ঢাকাসোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমার কিছু হবে না: মাস্ক না পরার অদ্ভুত সব অযুহাত!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১২, ২০২০ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম: শুরু হয়েছে মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ডেউ। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গত চার দিনে বেড়েছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। এর সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রসাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর মাঠে নেমেই প্রথম দিনে মাস্ক পরিধান না করায় ৩০ জনকে ছয় ঘন্টার আটকাদেশ এবং ৭৩ জনকে মুচলেকাসহ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটির আন্দরকিল্লাহর টেরীবাজার, হাজারীগলি ও চেরাগী পাহাড় এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক এবং জহুর হকার্স মার্কেটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান অভিযান চালান।

অভিযানে মাস্ক পরিধান না করায় ৩০ জনকে ছয় ঘন্টার আটাকাদেশ দিয়ে কোতোয়ালী থানায় আটক রাখা হয় এবং ৩০ জনসহ ৮৯ জনকে ১৭ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক।

অন্যদিকে, একই অপরাধে ১৪ জনকে দুই হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান।

মাস্ক না পরে আইনের আওতায় আসা এ সব ব্যক্তির বয়স ১৯ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। তবে মজার বিষয় হলো- তারা মাস্ক না পরার কোনো যৌক্তিক কারণ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বলতে পারেন নি। বরং মাস্ক না পরার পিছনে এদের ছিল অদ্ভুত সব অবাক করা অযুহাত!

তারা কেনো মাস্ক পরিধান করেন নি জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক পরম বাংলাদেশকে বলেন, ‘মাস্ক না পরার পিছনে তাদের অযুহাত ছিল, “ভুলে ফেলে এসেছি! মনে ছিল না! অন্যরাও তো পরছেনা!”

‘ এ রকম বিভিন্ন অজুহাত দেখান তারা, যার কোন যথার্থতা নেই।’

ওমর ফারুক আরো বলেন, ‘অনেকেই অবহেলায় মাস্ক পরিধান না করে ঘোরাঘুরি করছে। এর ফলে তারা নিজেকে ও অন্যদেরকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে। অভিযানে দেখা যায়, বিভিন্ন পেশার মানুষ দোকানদার, চাকুরিজীবী, ড্রাইভার, যাত্রী, পথচারী এমনকি শিক্ষিত ও সচেতন মানুষও মাস্ক পরিধানে অবহেলা ও অবজ্ঞা করছে।’

এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান বলেন, ‘মাস্ক না পরার পিছনে তাদের অযুহাত ছিল-“মাস্ক আছে, কিন্তু পকেটে! নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়! আমার কিছু হবে না! গাড়িতে ভুলে রেখে এসেছি! নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম, তাই মাস্ক পরিনি! মাত্র বের হলাম, মাস্ক দোকানেই আছে! মাস্ক একটু আগে ছিঁড়ে গেছে!”

আজকের অভিযানে আরোও ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিবি করিমুন্নেসা ও কোতোয়ালী থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন।

Facebook Comments Box