বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে তিন দফা বাসে সফল ডাকাতি, অবশেষে ধরা খেল ছয় ডাকাত, বাকি রইলো এক

পরম বাংলাদেশ প্রতিবেদন
  • প্রকাশ : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ১২৮ Time View

কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে গত শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) রাতে সংঘটিত বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রাম।

রোববার (২৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত মহেশখালী ও কক্সবাজার জেলার সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। তবে এ ঘটনায় এক ডাকাত এখনো অধরা রয়ে গেছে।

আটককৃতরা হলো কক্সবাজার পোকখালী নাইক্যংদিয়ার হায়দার আলীর পুত্র ডাকাত সর্দার মো. ইয়াহিয়া প্রকাশ জয়নাল (২৬), ফরিদুল আলমের পুত্র ছলিম উল্লাহ (৩৩), শিয়া পাড়ার মো. শাহাজাহানের পুত্র ছাবের আহমদ (২৯), দক্ষিণ পাড়ার (উত্তর) হাছন আলীর পুত্র আবুল কালাম (৩০), চকরিয়া খুটাখালীর শাহ আলমের পুত্র শাহ আমান প্রকাশ বাটু (২৮) এবং চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা নাজির পাড়ার মোহাম্মদ বদরুদ্দোজার পুত্র ডাকাতিকালে বাসের নিয়ন্ত্রণকারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৫)।

আটককৃত মো. ইয়াহিয়ার দেহ তল্লাশী করে তার কোমরে গোজা অবস্থায় ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড ৭.৬২ এমএম রাইফেলের বুলেট ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও বাকিদের কাছ থেকে ডাকাতির সময় ছিনিয়ে নেয়া ২০টি মোবাইল ফোন, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি হাতঘড়ি, ডাকাতিকৃত ২ হাজার ৫৮০ টাকা, ২৫৫ আরব আমিরাতের মুদ্রা, ৩০০ ওমানের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব ৭ এর মিডিয়া কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, অভিযানে ডাকাতির সাথে জড়িত সাত জন আসামির মধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয় এবং অপর পলাতক আসামিকেও র‍্যাব শনাক্ত করেছে। ডাকাতদলটি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, তারা গত ৫ ও ১২ নভেম্বর একই এলাকায় দুইটি বাসে ডাকাতি করে। তারা দীর্ঘ দিন ধরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় রাত্রিকালে ছিনতাই এবং ডাকাতি করে আসছে। উদ্ধাকৃত মালামালসহ তাদেরকে কক্সবাজার জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাসে (চট্ট মেট্রো-ব-১১-১১২৫) ডাকাত দল দুইজন যাত্রীকে গুলি এবং একজনকে কুপিয়ে আহত করে। ডাকাতেরা যাত্রীর ছদ্মবেশে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার নতুনব্রিজ থেকে বাসটিতে উঠেছিল। পরবর্তী কক্সবাজার চকরিয়ার ফাসিয়াখালী এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতদলটি বাসের চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তী ডাকাতদলটি কক্সবাজার জেলার সদর ইদগাহ এলাকায় ডাকাতির মালামালসহ নেমে যায়। এ ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পর দিন ২৮ নভেম্বর এ ঘটনায় কক্সবাজার চকরিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়।

Share This Post

আরও পড়ুন