মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

করোনায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকের আয় বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন / ৯৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিন বিদ্যালয় ও লেখাপড়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। নাটকীয়ভাবে জুন-আগস্ট অনেক বিদ‍্যালয় পাঠদানের নামে অনলাইন ক্লাস শুরু করে। বিদ‍্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের এনড্রয়েড মোবাইল কেনার সামর্থ নেই। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক দরিদ্র। যাদের দিনে এনে দিনে খাওয়ার মতো খাবার জুটে না। সেখানে আবার এনড্রয়েড মোবাইল ও ওয়াইফাই/এমবি কিনে ছেলে-মেয়েদের অনলাইন ক্লাস করা দিবা স্বপ্নের মতো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি পর্যন্ত এ‍্যাসাইনমেন্ট শিক্ষাক্রম বিদ্যালয়গুলো পর্যায়ক্রমে সপ্তাহব্যাপী ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে জমা নিতে থাকে। কিন্তু ওই এ‍্যাসাইনমেন্টের উত্তর যে সব ছাত্র-ছাত্রীর এনড্রয়েড মোবাইল ও ওয়াইফাই আছে, তারা ইউটিউবের মাধ্যমে দেখে দেখে এ‍্যাসাইনমেন্টের উত্তর লিখে বিদ‍্যালয়ে জমা দেয়, তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের কি রকম মূল্যায়ন হলো? বা বিদ্যালয় কিভাবে মূল্যায়ন করবে? তা আমরা অভিভাবকদের বোধগম্য নয়।

এ‍্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার প্রাক্কালে চলতি নভেম্বর মাসের শেষে এসে বিদ‍্যালয়গুলো পাঠক্রম থেকে বিরত থেকে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ মাসিক বেতন (টিউসন ফি) এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ‍্যালয়ে পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করে, যা অযৌক্তিক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপর এক প্রকার জুলুম।

পূর্বে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশের সব বিদ্যালয়গুলো মাসিক বেতন (টিউসন ফি) সম্পূর্ণ না নিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অর্ধেক বেতন নিলে অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয় বাঁচতো বা লাভবান হতো।

এক মাস পরে নতুন বছরের পূন:ভর্তিসহ অন‍্যান‍্য ৪০০০-৫০০০ টাকা করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক থেকে আবার চাইবে। করোনার মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষে এতোগুলো টাকা বিদ্যালয়ে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। আমি সব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের পক্ষ হয়ে মাসিক বেতন (টিউসন ফি) অর্ধেক এবং নতুন বছরে পূণঃভর্তির নামে অতিরিক্ত টাকা মওকুফ করার জন্য সরকার, শিক্ষামন্ত্রী, চসিক প্রশাসক ও সব বিদ্যালয় কতৃপক্ষকে বিশেষ মভাবে অনুরোধ করছি।

সরকারের ও মন্ত্রণালয়ের যুগোপযোগী ও হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দুঃচিন্তা মুক্ত হবে। এই দূর্যোগময় করোনাকালে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আয়ের কথা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এন্ড জর্জ কোর্ট, চট্টগ্রাম।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ