ঢাকারবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘কাজলা দিদি’র রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচীর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

নুরুন্নবী নুর
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১ ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যতীন্দ্রমোহন বাগচীকে যতটা না চিনি, তারচে’ বেশি চিনি, তার ‘কাজলা দিদি’ কবিতার মধ্য দিয়ে। আমার কাছে ব্যক্তিটির চেয়ে কবিতাটি বেশি পরিচিত মনে হয়। শৈশবে শেখা যে কয়েকটা কবিতাকে এখনও মন ধারণ করে আছে, তার মধ্যে ‘কাজলা দিদি’ একটি। ভীষণরকম ভালো লাগার একটি কবিতা। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে গেছি, কবিতাটি কোথাও আবৃত্তি শুনলে, এখনও দাঁড়িয়ে যাই। আগ্রহ ভরে শুনতে ইচ্ছে করে। কবিতাটি নিয়ে এখনও প্রচুর কাজ হয়, হচ্ছে।

‘কাজলা দিদি’ কবিতাটির রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী। তাকে শুধু ‘কাজলা দিদি’র জন্য না, পরিণত বয়সে আমার কাছে ‘অন্ধ বধূ’, ‘শ্রিকল’ ও ‘হাট’ কবিতার জন্যও বেশ ভালো লাগে। কবিতাগুলো ছাড়াও তিনি অনেকগুলো কাব্যগ্রন্থেরও রচয়িতা, ‘পথের সাথী’ নামের একটি উপন্যাসও লিখে গেছেন।

পল্লী-প্রীতি, বাঙালি কবি ও সাংবাদিক যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবি মানসের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। ‘পথের পাঁচালী’র বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কবি জীবনানন্দ দাশের মত তার কাব্যবস্তু নিসর্গ-সৌন্দর্যে চিত্ররূপময়। গ্রাম বাঙলার শ্যামল স্নিগ্ধ রূপ উন্মোচনে তিনি প্রয়াসী হয়েছেন। গ্রাম জীবনের অতি সাধারণ বিষয় ও সুখ-দুঃখ তিনি সহজ সরল ভাষায় সহৃদয়তার সঙ্গে তাৎপর্যমণ্ডিত করে প্রকাশ করেছেন।

যতীন্দ্রমোহন বাগচী, নদিয়া জেলার জমশেরপুরে জমিদার পরিবারে (বর্তমান বাগচী জমশেরপুর) জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস বলাগড় গ্রাম, হুগলি। তার জন্ম ১৮৭৮ সালের ২৭ নভেম্বর, মৃত্যু ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮।

আজ রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান সাহিত্যিক যতীন্দ্রমোহন বাগচীর ৭৩তম মহাপ্রয়াণ দিবস। মৃত্যুদিবসে কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি।

Facebook Comments Box