শিরোনাম
এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ গ্যালাক্সি এম০২ হ্যান্ডসেটে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট ওয়্যারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং বাঁশখালীতে গুলি করে শ্রমিক হত্যা; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রামের তীব্র নিন্দা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিতকরণ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ও অন্য মেগা প্রকল্পে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিহতে খেলাফত মজলিসের নিন্দা বীমা খাতে প্রথম ‘তিন ঘন্টায় কোভিড ক্লেইম ডিসিশন’ সার্ভিস চালু মেটলাইফের মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকার চাকুরে জিয়ার বিএনপি ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চায় ধারাবাহিক ছোট গল্প: পতিতার আলাপচারিতা । পর্ব পাঁচ এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার নিন্দা ও বিচার দাবি সাতকানিয়ায় সোয়া কোটি টাকার ৩৮ হাজার ইয়াবাসহ ট্রাক চালক ও হেলপার গ্রেফতার
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

করোনাকালীন শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশে কারাতে প্রশিক্ষণ

মো. আব্দুল হান্নান কাজল / ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

আজকের শিশু আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ। তারাই হবে দেশ গড়ার কারিগর। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে যেমন প্রয়োজন শারীরিক সুস্থতা, তেমনই প্রয়োজন মানসিক সুস্থতা।

গবেষকদের মতে, জন্মের পর থেকেই শিশুর শরীরের বৃদ্ধি আর মনের বিকাশ ঘটতে থাকে। অন্য দিকে, জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা, আবেগ ও অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করার দক্ষতা অর্জিত হয়।

শারীরিক শক্তি, মানসিক চিন্তা-চেতনা ও বুদ্ধিমত্তা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম হল খেলাধুলা। বর্তমানে খেলাধুলার স্থান কমে যাওয়ায় কারাতে চর্চা শিশুর সুস্থ শরীর গঠন, সঠিক ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও মানসিক বিকাশে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

করোনাকালীন প্রতিদিন কারাতে চর্চার মাধ্যমে আস্তে আস্তে শিশুর শরীর, হাঁড় ও পেশী শক্তিশালী হয়। তারা দ্রুত বেড়ে ওঠে। নিয়মিত কারাতে চর্চা শিশুর উদ্দীপনা, কর্মক্ষমতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। হার-জিত সহজে মেনে নিতে সাহয্য করে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করতে না পারা শিশুরা পরবর্তী নানা সমস্যায় ভোগে।

কারাতে চর্চার সময় শিশুর শরীরে রক্ত প্রবাহ অনেক বেড়ে যায়। এটা শিশুদের দেহ-মন গঠন এবং সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরী। কারাতে চর্চার মাধ্যমে শিশুরা নানা পরিস্থিতি সামাল দিতে শেখে। কারাতে প্রশিক্ষণ ছাড়া এটা সম্ভব না।

খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের বিনোদনের একটি বড় অনুসঙ্গ। বর্তমানে শহরে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েরা জানেই না, কারাতে চর্চার মজাটা কী? কারাতে মানে কী? কারাতে মানেই খালি হাত। এ খালি হাতেই নিজেকে শত্রুর কবল থেকে বাঁচার জন্য ও সুস্থ থাকার পরিচিত হওয়া। কারাতে মানেই খেলাধুলা, যা অনেক ‍শিশু-কিশোরের সংঙ্গে মেলামেশা ও পারস্পরিক চেনা-জানার মাধ্যমে শিশুর মনোজগৎ বিস্তৃত হতে সহায্য করে।

প্রতিদিন কারাতে চর্চার মাধ্যমে শিশুর শরীরের স্বাভাবিক গঠন দ্রুত বেড়ে উঠে। তাই, শিশুর জন্য কারাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অবসর সময়ে পরিবারের সবাই মিলে টিম হয়েও শিশুর সঙ্গে বাইরে বা বাড়িতেই কারাতে করতে পারেন। পাশাপাশি অন্য খেলাধুলাও করতে পারেন।

ভালো কারাতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জন্য ভালো কারাতে ক্লাবে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন।

কারাতে প্রশিক্ষণ না দিয়ে শিশুকে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভালো কারাতে চর্চা কেন্দ্র রয়েছে। ইলেক্ট্রনিক খেলার সরঞ্জাম দিয়ে ঘরের মধ্যে বন্দি না রেখে শিশুকে বাসার কাছাকাছি কারাতে ক্লাবে নিয়ে যেতে হবে। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে কোন ভালো কারাতে প্রশিক্ষককে ঠিক করে বাড়ির ছাদ, ব্যালকনি বা বারান্দায়ও শিশুর জন্য কারাতে চর্চার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কারাতে চর্চার সময় শিশু যেন ব্যথা না পায়, সে জন্য ম্যাট বিছিয়ে দিতে পারেন। শিশুর পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি সাইক্লিং, সাঁতার কাটা, দঁড়ি লাফসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদন কার্যক্রম শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহয্য করে। তাই, এ ধরনের ধেলাধুলায় শিশুকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে।

এক সময় বিকাল বেলাটা শিশুর জন্য থাকলেও এখন পড়াশোনার চাপে পড়ন্ত বিকাল বেলায়ও শিশুকে বই-খাতা নিয়ে কোচিং থেকে কোচিংয়ে ছুটতে হয়। অন্য দিকে, যখন সময় পায় তখনও অভিভাবকের কারণে শিশুরা কারাতে বা খেলাধুলা করতে পারে না।

খেলাধুলা চিত্ত বিনোদন ও আনন্দের খোরাক। চিত্ত বিনোদন শুন্যতায় অল্প বয়সেই বিভিন্ন অপরাধ চক্রে জড়িয়ে যাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। খেলাধুলা না করায় বর্তমানে শিশু-কিশোরদের অবসর কাটে টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা ভিডিও গেমসে। এ সব দেখে শিশু খারাপ হতে শিখে এবং চোখের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া, প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় শিশুরা নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। নিজেই তৈরি করে নিজের আলাদা এক জগৎ। যে জগৎ শিশুর সহজ-সরল জীবনকে ধ্বংস করে দিতে বাধ্য।

মাত্র কয়েক দশক আগেও খেলাধুলার সুযোগ ছাড়া স্কুল-কলেজ কল্পনা করা না গেলেও এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় খেলাধুলা করার জায়গার বড় অভাব। সে সঙ্গে সভ্যতার ক্রম বিকাশ আর আধুনকিতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে এক সময়কার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা দাড়িয়াবান্ধা, কানামাছি, ঘুঁড়ি খেলা, গোল্লাছুট, বৌ চোর, এক্কা-দোক্কা, মোরগ লড়াই, ডাংগুলি, ইচিং-বিচিং, জোঁলাভাতি, কাবাডি, ঘুড়ি প্রভৃতি।

আগে গ্রামে কিংবা শহরের অলি-গলিতে এ সব খেলা দেখা যেত। আর এখন অলি-গলিতে ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোনো খেলা আর তেমন দেখা যায় না। নাগরিক জীবনের প্রতি ঝুঁকে পড়ার পাশাপাশি আমরা আমাদের অনেক নির্মল আনন্দ বিসর্জন দিয়ে এখন একেবারেই যান্ত্রিক হয়ে উঠেছি।

তাই, যেভাবেই হোক, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে শিশুকে খেলাধুলা বা কারাতে চর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। কারণ, শিশুদের একটি আনন্দ মাখা শৈশব উপহার দেয়া আমাদের একান্ত দায়িত্ব।

লেখক:
কারাতে প্রশিক্ষক
সোতোকান কারাতে স্কুল, চট্টগ্রাম।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ