মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

কাজের মেয়েকে মেরে মাথা ন্যাড়া করার দায়ে উদীয়মান ডাক্তার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১
  • ৯০ Time View

চট্টগ্রাম: তসলিমা আক্তার (১৫) ২০২০ সালের ১৩ জুলাই থেকে মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে ডাক্তার নাহিদা আক্তার রেনুর (৩৪) বাসায় কাজ করে আসছিল। গত তিন মাস আগ থেকে নাহিদা আক্তার তসলিমার সাথে তার মা ও পরিবারের লোকজনকে মোবাইল ফোন বা অন্য কোন উপায়ে যোগাযোগ করতে দেয় না। গত রোববার (১৮ জুলাই) বিকাল চারটার দিকে তসলিমা আক্তার বাসা পরিস্কার করার সময় ড্রেসিং টেবিলের নিচে একটি কাজল পেয়ে তা নিয়ে তার চোখে লাগায়। নাহিদা আক্তার তসলিমার চোখে কাজল দেখে তাকে প্রচন্ড মারধর করে। পরের দিন সোমবার (১৯ জুলাই) দুপুর একটার দিকে তসলিমা আক্তারকে চান্দগাঁও থানাধীন চান্দগাঁও আবাসিকের ১৩ নম্বর রোডের একটি সেলুনে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাথার সব চুল কেটে দেয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে মা ও আত্মীয়রা বাসায় গিয়ে দেখা করতে চাইলে তসলিমা আক্তার বাসায় নেই বলে জানান নাহিদা আক্তার এবং বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকেন। দুই ঘন্টা বাসার সামনে অপেক্ষা করার পর তসলিমা আক্তারকে বেলকুনি দিয়ে দেখতে পায় তার খালাতো বোন। খালাতো বোন তসলিমা আক্তারকে দ্বিতীয় তলা হতে নিচে আসার জন্য বলে। তসলিমা আক্তার দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামার চেষ্টা করলে নাহিদা আক্তার তসলিমাকে চড় থাপ্পর মেরে রুমে নিয়ে আটক করে রাখে। তসলিমার মা থানায় এসে ঘটনাটি জানালে সাথে সাথে পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তসলিমা আক্তারকে উদ্ধার করে এবং ডাক্তার নাহিদা আক্তারকে আটক করে। তসলিমা আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা হয় এবং ডাক্তার নাহিদা আক্তারকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ডাক্তার নাহিদা আক্তার রেনু চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরার রকিবুল হাসানের স্ত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাক্তার নাহিদা আক্তার এমবিবিএস শেষ করে বর্তমানে এফসিপিএস করছেন। এখনো কোথাও ডাক্তার হিসেবে তিনি জয়েন করেননি।

Share This Post

আরও পড়ুন