শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:১৬ অপরাহ্ন

করোনা ও বাংলাদেশ: উপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন / ৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন: করোনা বাংলাদেশের আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানপাটে আক্রমণ করে। কিন্তু বইমেলা, সরকারি-বেসরকারী উৎসব, মিছিল, জনসভা সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা- এসব জায়গা করোনামুক্ত লংঘরখানা।

বর্তমান বাংলাদেশের চারিদিকে নীরব দূর্ভীক্ষ ও অসহায় মানুষের হাহাকার। মুরুব্বীদের মুখে শোনা যায় ৭৪’ দূর্ভীক্ষকে হার মানিয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে পথে-ঘাটে এত বেশি ভিখারী ও অসহায় দরীদ্র মানুষ, যা অতীতে সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

অনেক মানুষ লজ্জায় তাদের অভাবের কথা কাউকে বলতে পারে না এবং কারো কাছে হাতপাততে পারে না। ভাল ভাল অসহায় শিক্ষিত ও ভদ্র বেকার মানুষ মসজিদ, পথে-ঘাটে হাত পেতে ভিক্ষা করছে, পরিবারের জন্য দু’মুঠো ভাতের আশায়। তবুও তথাকথিত মিডিয়া এবং পা চাটাদের কথাবার্তাতে আমরা উন্নয়নশীল দেশে পোঁছে গেছি। অর্থাৎ উপরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট।

কিন্তু বাঙালি জাতির ঘরের খবর সরকার, আমলা, ধনাট‍্য, রাজনৈতিকও সুশীল সমাজ ব‍্যক্তিরা কেউ রাখে না। মিডিয়া জানলেও দেশে ও বিদেশে ভয়ে জানাতে চায় না। শুধুমাত্র তেল মারা, পা চাটা ও মিথ্যা প্রশংসা করে। সর্বত্র মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে মানুষের কন্ঠনালীকে চেপে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা বর্তমান দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব‍্যয় বৃদ্ধি, দূর্নীতি, অনিয়ম, ব‍েপরোয়া কিশোর গ‍্যাং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুমখুন এবং সর্বত্র বিচারহীনতা- এ সব ব্যাপারে কোন কথাবার্তা বা আন্দোলন করে না।

রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ দায় সারা নিজ নিজ স্বার্থ নিয়ে টক শোতে কথাবার্তা ও গাঁ বাচানো জীবনযাপন করে। কিন্তু কেউ সাধারণ জনগনের কথা ভাবে না ও বলে না। দূর্নীতি ও অবৈধ ইনকামে এক শ্রেণীর মানুষ বর্তমান বাংলাদেশে এত বেশি ধনী বা প্রচুর টাকার মালিক হয়ে গেছে, যারা দেশে টাকা রাখার জায়গা না পাওয়ায় বিদেশে টাকা রাখে। অন্য দিকে, বেশির ভাগ মানুষ এত বেশি গরীব, দরীদ্র ও অসহায় হয়ে গেছে, তাদের পক্ষে পরিবারে দু’মুঠো ভাত খাওয়ার অর্থ বা টাকা যোগাড় করতে পারে না অর্থাৎ ধনী ও গরীবের তফাৎ জমিন ও আসমান।

গত বছরের সার্বিক কার্যাবলি ও বিধি-নিষেধের ক্ষতি থেকে জনগন এখনো কেটে উঠতে পারেনি। সরকার ও সরকারের পরামর্শ দাতাকে জনগনের পক্ষে বিনীত অনুরোধ, দরীদ্র জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে বর্তমান বিধি-নিষেধ কিছুটা শিতিল করে বাংলাদেশের নিম্ন আদালত মাত্র দুই ঘন্টার জন্য আসামির জামিন, ফোজদারী ও দেওয়ানি মামলার ফাইলিংয়ের জন্য নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম চালু করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে দোকানপাট প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত খুলে দেওয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের কাজকর্মের সুবিধা করে দেওয়া উচিত। করোনা প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে মাস্ক ও স্বাস্থবিধি মানতে বাধ্য করে জনগনের কল‍্যাণে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের আকুল আবেদন।

লেখক: এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড জর্জ কোর্ট, চট্টগ্রাম

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ