বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

একেকটা গ্রন্থ বিদ্যার্জনের একেকটা সিঁড়ি

নুরুন্নবী নুর
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৩১ Time View

লেখালেখি করিতে গেলেই পড়াশোনাও করিতেই হইবে। গ্রন্থে মনোনিবেশ করিতেই হইবে; নাসিকা ও চক্ষুদ্বয়, গ্রন্থের পাতায় পাতায় ডুবিয়া রাখিতেই হইবে। ইহা হইলো চিরাচরিত একটি বিধিবদ্ধ নিয়ম। তাহার বিকল্প কোনো পথ নাই। একটি শব্দ লিখিতে চাইলেই নূন্যতম দশটি গ্রন্থ পড়িবার অভ্যাস গড়িয়া তুলিতে হইবে। বেশি বেশি বই পড়া, লিখিবার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিয়া থাকে।

প্রার্থনালয়ে প্রবেশের পূর্বে যেমন পবিত্র হওয়া জরুরী, ঠিক তেমনি কলমের কালি যেহেতু শহীদের রক্ত কণিকার চাইতেও পবিত্র সেহেতু কলম ধরিবার পূর্বেই লেখক তথা পাঠকের নিকট গ্রন্থ পড়া একান্ত জরুরী। কারণ, লেখালেখির ক্ষেত্রে গ্রন্থ পড়া হইলো বৃক্ষের গোঁড়ায় জল সেচন করিবার মতোন। যতো বেশি জল ঢালিবেন, তত বেশি বৃক্ষের যেমন করিয়া বৃদ্ধি ঘটিবে তেমনি লেখালেখির ক্ষেত্রে গ্রন্থ পড়িলে লেখকের কলমের খোঁচাটাও ধাঁরালো হইবে।

গ্রন্থ পড়া আর প্রার্থনা করা যেন একটি সংযোজক ক্রিয়া। প্রার্থনালয়ে প্রবেশ করা আর লেখালেখির জগতে আপনাকে সম্পৃক্ত করা একই কথা। একটাতে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য পাওয়া যাইবে, অন্যটিতে জ্ঞানের শিখরে উঠবার মইয়ের সন্ধান মিলিবে।

মনে রাখিতে হইবে, একেকটা গ্রন্থ বিদ্যার্জনের একেকটা সিঁড়ি। একটা গ্রন্থ পড়া মানে হইলো জ্ঞানের একটা সিঁড়ি অতিক্রম করা। যতই সিঁড়ি অতিক্রম করিবেন ততই জ্ঞানী মানুষের খোঁজ পাইবেন, পাইবেন জ্ঞানী হওয়ার পথকে সুগম করিবার সুবর্ণ সুযোগ।

প্রত্যহ আমাদিগকে প্রচুর গ্রন্থ পড়া জরুরী। প্রশ্ন হইলো, কোন্ গ্রন্থটা পড়িবেন? একজন লেখক তথা পাঠকের কর্মই হইলো শুধুই গ্রন্থপাঠ। হাতের কাছে যাহা পাইবেন তাহাই পড়িবেন, ধার করিয়া হউক কিংবা ক্রয় করিয়া। এমনকি একজন লেখক তথা পাঠকের কাছে পথে পড়িয়া থাকা কাগজ টুকরোটাও পড়িবার একটা বড় ধরনের উৎস হইতে পারে। অবশেষে একজন লেখক তথা পাঠক পড়িতে পড়িতে অনুধাবন করিতে পারিবেন, কোন্ গ্রন্থটি তাহার পড়া উচিত আর কোনটি না!

গ্রন্থ পড়িবার গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন ধরনের প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। প্রমথ চৌধুরীর ‘বইপড়া’ শিরোনামের প্রবন্ধটি তো অসাধারণ।এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ হইতে শুরু করিয়া সমসাময়িক অনেক কবি ও লেখক গ্রন্থ পড়িবার প্রয়োজনীয়তা নিয়া সাহিত্য রচনা করিয়াছেন। যা পড়িলে গ্রন্থপড়ার প্রতি অবশ্যই নবীন লেখক তথা পাঠকরা আগ্রহী না হইয়া পারিবেন না।

যেমন আমার কথাই ধরুন। আমি প্রত্যহই কিছু না কিছু পড়িবার চেষ্টা করিয়া থাকি। অনেক ব্যস্ত সময়ের ভিতরেও গ্রন্থ পড়িবার চেষ্টা করিয়া থাকি। আপনার পাণ্ডিত্য জাহির করিবার জন্য বলছি না। আমি গ্রন্থ পড়িবার মধ্যে কেমন জানি একটি স্বর্গীয় সুখ অনুভব করিয়া থাকি। পড়িতে খুবই ভালো লাগে। বিশ্বাস করুুন, গ্রন্থ অধ্যয়ন করিলে আমার হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে উঠে। পুলকিত হই।

পড়িবার জন্য প্রিয় শিক্ষার্থীদের হইতে আরম্ভ করিয়া বন্ধু-বান্ধবদিগকেও পরামর্শ দিইয়া থাকি। সুযোগ পাইলেই সকলকেই গ্রন্থপড়িবার জন্য বলতে আরম্ভ করিয়া দিই। অনেকে আমার কথায় বিরক্ত হইয়া যায়, আবার অনেকে সাধুবাদ জানাইয়া থাকে। বিশেষ করিয়া, আমার শিক্ষার্থীগণকে রীতিমত অনুরোধ না, আদেশ- উপদেশই দিইয়া থাকি গ্রন্থপড়িবার জন্য। বিদ্যায়তনিক পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বাহিরের জ্ঞানের সহিত পরিচিত হইবার জন্য বলিয়া থাকি।

গ্রন্থ পড়িবার মধ্যে আলাদা একটি সুখের সন্ধান পাই বলিয়া সম্প্রতি একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি তৈরির পরিকল্পনাও হস্তে লইয়াছি। সুখ বলিতে প্রথাগত যে সুখকে আমরা জানিয়া থাকি সেটি নহে। এই সুখ, স্বর্গীয়। কোনো কিছুর সহিত তুলনা করা চলে না। মূলত সেই সুখগুলোকে একত্রিত করিতে, আপনার চোখে দেখিয়া আরাম পাইবার জন্য লাইব্রেরি করিবার স্বপ্ন দেখিয়াছি। আমার নিকট পঠিত একেকটা বই একেকটা সুখের নাম।

সময় হস্তে থাকে না, তারপরও একটু সময় বের করিয়া চেষ্টা করিয়া থাকুন গ্রন্থপড়ার জন্য। গ্রন্থ পড়িলে মন ভালো থাকে। গ্রন্থ পড়া হইলো মনের খোরাক। যতই গ্রন্থ পড়িবেন ততই তারুণ্য অনুভব করিবেন।

সাহিত্যিক চার্লস ল্যাম্ব বলিয়াছিলেন, ‘বই পড়িতে যিনি ভালোবাসেন তাঁহার শত্রু কম।’

লক্ষণীয় বিষয় হইলো ‘লেখক তথা পাঠক’ লিখিবার একটা যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে। তাহা হইলো ‘সকল লেখক পাঠক, কিন্তু সকল পাঠক, লেখক না।’

লিখক:
তরুণ শিল্প সমালোচক

Share This Post

আরও পড়ুন