শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

ঈদুল ফিতর হৃদ্যতা ও ভালোবাসার অঝোর ধারা

চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম / ৬৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১
চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম

ঈদুল ফিতর নিয়ে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের অনবদ্য রচনা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ/তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ/দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ’।

হৃদ্যতা আর সৌহার্দ্যের অনন্য এক উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহার দুয়ারে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে হাজির হল ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার অনুশীলন শেষে এল আনন্দ আর খুশীর দিন। ঈদুল ফিতর ইসলামের শ্বাশত অমীয় বিধানের সৌদর্যের সরস একটি অংশ। আকাশে মেঘের ভাজে আনন্দ উল্লাসের আবির ছড়িয়ে পড়া সুন্দরের দিগন্তে এক রঙিন দিন। অতীতের সব ভেদাভেদ মতৈক্য ভুলে বুক জমিনে সুন্দর আর ভালোবাসার চাষ। মিলন সুখে বিভোর হয়ে সৌহার্দ্য আর হৃদ্যতার খরস্রোতে ভেসে প্রেমের মোহনায় এসে সত্য, সুন্দরের মধুর সুরে গান। বিভেদের দেয়াল ভেঙে সাম্যের জয়গানে উঁচু-নীচু সকলে একই সুতোঁয় বেঁধে পড়া। ভাইয়ে ভাইয়ে বুকের সাথে বুকের স্পর্শে হাসি মুখে আলাপন ৷ হৃদয়ের নিপুন গাঁথুনীতে ভালবাসার মিনার গড়ে তোলা। ঈদুল ফিতর নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার দিন, মেলে ধরার দিন। ভালোবাসায় ফতুর হওয়ার দিন। মিলন সুখের উল্লাসে ভালোবাসার নতুন গল্প রচনার দিন। কবি নজরুল ইসলামের ভাষায় ‘শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো, কত বালু চরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো, বরষের পরে আসিল ঈদ! ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের, কন্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের, সাকীরে’ জা’মের” দিলে তাগিদ!

ঈদের এ হৃদ্যতা কেবল এক দিন কিংবা লোক দেখানো কোন আনুষ্ঠানিকা নয়। এটি মূলত মুসলমানদের জন্য সমগ্রিক জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার শিক্ষা। আমরা যদি আমাদের দৈনিন্দন জীবনে ঈদুল ফিতরের আদর্শ লালন ও ধারণ করি, তাহলে সমাজ থেকে সব বিচ্যূতি ও অনাচার দূর হয়ে একটি সত্য সুন্দরের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। করোনা মহামারীতে মৃত্যু মিছিলে আশেপাশের কত চেনা মানুষকে হারাতে হয়েছে। কত মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। অথচ এমন মহামারিতেও আমরা নানা অপরাধ ও বিভেদ সৃষ্টি করে সামাজিক দূরত্ব বাড়িয়েছি৷ ঈদুল ফিতরের সৌহার্দ্যের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে ‘সংঘাত নয় শান্তি, বিভেদ নয় একতা’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হলে সব অন্যায় ও দূরত্ব দুর হয়ে যাবে। বৈষম্য নয় সাম্য, একে অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে আসাই হল ঈদুল ফিতরের শিক্ষা।

কবি বলেন, ‘ইসলাম বলে, সকলের তরে মোরা সবাই, সুখ-দুখ সম-ভাগ ক’রে নেব সকলে ভাই। তাই একে অন্যের সুঃখ-দূঃখে এগিয়ে আসতে হবে। অদৃশ্য একটি ভাইরাস পুরো পৃথিবীর মানুষকে ভয়ার্ত আর ঘরবন্দী করে রেখেছে। করোনা মহামারীতে দ্বিতীয় বারের মত ঈদুল ফিতর উদযাপন। করোনাকালে দুই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। কর্মহীন এসব মানুষের দৈনিক খাদ্যের যোগান কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের যোগান যাদের কাছ কষ্টকর ঈদের নতুন জামা তাদের কাছে অলীক সঁপ্ন। দারিদ্র্যতায় তাদের উঠোনে ঈদের বাঁকা চাঁদের খুশীর আলোর বন্যা বয়ে যায়না, নেই ঈদের আনন্দ। তাই আমাদের আশপাশের এসব প্রতিবেশীদের কথা ভাবতে হবে। তাদের সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বিনিময়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিবেশীর কষ্টে এগিয়ে না এসে দামী পোশাকের ঈদ উদযাপনে কোন কৃতিত্ব ও সওয়াব নেই। মন থেকে সব ধরনের অহংকার ও হীনতা ধুয়ে মুঁছে ভাইয়ে ভাইয়ের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা হল ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষা।

তাই কবি বলেন, ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ, মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ? ঈদুল ফিতরের খুশীর বার্তা বিশ্বের সব মুসলিম দেশে পৌঁছায় না। বিশ্ব রাজনীতি, ভৌগলিক ও খনিজ সম্পদের কারণে ফিলিস্তিন, ইয়ামেন, সিরিয়া, চীন, মিয়ানমারসহ বহু দেশের মুসলিমরা নিজ দেশে পরবাসী ও ভিটেহারা হয়ে উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছে। বোমার শব্দে ঘুম ভাঙে আর স্বজনের লাশ দাফনের মধ্য দিয়ে দিনের কাজ শুরু হয়। ঈদের জামাত পরিণত হয় লাশের মিছিলে। তাই আমার যদি ঈদুল ফিতরের শিক্ষা বাস্তবিক দৈনিন্দন জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি। বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিম সমাজের সহযোগিতায় কাজ করি। তাদের মুক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি। তাহলে একদিন ঈদুল ফিতরের খুশীর বার্তা পৌঁছাবে ফিলিস্তিন,মিয়ানমার, ইয়ামেন সহ সব মুসলিম দেশে। অস্ত্রের বিপরীতে ইসলামের সুমহান আদর্শ কায়েমে মুসলিম জাতি একদিন ঘুরে দাঁড়াবে। সীমান্ত আর ক্ষমতার দন্দ্ব ছাড়িয়ে পুরো মুসলিম জাহান একতাবদ্ধ হবে।

কবি বলেন, ‘আজি ইসলামী-ডঙ্কা গরজে ভরি’ জাহান,নাই বড় ছোট-সকল মানুষ এক সমান। আমরা এ পবিত্র দিনে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, হবে খোদা তুমি বড় দয়ালু। বিশ্বের আঠারো হাজার মাখলুকাত তোমার সৃষ্টি। তুমি আমাদের ক্ষমা করে রহমতের চাদরে ঢেকে দাও, করোনা ভাইরাস পৃথিবী থেকে দুর করে দাও৷ ঈদুল ফিতরের পবিত্র দিনে খুশী আর ভালবাসার আবির ছড়িয়ে পড়ুক পুরো বিশ্বের মুসলিম সমাজের প্রতিটি ঘরে ।

লেখক: চৌধুরী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, গণ মাধ্যম কর্মী, চট্টগ্রাম।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ