ঢাকাবুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঈদুল আজহার আনন্দে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হোক; ঈদ মোবারক

মোহাম্মদ আলী
জুলাই ১১, ২০২২ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মহান ত্যাগের মহিমায় প্রতি বছরের মত ফের এল পবিত্র ঈদুল  আযহা। এ দিনে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হযরত ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক তার প্রিয় শিশুপুত্র ইসমাঈলকে (আ) আল্লাহর পথে কুরবানী দেয়ার স্মৃতিকে অনুসরণ করে ইব্রাহিমী সুন্নাত হিসেবে ঈদুল আযহা পালন করে থাকি। হাদিসে আমরা ‘উযহিয়াহ’ শব্দটির উল্লেখ পাই ‘কুরবান’ শব্দের পরিবর্তে। আর ‘উযহিয়াহ’ থেকেই এসেছে ‘আযহা’ শব্দটি। পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য মহত্তম আদর্শের পরিবার ইব্রাহিম (আ.), বিবি হাজেরা ও তাদের প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.) পরিবার। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক আল্লাহর উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগের আদর্শকে ধারণ করে আমরা পশু কুরবানী দিয়ে থাকি ও কুরবানীর মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সচেষ্ট হই।

ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মানে মহাখুশী বা পরম আনন্দ। কুরবানের সরাসরি বাংলা হল ত্যাগ, সমর্পন বা উৎসর্গ। আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার মাধ্যমে পাওয়া আনন্দ বা মহাখুশী বলে এ উৎসর্গ বা ত্যাগের দিনটিকে কুরবানীর ঈদের দিন বা ঈদ উল আযহা বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে রোববার (১০ জুলাই) পালিত হবে এ উৎসব। অন্য দিকে, সৌদি আরবসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে শনিবারই (৯ জুলাই) পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতেও ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে শনিবার (৯ জুলাই)। উৎসব হলেও মূলত মুসলিমদের ত্যাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ঈদুল আজহায়। এ দিন মুসলিমরা পশু কোরবানী দিয়ে থাকে, যা আর্থিক ইবাদত বলে গণ্য হয়।

স্বাভাবিকভাবে ঈদুল আজহা একটি ধর্মীয় উৎসব। এটি সমষ্টিগতভাবে আনন্দ লাভের উপলক্ষও বটে। ঈদুল আজহা আমাদেরকে সবার সাথে সদ্ভাব, আন্তরিকতা ও বিনম্রতা দেখানোর সুযোগ করে দেয়। মুসলমানদের জীবনে এ সুযোগ সৃষ্টি হয় বছরে মাত্র দুই বার; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ঈদের জামাতে মানুষে মানুষে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে ধনী-দরিদ্র ও রাজা-প্রজা একই কাতারে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে ও পরস্পরে কুশল বিনিময় করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়, জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আন্তরিক মহানুভবতায় পরিপূর্ণ করে।

কোরবানীর পশুর পরিত্যক্ত রক্ত, নাড়ি-ভুড়ি ও চামড়া ইত্যাদি যত্রতত্র ফেলা যাবে না। সুনির্দিষ্ট স্থানে কোরবানীর পশু জবাই করতে হবে, যাতে মানুষের যাতায়াত ও যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটবে। ভুল করেও পশুর বর্জ্য রাস্তা ঘাট, নালা ও নর্দমায় ফেলা যাবে না।

ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে- এমনই প্রত্যাশা সবার। কুবানীর পশুর হাটে, ঈদ পরবর্তী ও ঈদোত্তর চামড়া ব্যবসায় প্রচুর পরিমাণ টাকা লেনদেন হবে। এ প্রেক্ষাপটে সব ধরনের নৈরাজ্যরোধপূর্বক সব স্তরের ব্যবসায়ী ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা, ঈদের আগে-পরে শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মার্কেট ও অফিস আদালত বন্ধ থাকবে বলে এ সময়ে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা ও ঘরমুখো মানুষের দূর্ভোগ লাঘব ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে পর্যাপ্ত হাইওয়ে, রেলওয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্র্ডকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ঈদ জামাত ও কোরবানীতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। পশু কুরবানীর পর এলাকা পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর রাখা আমাদের সবার নৈতিক, নাগরিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঈদুর আজহা হাজির হয়। দেশের শিক্ষা খাতকে আরো শক্ত করতে এবারের ঈদুল আজহার আগে দেশে নতুন করে আরো দুই হাজার ৭১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এটি একটি সুখবর। সম্প্রতি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে; যা উৎসবের একটি উপলক্ষ তৈরি করেছে। দেশে বর্তমানে দুইটি প্রেক্ষাপট খুবই গুরুত্বপূর্ণ- সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের সাবির্ক বন্যা পরিস্থিতি ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এ দুইটি বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হব। অন্য দিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে অনেক, বেড়েছে জ্বালানির মূল্য ও সংকট। এর ফলে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী  হতে হবে।

আমরা জানি, ঈদুল আযহা উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অঙ্গ হচ্ছে কুরবানী। কুরবানী হল ত্যাগ, চিত্তশুদ্ধি ও পবিত্রতার মাধ্যম। কুরবানীর মাংসকে তিন ভাগে ভাগ কর এর চেতনা রক্ষা করতে হবে। কুরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা গরীব-দরিদ্র ও মিসকীনদের হোক। আসুন, আমরা কুরবানির মাধ্যমে ইব্রাহীমী সুন্নাত পালনের মধ্য দিয়ে লোভ, দ্বেষ, ও মোহকে বিসর্জন দিয়ে পরিশুদ্ধ জীবন গঠনের মাধ্যমে শান্তিময় সমাজ গঠনে ব্রতী হই। সচেতনতা ও ত্যাগের মহিমায় পালিত হোক ঈদ উল আযহা। ঈদুল আজহা আপনার ও পরিবারের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল প্রশান্তি। আপনার প্রিয়জনদের সাথে এ ঈদ হয়ে উঠুক আরো আনন্দপূর্ণ। ঈদের আনন্দে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হোক। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বীবিত হয়ে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করি। সবাইকে ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা। সকলেই সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন, সুন্দর থাকুন, সকলের কল্যাণ হোক। সকলকে ধন্যবাদ। ঈদ মোবারক।

সম্পাদক, পরম বাংলাদেশ.কম

Facebook Comments Box