ঢাকাশুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সংবেদনশীল কর্ম পরিবেশ’ শীর্ষক সভা নারী যোগাযোগ কেন্দ্রের

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
নভেম্বর ২০, ২০২১ ১১:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন (উৎস) এবং ডিয়াকোনিয়া বাংলাদেশের সহায়তায় চট্টগ্রাম জিইসি প্যালেস রেষ্টুরেন্ট মিলনায়তনে নারী যোগাযোগ কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগরের আয়োজনে ‘কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কেন্দ্রের আহ্বায়ক সালমা জাহান মিলির সভা প্রতিনিধিত্বে সভায় অতিথি আলোচক ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ পরিচালক মাধবী বড়ুয়া, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া, সাংবাদিক ও লেখক ডেইজি মওদুদ, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের উপদেষ্টা নাসরিন সুলতানা খানম।

সভায় আলোচনায় অংশ নেন শারাবান তাহুরা, শিক্ষক মো. আবুল কাশেম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আলম হোসাইন, নাহিদা কুলসুম, ট্রান্সজেন্ডার প্রতিনিধি জেরিন, আইনজীবী জিনাত আমিন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কনিয়া চৌধুরী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সঞ্জয় চৌধুরী, রোমা দাশ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি ফারুক তাহের।

উৎসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ শাহ আলমের সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা। সভায় ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন নারী যোগাযোগ কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী রীপা পালিত।

ধারণা পত্রে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হল- সরকারী, স্বায়িত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার পলিসি থাকা। সংবিধান ও নারী উন্নয়ন নীতি অনুযায়ী নারীদের যে সব অধিকার রয়েছে, সেগুলো যেন অর্জিত হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়নের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বাজেট বরাদ্দ যথাযথ খাতে ব্যয় হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। নারীদের কর্মক্ষেত্রে গমনে যে সব সামাজিক বাধা রয়েছে সে সব দূরীকরণের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। নারীদের কর্মক্ষেত্রে আগ্রহী করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। যেমন- সন্তোষজনক বেতন-ভাতা, দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন ও অন্যান্য সুবিধাদি। লিঙ্গবৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২২ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার উল্লেখ করে অতিথিরা বলেন, নারীর কর্মক্ষেত্রের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হল নারীর যৌন হয়রানি। শারীরিক, মৌখিক ও মানসিক বিভিন্নভাবে একজন নারী যৌন হয়রানির শিকার হতে পারেন। উন্নয়নের ভাষায় ‘জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ’ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান জরুরী। জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ নারী-পুরুষ উভয়ের মর্যাদা সুরক্ষা করে। প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখে। কর্ম ক্ষেত্রের কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার ফলে কর্মজীবী নারীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। কর্মক্ষেত্রের এসব সমস্যার কারণে নারীরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও অনেক সময় কর্ম জীবনে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক থাকে না। নারী-পুরুষ এক সাথে কাজ করতে পারলেই সমাজের, প্রতিষ্ঠানের ও সর্বোপরি রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব।

প্রেস বার্তা

Facebook Comments Box