ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওয়াটারএইডের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার অ্যাক্সেলারেটর’র উদ্বোধন

ঢাকা
নভেম্বর ২, ২০২২ ১০:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা: ওয়াটারএইড আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে জলবায়ু ও পানি খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ এবং ওয়াটার স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিনের (ওয়াশ) ওপর জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। সোনারগাঁও হোটেলে এ আয়োজনের মাধ্যমে ওয়াটারএইড তাদের আসন্ন ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার অ্যাক্সেলারেটর’ এরও উদ্বোধন করেছে।

‘রোড টু কপ২৭’ এ বক্তারা বিশ্বের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মানব সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) প্রস্তাবিত পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিন (ওয়াশ) পরিষেবা সংক্রান্ত ‘লো-রিগ্রেটস’ অভিযোজন সমাধানগুলো (অ্যাডাপ্টেশন সল্যুশন) প্রান্তিক ও সংকটাপন্ন সম্প্রদায়গুলোকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে। ওয়াশ পরিষেবাগুলো জলবায়ুর প্রভাবজনিত সংকট হ্রাস করবে এবং সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য, শিক্ষা, সমৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যগত বৈষম্যের ব্যবধান কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে, যা সব সম্প্রদায় ও ব্যক্তির সহনশীলতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন। তবে এ অভিযোজন সমাধানগুলোর জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন, যা বিশ্বে এখনো পর্যন্ত অপর্যাপ্ত। আইপিসিসি পানি ও স্যানিটেশন পরিষেবা দানকে জলবায়ুজনিত সংকট হ্রাস করার জন্য স্বল্প মেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে এবং একে লো-রিগ্রেটস’ অভিযোজন সমাধান হিসাবে চিহ্নিত করে। এ বিশ্লেষণ থেকে আরো জানা যায়, ওয়াশ পরিষেবা বরাদ্দের প্রশ্নে এখনো উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক বৈষম্য রয়ে গিয়েছে, যেখানে উন্নত ও শহরাঞ্চলগুলো বিগত বছরগুলোতে গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও উপকূলীয় এলাকার তুলনায় বরাদ্দকৃত তহবিলের অধিকাংশ ভাগ পেয়েছে।

এ ব্যাপারে সিইজিআইএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিক ফিদা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন খাতের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা, সরাসরি সংযোগ স্থাপন ও বাস্তবমুখী ধারণার সমন্বয়। প্রক্রিয়াটিকে সংবেদনশীল করে তোলা এবং সমাজ ও সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজিত প্রোগ্রামগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার দায়িত্ব এ খাতের সাথে যুক্ত সকলের। এ প্রক্রিয়াগুলো নিশ্চিত করা সমাজে সরাসরি প্রভাব ফেলতে সহায়তা করবে।’

ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, ‘পানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। জাতীয় কৌশলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলো নকশা করতে হবে এবং এর যথাযথ নিয়ন্ত্রণের ওপর অগ্রাধিকার দিতে হবে। অবকাঠামোকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে হবে, যাতে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা যায়। জলবায়ু অর্থায়ন বিশ্বের দেশগুলোর জন্য ঋণের বোঝা তৈরি করছে, তাই আমাদের অবশ্যই অনুদান ভিত্তিক অর্থায়নের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।’

পার্থ হেফাজ সেখ বলেন, ‘আমরা এখন লস এন্ড ড্যামেজের যুগে বাস করছি, আর জলবায়ু খাতে ন্যায্যতা আশা করতে হলে আমাদের অবশ্যই পানি সংকট মোকাবেলায় সহজলভ্য ও ব্যয় সাশ্রয়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।’

আদনান ইবনে আবদুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন কর্ম নীতিতে সই করেছে ওয়াটারএইড। পানি সংকট মোকাবেলায় অবশ্যই স্থানীয় সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। ‘রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার অ্যাক্সেলারেটর’ একটি মাল্টি-সেক্টোরাল পদক্ষেপ, যা মানুষের জলবায়ু ও পানির সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে সেই সমস্যাগুলো সমাধানের পথ তৈরি করবে। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন এ অ্যাডাপটেশন ফাইন্যান্স স্থানীয় সমাজগুলোর কাছে পৌঁছায়। আশা করি, আমাদের উদ্যোগ এ দিকটিতে জোর দেবে।’

অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ স্যানিটেশন সেবা দানে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ওয়াশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সম্পর্কে আমাদেরকে ধীরে ধীরে আলোচনার পথ তৈরি করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ একটি সাহসী ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আমরা এ ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করছি। প্রান্তিক জনগণের জীবনে জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর দিকে সকলকে মনোযোগ দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

Facebook Comments Box