শিরোনাম
মারা গেলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন দশ উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‌‌‌‌‌এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি: বিদ্যায়তনিক পাঠ ও গণ প্রয়োগ কবিতা: আছি সেই সুদিনের অপেক্ষাতে । শ্রাবন্তী বড়ুয়া করোনার চিকিৎসায় পাহাড়তলীতে সিএমপি-বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ৩১ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ রমজানে রোগবালাই ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উড়িরচরে সীমানা পিলার স্থাপনের প্রতিবাদ সন্দ্বীপবাসীর মাউন্টেন ভ্যালির আইভেক্টোসল ও আইভোমেকের প্রথম ধাপের ট্রায়াল শুরু এল রহমতের মাস মাহে রমজান
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

উচ্চ রক্ত চাপ ও এর ভাবী ফল অত্যন্ত ভয়ানক ও আশংকাজনক

ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ / ৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

বাংলা কথা রক্ত চাপ। কিন্তু ইংরেজীটাই পরিচিতি বলে বাংলা বুঝি না। এই ব্লাড প্রেসার নামক রোগটি আজকাল ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে। যে কোন রোগীই ডাক্তার খানায় গিয়ে বলে থাকেন, ডাক্তার সাহেব, আমার প্রেসারটা একটু দেখেন তো। এটির সাধারণতঃ শহরের ধনী ও বিলাসী ব্যক্তিদের রোগ। খেটে খাওয়া বা দিন মজুর মানুষের এ রোগ হয় না। আর হলেও তা উচ্চ রক্ত চাপ হয় না, নিম্ন চাপেই থাকে।

উচ্চ রক্ত চাপটি কি? উচ্চ রক্ত চাপ ও এর ভাবী ফল অত্যন্ত ভয়ানক ও আশংকাজনক। হৃৎপিন্ডের স্পন্দন দ্বারা যে শক্তি চালিত হয় তাই উচ্চ রক্তচাপ। ব্লাড প্রেসার অন্য রোগের লক্ষণ মাতত্র। কোন সময় রক্ত চাপ অত্যন্ত বেড়ে যায়, কোন সময় কমে যায়। শির পীড়া, মাথা ঘুরা, বুকে চাপ বোধ, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ভার বোধ, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, শ্বাস কষ্ট, হাঁপানীর মত অবস্থা, ঘুম কমে যায়, মাঝে মাঝে নাসিকা হইতে রক্ত পড়ে। আরো অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মাথায় রক্ত উঠে অস্থিরতা, চিলিক মারা মাথা ব্যথা, চোখ, মুখ লাল হয়ে তন্দ্রাচ্ছন্নভাব কিংবা সংজ্ঞাহীন অবস্থা।

হৎপিণ্ড সঙ্কোচ-প্রসারণের ফলে রক্তনালীর মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয়। রক্তনালীর মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্ত ধমনীর গায়ে যে চাপ সৃষ্টি করে, তাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্ত চাপ।

রক্ত চাপের দুইটি মান থাকে। যথা সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক। হৃৎপিণ্ড সংকোচনের সময় ব্লাড প্রেসার বেশি হয়। হৃৎ সংকোচনের ফলে ধমনীর গায়ে সৃষ্ট এই রক্ত চাপকে ‘সিস্টোলিক’ ব্লাড প্রেসার বলে। অপর পক্ষে, হৃৎপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন ধমনীর গায়ে রক্তের চাপ পড়ে কম। হৃৎ প্রসারণকালের এই রক্ত চাপকে বলে ‘ডায়াস্টোলিক রক্ত চাপ’।

ধরুন চিকিৎসক আপনার ব্লাড প্রেসার মেপে বললেন, আপনার ব্লাড প্রেসার ১১০/৭০ (মি.মি. পারদ)। এখানে বুঝতে হবে আপনার ‘সিস্টোলিক’ ব্লাড প্রেসার ১১০ এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেসার ৭০।

উচ্চ রক্ত চাপ বৃদ্ধির কারণ: শতকরা পাঁচ ভাগ ক্ষেত্রে হাই ব্লাড প্রেসারের কারণ জানা যায়। যে সব হাই ব্লাড প্রেসারের কারণ জানা যায়, তাদের বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্ত চাপ)। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে কিডনির অসুখ, এড্রেনাল গ্লান্ডের অসুখ ইত্যাদি। শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে হাই ব্লাড প্রেসারের কারণ জানা যায় না। কারণ না জানা এই উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় এসেনসিয়াল হাইপারটেনশন। ১৯৩০-১৯৪০ সালের দিকে কিছু প্রভাবশালী চিকিৎসক বিশ্বাস ও প্রচার করতেন যে, সরু ও অনমনীয় রক্তনালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত করতে ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি অপরিহার্য, বিশেষত বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে। তারা এটাও বলতেন, এ ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধিতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে না। অনেক সময় পেরিয়েছে, অনেক সমীক্ষা ও গবেষণা হয়েছে; আজ এটা প্রতিষ্ঠিত যে, ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধি অপরিহার্য নয় বা তা বয়োবৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় পরিণতি নয় বরং ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধিতে রক্ত সংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। আগের ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু নামটা এখনো রয়ে গেছে- অপরিহার্য উচ্চ রক্ত চাপ। এসেনসিয়াল হাইপারটেনশন বা অপরিহার্য উচ্চ রক্তচাপের সঠিক কারণ জানা না গেলেও জানা গেছে, কিছু প্রভাবকের কথা যা উচ্চ ব্লাড প্রেসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলোকে বলা হয় ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাবক। উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রভাবকগুলো হলো- বংশগত ধারা, বয়স, গোত্র, কম শারীরিক পরিশ্রমযুক্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান, মেদবাহুল্য ইত্যাদি। ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না, একে প্রাইমারি বা অ্যাসেনশিয়াল রক্তচাপ বলে। সাধারণত বয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্ত চাপ বেশি হয়ে থাকে।

কিছু কিছু বিষয় উচ্চ রক্ত চাপের আশঙ্কা বাড়ায়। যথা-উচ্চ রক্ত চাপের বংশগত ধারাবাহিকতা আছে, যদি বাবা-মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে সন্তানেরও এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি নিকটাত্মীয়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অন্যদের এর ঝুঁকি থাকে। ধূমপায়ী ব্যক্তির শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্ত চাপসহ ধমনি, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদ রোগ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ: খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের আয়তন ও চাপ বেড়ে যায়।

অধিক ওজন ও অলস জীবনযাত্রা: যথেষ্ট পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদ্যন্ত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। অধিক ওজন সম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, যেমন—মাংস, মাখন ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেলে ওজন বাড়ে। ডিমের হলুদ অংশ এবং কলিজা, গুর্দা, মগজ এসব খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হলে রক্তনালির দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিসের রোগীদের উচ্চ রক্ত চাপ দেখা দেয়। এ ছাড়া তাদের অন্ধত্ব ও কিডনির নানা রকম রোগ হতে পারে।

অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা: অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যদি এই মানসিক চাপ অব্যাহত থাকে এবং রোগী ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারেন, তবে এই উচ্চ রক্তচাপ স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

কিছু কিছু রোগের কারণে উচ্চ রক্ত চাপ হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে একে বলা হয় সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন। এ কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো: কিডনির রোগ, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ও পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার, ধমনির বংশগত রোগ, গর্ভধারণ অবস্থায় একলাম্পসিয়া ও প্রি এ্যাকলাম্পসিয়া হলে, অনেক দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যবহার, স্টেরয়েড জাতীয় হরমোন গ্রহণ এবং ব্যথা নিরামক কিছু কিছু ওষুধ খেলে।

লেখক: স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ