মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

একুশ আমার মায়ের ভাষা; একুশ আমার প্রাণ

অনিক বড়ুয়া / ১৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

একটি অণু কবিতা দিয়ে শুরু করছি।

‘একুশ আমার মায়ের ভাষা
একুশ আমার প্রাণ
একুশ তোমার জন্য আমি
করব সবই দান’

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, রক্তক্ষয়ী এ মাস মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের মাস। পুরো বাঙালি জাতির জন্য ঐতিহাসিক এবং গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন।

ছোট বেলায় স্কুলের দিনগুলো খুবই স্মরণীয় হয়ে আছে এখনো। তখন তো আর এত স্মার্ট ফোনের ব্যবহার ছিল না। এলার্ম বলতে মায়ের ডেকে দেওয়াটা বুঝতাম। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মাকে গুরুত্ব সহকারে বলে রাখতাম, যেন ভোরে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। ভোরে উঠে প্রথমে বাড়ির ফুল গাছ থেকে অনেকগুলো রক্তজবা ফুল নিয়ে কিছু পাতা এক সাথে করে একটা ফুলের তোড়ার মতো করে তৈরি করে খুব তাড়াতাড়ি স্কুলের পোশাক পরে তৈরি হয়ে বাকীদের ডাকতে যেতাম। সবাই দল বেঁধে খালি পায়ে যাওয়ার পথে অনেক দূর থেকে কানে ভেসে আসত আবেগ মাখা অদ্ভুত সুন্দর গানটি-
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়া-এ ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি’

লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচনায় গানটিতে অসম্ভব রকমের মায়া জড়িয়ে আছে। বিশ্বের ১২টি ভাষায় এ গানটি গাওয়া হয়৷

স্কুলের ব্যানার নিয়ে যখন লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে কমিউনিটি সেন্টারের মাঠের শহীদ মিনার চত্বরে ফুল দিতে যেতাম, মনের মধ্যে এক অন্য রকম অনুভূতি তৈরি করত এ গানটি। এ গানের জন্য মায়া এখনো বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয় নি বরং আরো বাড়ছে।

দেশের প্রতি দায়িত্ব বাড়ছে, ভালোবাসা বাড়ছে। আবার ক্ষোভও আছে কিছুটা। ভালোবাসার শহর যদি প্যারিস হয়, তবে আমার কাছে আমার দেশ, আমার মাটি, আমার গ্রাম, আমার শহর, আমার মা, বলতেই যেন আনন্দ লাগছে এদেশের সবকিছু আমার। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার প্রমুখ ছাত্রদের মতো যদি জীবনে দেশের জন্য বিন্দুমাত্র গর্ব বয়ে আনতে পারি, তাতেই স্বর্গ তাতেই সুখ।

তারুণ্যের বাহুবলে গড়া উঠা অপার সম্ভাবনাময়ী আমাদের এ মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে অনেকটা পথ। তবে এ যাত্রায় আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে, অপসংস্কৃতি, অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতিতে টাঁসা চারিদিক।

অন্যায় অবিচারের ভারে ভরে যাচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিটি পথ৷ অনিয়ম ও ঘুষ কারবারি অসদুপায় অবলম্বন করে তৈরি করছে পাহাড় সমান সম্পদ। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন ঘুন পোকার বসবাস।

যত দিন আমরা এ অবিচার, অন্যায়, অনিয়ম, ঘুষ কারবারির মতো অসৎ পন্থা থেকে উঠে আসতে পারব না, তত দিন পিছিয়ে থাকব আমরা। জাতিগত বৈষম্যে দূর করে একে অপরের কাঁদে কাদ মিলিয়ে এক সাথে পথ চলতে হবে আমাদের। এ দেশ আমার, এ দেশ আমাদের। তাই এ দেশের পরিবর্তনের চাকা সচল রাখতে হবে আমাদের। এক দিন হয়তো সব বাঁধা পেরিয়ে আমরা করব জয় নিশ্চয়ই। সে দিন থাকবে না কোন জাতিগত বৈষম্যে, করবে না কেউ ধর্মের ভেদাভেদ, থাকবে না কোন অনিয়ম, হবে না কোন অন্যায়, করবে না কেউ ঘুষ কারবারি।

ভাষার এ পবিত্র মাসে সব ভাষা শহীদের শোককে শক্তিতে রুপ দিতে হবে। একুশের জয়গান গেয়ে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। একুশ হোক সফলতার অন্য নাম।

লেখক: শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী বিভাগ
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ