শিরোনাম
দুঃস্থ নারীদের নগদ টাকা উপহার দিল হিউম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বায়েজিদ থানা ছাত্রদলের মিলাদ ও ইফতার বিতরণ স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অর্থায়নে ফ্রি সবজি বাজার আন্দরকিল্লায় রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর সমস্যা, সমাধানে করণীয় ও হোমিওপ্রতিবিধান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রামে আজ মাহে রমজানের শেষ জুমা; জেনে নিন জুমাতুল বিদার মহত্ত্ব আলোচিত ‘নয়া দামান’ গানের মূল শিল্পী তোসিবা বেগম উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রবেশ বাড়ছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা কেন করবেন? সরকারিভাবে অন্তত ৯০০ টন অক্সিজেন মজুত আছে
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার: মালিক-শ্রমিক সবাই ভাই ভাই

ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ / ২০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

ডাক্তার মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: আজ ১ মে। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের মহান ‘মে দিবস’ আজ। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের যে মার্কেটের শ্রমিকরা উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। কল-কারখানা তখন গিলে খাচ্ছিল শ্রমিকের গোটা জীবন। অসহনীয় পরিবেশে প্রতিদিন ১৬ ঘন্টা কাজ করতে হত। সপ্তাহজুড়ে কাজ করে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে যাচ্ছিল। শ্রমজীবী শিশুরা হয়ে পড়েছিল কঙ্কালসার।

শ্রম অধিকারের ব্যাপারে ইসলাম যে রূপ রেখা দিয়েছে, তা কিয়ামাত পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের আসনে থাকবে। ইবনে উমর রাদি আল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা মজুরের শরীরের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরী দিয়ে দেবে। (ইবনে মাজাহ) মজুরের মজুরী নির্ধারণ না করে তাকে কাজে নিযুক্ত করতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী)।

ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা আল্লাহর আর মানুষ তার তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। সুতরাং এখানে মালিক-শ্রমিক সবাই ভাই ভাই। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে শ্রদ্ধা-স্নেহ, সৌহার্দ ও বিশ্বস্ততায় ভরপুর। শ্রমিক ও মালিক উভয়ের অধিকার রয়েছে নিজ নিজ প্রাপ্য বুঝে পাওয়ার। উভয়কে বলা হয়েছে, নিজ নিজ কর্তব্য পালনে দায়িত্বশীল হতে। শুধু মালিক বা শুধু শ্রমিক নয়; বরং উভয়কে সুসংহত আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইসলাম শ্রমের শ্রেণিবিন্যাসকে স্বীকার করলেও মানবিক মূল্যবোধ ও মৌলিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবাই সমান। রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবসায়, কৃষি ও দ্বীনচর্চাকে উৎসাহিত করেছেন। আবার মর্যাদার ক্ষেত্রে সব শ্রমিক সাধারণভাবে সমান ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমজীবী আল্লাহর বন্ধু। আর ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে বহু নির্দেশনা রয়েছে।

শ্রমের প্রতি উৎসাহ দিয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর যখন নামাজ পূর্ণ করা হবে, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়; আর আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা সফল হবে’ (সুরা-৬২ জুমুআহ, আয়াত: ১০)।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘ফরজ ইবাদতগুলোর পরেই হালাল উপার্জন ফরজ দায়িত্ব’ (তিরমিজি)। ‘হালাল উপার্জনগুলোর মধ্যে তা সর্বোত্তম, যা কায়িক শ্রম দ্বারা অর্জন করা হয়’ (মুসলিম)। শ্রমিকের অধিকার ও শ্রমগ্রহীতার কর্তব্য সম্পর্কে হাদিস শরিফে আছে, ‘শ্রমিকেরা তোমাদেরই ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের দায়িত্বে অর্পণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা যার ভাইকে তার দায়িত্বে রেখেছেন, সে যা খাবে তাকেও তা খাওয়াবে, সে যা পরিধান করবে, তাকেও তা পরিধান করাবে; তাকে এমন কষ্টের কাজ দেবে না যা তার সাধ্যের বাইরে, কোন কাজ কঠিন হলে সে কাজে তাকে সাহায্য করবে’ (মুসলিম, মিশকাত)। হজরত শুআইব (আ.) হজরত মুসাকে (আ.) কাজে নিয়োগ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘আর আমি আপনাকে কষ্টে ফেলতে চাই না; ইনশা আল্লাহ! আপনি আমাকে কল্যাণকামী রূপে পাবেন’ (সুরা-২৮ কছাছ, আয়াত: ২৭)।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক লোক এসে নবীজির (সা.) কাছে ভিক্ষা চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কি কিছুই নেই?’ সে বলল, ‘আমার একটি কম্বল আছে।’ নবীজি বললেন, ‘যাও কম্বলটি নিয়ে এস।’ কম্বল নিয়ে এলে নবীজি (সা.) তা নিলামে বিক্রি করলেন দুই দিরহাম মূল্যে। এক দিরহাম তাকে দিয়ে দিলেন পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে আর এক দিরহাম দিয়ে কুড়াল কিনে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তাতে হাতল লাগিয়ে দিলেন; আর ওই লোককে কাঠ কেটে উপার্জন করার নির্দেশ দিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)।

সব নবীই কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করেছেন। দ্বিতীয় আদম হজরত নূহ (আ.) কাঠমিস্ত্রি বা সুতারের কাজ করেছেন। হজরত ইদ্রিছ (আ.) সেলাইয়ের কাজ করতেন। হজরত সুলাইমানের (আ.) পিতা নবী ও সম্রাট হজরত দাউদ (আ.) লৌহশিল্প বা কামারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এমনকি নবী হজরত শুআইবেে (আ.) খামারে হজরত মুসা (আ.) ৮-১০ বছর চাকরি করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও মা খাদিজার (রা.) কোম্পানিতে চাকরি করেছেন দীর্ঘকাল।

রমজান মাস রহমতের ও ইবাদতের জন্য বিশেষায়িত। এ মাসে মালিক বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল শ্রমিকের প্রতি রহম করা, তার কাজের চাপ কমিয়ে দিয়ে তাকে ইবাদতে সহায়তা করা। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমাদান মাসে তার কাজের লোকের কাজ কমিয়ে সহজ করে দিল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার হিসাব সহজ করে দেবেন’ (বুখারি)।

পারিশ্রমিকের ব্যাপারে হাদিস শরিফে আছে, ‘তোমরা শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করো তার ঘাম শুকানোর আগেই’ (বায়হাকি, মিশকাত)। যারা শ্রমিকের মজুরি আদায়ে টালবাহানা করেন, তাদের ব্যাপারে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সামর্থ্যবান পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম বা অবিচার’ (বুখারি)। ‘হাশরের দিনে জুলুম অন্ধকার রূপে আবির্ভূত হবে’ (মুসলিম)।

হাদিসে কুদসিতে আছে: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি তাদের বিরুদ্ধে থাকব, যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে, মানুষকে বিক্রি করে এবং ওই ব্যক্তি যে কাউকে কাজে নিয়োগ করল, অতঃপর সে তার কাজ পুরোটা করল; কিন্তু সে তার ন্যায্য মজুরি দিল না’ (বুখারি)। হাদিস শরিফে আছে, ‘যদি কেউ কারো ন্যায্য পাওনা অস্বীকার করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য বেহেশত হারাম করে দেন’ (মুসলিম)।

ইসলামি বিধানমতে, নিম্নতম মজুরি হল শ্রমিকের মৌলিক অধিকারগুলো, তথা ‘খোরপোষ-বাসস্থান এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা’ (বুখারি ও মুসলিম)। ক্ষতিগ্রস্ত বা অক্ষম শ্রমিক ও তার পরিবারের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা সম্পদ রেখে যাবে, তা তাদের উত্তরাধিকারীরা পাবে আর যারা অসহায় পরিবার-পরিজন রেখে যাবে, তা আমাদের (সরকার ও মালিকপক্ষের) দায়িত্বে’ (বুখারি, মুসলিম ও বায়হাকি)।

লেখক: এমএ কামিল হাদিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ