শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১২:০৪ অপরাহ্ন

করোনা: জীবন ও জীবিকা রক্ষায় ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রামের ১২ দাবি

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক / ৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

চট্টগ্রাম: করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান উর্ধগতির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ জীবন ও জীবিকা রক্ষায় অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ রোধ যেমন প্রয়োজন তেমনি মানুষের জীবিকার নিশ্চয়তাও প্রয়োজন। গত বছর থেকে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের থাবায় জীবন ও জীবিকা বিপন্ন। এর মধ্যে আবার শুরু হয়েছে সরকারি বিধি-নিষেধ এবং সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধমুখীতা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণকে কঠিন করেছে।

সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা সেবার আওতা বাড়ানো ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং জীবিকা নিশ্চিতকল্পে সরকারি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু হানিফ এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান সাক্ষরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম জেলার নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়-বাণিজ্যের পাশাপাশি রপ্তানিসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। যার সার্বিক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। অনেক শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারান। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য কল-কারখানার শ্রমিকদেরও আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এ অবস্থায় যখনই সরকারি বিধি-নিষেধ থেকে বেরিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছিল তখনই আবারও সংক্রমণের হার অত্যন্ত বেড়ে যায়। দীর্ঘ দিন ধরে অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে নিম্ন ও মধ্য আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের পক্ষে দৈনন্দিন খাবার ও ওষুধের চাহিদা মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও জীবিকার ব্যবস্থা করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।

এগুলো হল- চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ শয্যা সংখ্যা বাড়ানো। সরকারিভাবে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর সেবাদানের জন্য শয্যা সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করা; চট্টগ্রামে আইসিইউর শয্যা সংখ্যা বাড়াতে যে উদ্যোগ গত বছর নেয়া হয়েছিল সেভাবে এবারো উদ্যোগ নেয়া এবং দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা; জনসাধারণের প্রতি আহ্বান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন- মাস্ক পড়ুন; স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নজরদারি রেখে অর্থনীতির গতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সে পদক্ষেপ নেয়া হোক; চিকিৎসা সামগ্রী যেমন মাস্ক, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং অক্সিজেনের মূল্য যাতে লাগামহীন বৃদ্ধি না পায় সে উদ্যোগ নেয়া; করোনা চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে মনিটরিং জোরদার করা; সরকারি বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে শ্রমজীবীদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার জন্য সরকারি গণপরিবহন চালু রাখা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য করা; সব ধরণের জনসমাগম বন্ধ রাখা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া; দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে টিসিবির মাধ্যমে খাদ্যপণ্য বিক্রির পরিমাণ ও আওতা বাড়ানো; দরিদ্র, হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের তালিকা করে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা প্রদান; নিত্য পণ্যের বাজার সহনশীল রাখতে প্রয়োজনে সরকারিভাবে খাদ্যপণ্য আমদানি অব্যাহত রাখা। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কর্মহীন শ্রমিক-কর্মচারীদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা প্রদান।

প্রেস বার্তা

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ