ঢাকাশুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উচ্চ রক্ত চাপের ঝুঁকি কমাতে ডাক্তার মাজেদের পরামর্শ

ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১ ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবন যাত্রার পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্ত চাপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বংশগতভাবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমানো সম্ভব নয়। তবে এ রকম ক্ষেত্রে যে সব উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলোর ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।

অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে: খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। এক বার লক্ষ্য অনুযায়ী ওজনে পৌঁছালে সীমিত আহার করা উচিত এবং ব্যায়াম অব্যাহত রাখতে হবে। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো।

খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা: কম চর্বি ও কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন—খাসি বা গরুর মাংস, কলিজা, মগজ, গিলা, ডিম কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার এবং ননী তোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সূর্যমুখীর তেল খাওয়া যাবে। বেশি আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা ভালো। আটার রুটি এবং সুজি-জাতীয় খাবার পরিমাণ মতো খাওয়া ভাল। তরকারিতে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। মদ্যপান পরিহার করতে হবে।

নিয়মিত শরীর চর্চা: সকাল-সন্ধ্যা হাঁটাচলা, সম্ভব হলে দৌড়ানো, হালকা ব্যায়াম, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার ইত্যাদি।

ধুমপান নয়: ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। তামাক পাতা, জর্দা, গুল লাগানো ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে। নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে। নিজের শখের কাজ করা ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক শান্তি বেশি হবে।

রক্ত চাপ নিয়মিত পরীক্ষা: নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্ত চাপ পরীক্ষা করানো উচিত। যত আগে উচ্চ রক্ত চাপ ধরা পড়ে, তত আগে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

হোমিও প্রতিকার: রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়, এই জন্য রোগীর পুরা লক্ষণ মিলিয়ে চিকিৎসা দিতে পারলে তাহলে হোমিওতে উচ্চ রক্ত চাপ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকরা উচ্চ রক্ত চাপের জন্য যে সব ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন, একোনাইট, এড্রিনালিন, অরামমেট, ক্যাকটাস গ্র্যান্ডি, কেলিফস, নেট্রাম মিউর, ক্যাটে গ্র্যাস, সেফালেন্ড্রা ইন্ডিকা, অর্জুনসহ আরো অনেক মেডিসিন লক্ষণের উপর আসতে পারে। তবে সাবধান চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করলে রোগ আরো জটিল আকারে পৌছতে পারে।

লেখক: স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি

Facebook Comments Box