সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:০২ অপরাহ্ন

করোনার ঢেউ চতুষ্টয় মোকাবেলায় মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি

মোস্তফা কামাল যাত্রা
  • প্রকাশ : শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
  • ৩৩৩ Time View

মোস্তফা কামাল যাত্রা: মহামারীর প্রভাব বিশ্লেষণে পরীক্ষিত সত্য হল এর ঢেউ চতুষ্টয়। অর্থাৎ যে কোন মহামারীর চারটি প্রধানতম প্রভাব দেখা দিয়ে থাকে। এই ঢেউ (Waves of Pandemic) চতুষ্টয় সৃষ্টি হয় পর্যায়ক্রমে। দ্বিতীয় ঢেউ হচ্ছে- মন্দা (Recession), আর তৃতীয় ঢেউকে বলা হয়- অভাব (Poverty), চতুর্থ ঢেউ হিসাবে আসে- অরাজকতা (Disorder)।

কোন মহামারীর প্রভাব যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার ঢেউগুলো সৃষ্টি হয় পর্যায়ক্রমে। একের পর এক এলেও মহামারীর ঢেউগুলোর প্রভাব থাকে চলমান। অর্থাৎ এরা আসে পরপর (They come in the sequel); কিন্তু তাদের প্রভাব থাকে অব্যাহত।

ফলে ‘গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়ার’ মত প্রথম ধাপের উপর দ্বিতীয় ধাপ, আর দ্বিতীয় ধাপের উপর তৃতীয় ধাপ এবং তৃতীয় ধাপের উপর পড়ে চতুর্থ ধাপের প্রভাব। তবে প্রথম ধাপের প্রভাব চলতে থাকে চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় ধাপের প্রভাব অনুসরণ করে একই পরম্পরা। ফলশ্রুতিতে তৃতীয় ধাপের প্রভাব গিয়ে যুক্ত হয় চতুর্থ ধাপে।

গুরুতর চতুর্থ ঢেউ পূর্বের তিনটি ঢেউয়ের চলমান নেতিবাচক প্রভাবকে একিভূত করে এমন এক বিভৎস পরিস্থিতির জন্ম দেয়, যাকে বলা হয় ‘অরাজকতা।’

এই পর্যায়ে এসে সমাজের কোন কিছুই থাকে না স্বাভাবিক। মন্দা ও অভাব মিলে-মিশে একাকার হয়ে গিয়ে সমাজের প্রধানতম নিয়ামক শক্তি মানুষের কোন কিছুই আর স্বাভাবিক (Order) পর্যায়ে থাকতে দেয় না। এই পর্যায়ে মানুষের আচরণে আসে অস্বাভাবিকতা। মানুষ হয়ে উঠে হিংস্র ও নৈতিকতা বর্জিত। করে অসামাজিক ক্রিয়া-কলাপ।

কারণ মন্দার ফলে তারা আয়মূলক কাজকর্ম থেকে হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে উদ্ভুত ‘অভাব’ তাদের করে দিকভ্রান্ত। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জড়িয়ে পড়ে অনৈতিক ক্রিয়া কর্মে। ফলে সৃষ্টি হয় ‘অরাজকতা’।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সভ্যদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য মানুষ শুরু করে অসামাজিক কাজ। ফলে ভেঙ্গে পড়ে সমাজ কাঠামো। কারণ ওই সময় নিয়ন্ত্রক ও সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো থাকেনা কার্যকর। অপর দিকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা হয়ে পড়ে দূর্বল। স্থানীয় সরকার কাঠামোর সাথে যোগাযোগ সক্ষমতাও যায় ভেঙ্গে।

কোন কিছুই তখন আর থাকে না স্বাভাবিক। যতক্ষণ পর্যন্ত না দূর হয় বা দূর্বল হয়ে আসে মহামারীর সর্বগ্রাসী নেতিবাচক স্বভাব।

বর্তমান সময়ে চলমান মহামারী করোনার প্রাদূর্ভাব যতক্ষণ না কমে আসছে বা সব মানুষের জন্য টিকা নিশ্চিত করা যাচ্ছে- ততক্ষণ এই মাহমারীর প্রভাব চলতেই থাকবে। যদিও আমরা এখন আছি দ্বিতীয় ঢেউ তথা ‘মন্দা’ পর্যায়ে। তৃতীয় ঢেউ ‘অভাব’ সৃষ্টি হলে দ্বিতীয় ঢেউ মন্দার প্রভাবও থাকবে চলমান। আর প্রথম পর্যায়ের মহামারী করোনার প্রাদূর্ভাব তো আছে অব্যাহতই।

বাংলাদেশ এখন প্রাদূর্ভাবের দ্বিতীয় পর্ব পার করছে। এখনো আমাদের সরকার সব স্তরের মানুষের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে- যা আশার বিষয়। তবে সেই আশা তখনই কার্যকর হবে, যখন তৃতীয় ধাপ ‘অভাব’ প্রকট হওয়ার আগেই সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা যায়। নচেৎ সামনে সমূহ বিপদ।

টিকা একটি ঔষুধী প্রতিকার। কিন্তু মানুষের মধ্যে জন্ম নেওয়া মনো-সামাজিক সংকট উত্তরণে একই সঙ্গে যদি মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় প্রতিরোধে রাষ্ট্র প্রস্তুতি না নেয়, তবে সম্ভাব্য উদ্ভূত মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা হয়ে পড়বে দূরুহ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ (WFMH) আলোচ্য মহামারী করোনা শুরুর কাল থেকে গুরুত্ব দিয়ে বলে আসছে- টিকার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়ার উপর। শুধু টিকা উৎপাদন, সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য অর্থায়ন করলেই হবে না। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধে রাখতে হবে যৌক্তিক হারে অর্থ বরাদ্দ এবং গ্রহণ করতে হবে যথাযথ পরিকল্পনা।

মোদ্দাকথা, দেশের মনো স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে দক্ষ জনবল চিত্র বিবেচনায় প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জলবল গড়ে তোলার জন্য নিতে হবে গঠণমূলক ও কার্যকর পদক্ষেপ। অন্যথায় করোনা এর চতুর্থ তথা ভয়াবহ ঢেউ হিসাবে স্বীকৃত ‘অরাজকতা’ মোকবেলায় রাষ্ট্র হবে ব্যার্থ। কারণ, এই পর্যায়ে মানুষের মনোসামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে পড়বে নেতিবাচক ও তাদের আচরণে সৃষ্টি হবে অসামাজিক কার্য-কারণ। যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মনোবৈকল্লতা (Psychosis)।

নীতি, নৈতিকতা আর নেতিবাচক অবস্থা ও অবস্থানকে ফের স্বাভাবিক তথা Order- এ ফিরিয়ে আনতে হলে রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। যার জন্য প্রয়োজন মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা প্রদানে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য যৌক্তিক হারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া এবং জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।

ঝূঁকি বিবেচনায় প্রাধান্য নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে মানুষকে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনার উদ্যোগও নিতে হবে সমগুরুত্বে। যাতে মানুষের ভেঙ্গে পড়া মানসিক অবস্থাকে সজিব রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হতাশ ও আতংকগ্রস্ত না হয়ে পড়ে; সেই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক মনস্তাত্ত্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃত।

এ ক্ষেত্রে ঔষুধী চিকিৎসার জন্য যেহেতু মনোচিকিৎসক গড়ে তোলা সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল বিষয়, সেহেতু ঔষধবিহীন পদ্ধতিতে মনোসামাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তুলতে এগিয়ে আশাই যৌক্তিক।

মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধে আধুনিক কর্মকৌশল হল- ‘অভিব্যক্তিধর্মিক মনোবিশ্লেষক শিল্পযজ্ঞ (Expressive Psychotherapy)।’ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মকৌশলের কাজ হচ্ছে- সৃজনশীল কলাবিদ্যার মনোবৈজ্ঞানীক ব্যবহারের মাধ্যমে মনো-সামাজিক সমস্যা দূর করা। এটি একটি আম্ব্রেলা টার্ম। যার মধ্যে রয়েছে থিয়েটার থেরাপি, ডান্স থেরাপি, মিউজিক থেরাপি, মাইম থেরাপি, পয়েট্রি থেরাপি, আর্ট থেরাপি, ক্লাউন থেরাপি, সেডো থরাপি, প্লে-থেরাপি, সাইকোড্রামা, সোসিওড্রামা, লিভিং নিউজপেপার থিয়েটার, ম্যাজিক থেরাপি, প্লেবেক থিয়েটার প্রভৃতি।

মনোস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যায় উন্নত বিশ্বে প্রচলিত কাউন্সিলিং ও সাইকোথেরাপির বিকল্প হিসাবে মনোবিশ্লেষক সৃজনশীল ওই শিল্পযজ্ঞগুলো সফলভাবে অনুশীলিত হচ্ছে। তাই আমাদের দেশেও উল্লেখিত শিল্পশৈলীসমূহের থেরাপিউটিক তথা মনোবিশ্লেষক প্রয়োগ সুনিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মনোসামাজিক স্বাস্থ্য সেবা কর্মীতে পরিণত করা- এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সরকার যদি সংস্কৃতি মন্তণালয়ের অর্থায়নে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে সারা দেশের সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও শিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করে দক্ষ এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপিস্ট হিসাবে গড়ে তোলে, তাহলে দ্রুততম সময়ে পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে বেশ কিছু দক্ষ মনোস্বাস্থ্য সেবা কর্মী গড়ে উঠবে।

করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতার করণে বর্তমানে সব স্তরের শিল্পীরা চর্চা ও প্রদর্শনীর বাইরে থেকে আর্থিক দৈন্যতায় ভুগছে। তাদের যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপিস্ট হিসাবে গড়ে তোলা যায় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় পেশাদারীভাবে সেই সব মনোবিশ্লেষক শিল্প কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজে লাগানো যায়, তবে শিল্পীদের আর্থিক নিশ্চয়তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা খাতকেও করা যাবে সমৃদ্ধ।

যা প্রাকরান্তরে করোনার ফলে সৃষ্ট মানসিক বিপর্যস্ততা দূরীকরণে রাখতে পারবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর যার ফলে রাষ্ট্র রাখতে সক্ষম হবে- মনোস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনবদ্য অবদান।

একইভাবে বিভিন্ন পেশার সাথে সম্পৃক্ত অথচ করোনার কারণে বেকার হয়ে পড়া জনবলকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দক্ষ মনোস্বাস্থ্য সুরক্ষা জনবেল পরিণত করলে- করোনার ফলে সৃষ্ট মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয় প্রতিরোধে তারা দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পেশাদারীভাবে দক্ষ জনবল হিসাবে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাখতে সমর্থ হবেন কার্যকর ভূমিকা। যা করোনার ঢেউ মোকাবেলায় মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্য সেবা প্রস্তুতির আওতায় একটি মডেল পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হবে।

একই সঙ্গে করোনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলায় বেকার হয়ে পড়া বিভিন্ন পর্যায়ের দক্ষ জনবলকে করোনার কারণে সৃষ্ট মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধে বিকল্প জনশক্তি হিসাবে কাজে লাগানো যাবে। যা তাদের অভাব মোকাবেলা তথা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করার মাধ্যমে করোনার চতুর্থ ঢেউ ‘অরাজকতা’ এর পরিমাণ কমিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এই ক্ষেত্রে মূখ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে শিক্ষামন্ত্রণালয়কে। যা এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির বিদ্যায়তনিক তথা একাডেমিক পাঠ্যক্রম চালু করার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ও গুণগত মানের দক্ষ এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপিস্ট গড়ে তুলতে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসাবে চালু থাকবে।

উন্নত বিশ্বে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির কর্ম কৌশল ভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রি চালু আছে। তাই আমাদের দেশেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি বিভাগ চালু করা অত্যাবশ্যক। যাতে করে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি বিষয়ক এক্সপার্ট ও একাডেমিশিয়ান গড়ে তোলা যায়।

স্মরণীয় যে, দেশে এই প্রথম কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (সিবিআইইউ) চালু করেছে ত্রৈমাসিক ‘এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি’ বিষয়ক একটি কোর্স। অনুরূপ উদ্যোগ নিতে পারে অপরাপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।

উল্লেখিত প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হলে- করোনার ঢেউ চতুষ্টয়ের ক্ষতি মোকেবেলার পাশাপাশি এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির মাধ্যমে মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধে যে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করবে। যে বিশেষায়িত দক্ষতা সম্পন্ন জনবল করোনা উত্তর দেশের মনোস্বাস্থ্য সেবা খাতকেও করবে সমৃদ্ধ। যা একটি স্থায়ীত্বশীল প্রক্রিয়া হিসাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে রাখবে দীর্ঘ মেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব।

সর্বোপরি উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে একটি আন্তমন্ত্রণালয়গত সমন্বয়ের মাধ্যমে মানবিক এই মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয় পরিস্থিতি মোবাবেলায় একটি সু-সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরী। এতে করে দেশের মনোস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও বিপর্যস্ততা মোবাবেলায় তা একটি সময়উপযোগী পদক্ষেপ হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা স্বাপেক্ষে আন্ত:মন্ত্রণালয়গত সম্মতিতে যদি উল্লেখিত মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি এখনই গ্রহণ করা যায়; তবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মনোস্বাস্থ্য সুরাক্ষা জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি সৃজনশীল কলাবিদ্যার মনোবিশ্লেষক ব্যবহার তথা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে করোনার কারণে উদ্ভূত মনোস্বাস্থ্য বিপর্যয় রোধে বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। যা মূলত: করোনার ঢেউ চতুষ্টয়ের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে স্বীকৃত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অতিথি শিক্ষক

Share This Post

আরও পড়ুন