাজার জমে উঠবে- এমনি প্রত্যাশা বাজারের ইজারাদার ও ক্রেতা-বিক্রেতার।

Share This Post

আরও পড়ুন