সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

ঈদের পরে বিধিনিষেধে পোশাক শিল্প খোলা রাখার সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় মালিকরা

পরম বাংলাদেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ১১ Time View
সৈয়দ নজরুল ইসলাম

সৈয়দ নজরুল ইসলাম: ঈদ-উল-আযহার পরবর্তী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিন সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ থাকলে রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতকৃত তৈরি পোশাক ক্রেতার নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে জাহাজীকরণ করা সম্ভব হবে না। ফলে ওই রপ্তানি আদেশ বাতিল/স্থগিত/এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হবে।

বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পোশাক বিক্রি বেড়েছে। ফলে যে কোন মূল্যে দ্রুত পণ্য ডেলিভারী চাই। বর্তমান সময়টা ইউরোপ এবং আমেরিকাতে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রচুর রপ্তানি আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। এ’সময়ে কারখানা বন্ধ রেখে চলমান রপ্তানী আদেশগুলো যথা সময়ে জাহাজীকরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতের অর্ডার গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগি দেশগুলো যথা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত, চীন ও মিয়ানমারে কারখানা খোলা রেখে উৎপাদন পরিচালনা করছে। ফলে ক্রেতারা নতুন রপ্তানি আদেশ ওই দেশগুলোতে স্থানান্তরের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

ঈদ-উল-আযহার পরবর্তী বিধিনিষেদের মধ্যে ১৪ দিন পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য চালান ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হবে না। বন্দরে কন্টেইনার সংরক্ষণে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত হয়ে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বহিঃনোঙ্গরে জাহাজের অবস্থান বৃদ্ধি পেয়ে কনটেইনার ও জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়ে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হবে। এছাড়াও সময় মত পণ্য চালান খালাস ও রপ্তানি করতে না পারার কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। যা, জাতীয় অর্থনীতিতে নৈতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক গড়ে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টিইইউজ আমদানি পণ্য চালানের কনটেইনার জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং গড়ে সাড়ে তিন হাজার চার হাজার টিইইউজ রপ্তানি চালানের কনটেইনার জাহাজীকরণ করা হয়। আমদানি পণ্য চালানগুলো ডেলিভারী নেওয়া সম্ভব না হলে ১৪ দিনে ৫০ হাজার থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টিইইউজ কনটেইনার বন্দর জেটিতে মারাত্মক জটের সৃষ্টি করবে। বন্দর জেটিতে কনটেইনার রাখার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮টিইইউজ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

আমরা এখনো আশাবাদী যে, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য তথা তৈরি পোশাক শিল্পেরগুলো বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য শিল্প বান্ধব প্রধানমন্ত্রী আগের মত বিধিনিষেধের মধ্যেও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনপূর্বক দেশের রপ্তানির স্বার্থে পোশাক শিল্প কারখানা খোলা রাখাসহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস ও রপ্তানির জন্য অনুমতি দেবেন।

লেখক: প্রথম সহ-সভাপতি, বিজিএমইএ

 

Share This Post

আরও পড়ুন