ঢাকাশুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আবেদনের বসয়সীমা ৩৫ এর দাবি চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের

ঢাকা
আগস্ট ৮, ২০২২ ৭:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা: ‘নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন চাই, চাকরিতে আবেদনের বসয়সীমা ৩৫ চাই’ এ স্লোগানে ৪৫তম বিসিএসের সার্কুলারের আগেই চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে রোবার (৭ আগস্ট) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম।

এতে চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত যুব সমাজ বিগত এক যুগ ধরে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫ বছরে উর্নীতকরণের গঠনমূলক ও যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছে। কোভিড-১৯ এর আঘাতে সব বয়সী শিক্ষার্থীরা দুই বছরের অধিক সময় হারানোর পর বর্তমান যুব প্রজন্ম সাংবিধানিক অধিকার সুযোগের সমতা বঞ্চিত হয়ে ফের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট। এ প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নিকটখোলা চিঠি দেয়া হয়েছে; তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গাজি লিকুর মাধ্যমে ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে ও টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জে গিয়ে শেখ সেলিমসহ শেখ পরিবারের সদস্যদের সাথে আলােচনা করা হয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম এখন পর্যন্ত এমন কোন প্রকার আন্দোলন সংগ্রাম তথা কর্মসূচীতে যায় নি, যাতে রাষ্ট্র ও সরকারকে বিব্রত হতে হয় বা জনজীবনে সমস্যার সৃষ্টি হয়।’

তারা আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্বেরর প্রতিনিধিরা ২০১৮ সালের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির অঙ্গীকার উল্লেখ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ও বছর পেরিয়ে আর একটি নির্বাচন আসন্ন এমন সময়েও ওই ওয়াদা বাস্তবায়ন করে নি শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করা এ দলটি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করা হবে। পরে মিডিয়াতে একই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। করোনার দুই বছরের অধিক সময় কেড়ে নেয়ার পর বয়সসীমা হারিয়ে ফেলা চাকরীপ্রত্যাশী উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক। নিত্যনৈমিত্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে দেশ জুড়ে। জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ৭১ বার (রাষ্ট্রপতি, তৎকালীন স্পীকার আব্দুল হামিদসহ) বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিটি উথাপিত হয়েছে, যার সাম্প্রতিক উদাহরণ জাতীয় পার্টির সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বক্তব্য। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়য়সীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত হয় এখন থেকে ৩১ বছর আগে ১৯৯১ সালে, সেটাও অন্য সরকোরের আমলে। তখন গড় আয়ু ছিলো ৫৭ বছর আর এখন ৭৩। বিশ্বের ১৬২টি দেশে আমাদের চেয়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অধিক। বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতিতে যুবকের সংজ্ঞায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স বলা হচ্ছে। আবার এখানে ৩০ বছরে আটকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ। অথচ জনপ্রশাসন সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি লিখিতভাবে বয়সসীমা ৩৫ অনুমোদন করার জন্য সুপারিশ করেছেন। শুধুমাত্র বিসিএস কোয়ালিফাই করার বয়সের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বয়সসীমার ৩১ বছরের অচলায়তন চলমান। ফের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে নূন্যতম তিনটি বিসিএস পরীক্ষায় কম আবেদন করতে পারেন।’

নেতারা বলেন, ‘আজকের এ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দুপুর তিনটায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে জনসমাবেশের আয়াজন করা হয়েছে। যেখানে ঢাবি, রাবি, জবি, জাবি, চবি, ইবি, বাকৃবি ও ঢাকা কলেজসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের প্রায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চাকরি প্রত্যাশী যুব প্রজন্মের প্রধান সমন্বয়ক মো. তানভীর হোসেন, সদস্য সানিয়া সুমি, আসিফ হাসান, সাজিদ সেতু, রবিউল বনি, রাজ্জাক হাবিব, জহিরুল জনি, আনোয়ার জনি, কামরুল হাসান, কিশোর সাহা, মর্তুজা হাসান, মাহফুজ সনেট, পিন্টু সরকার, সঞ্জয় সরকার, আব্দুল গাফফার, আহসানুল বাবু, ফারহা জুবায়ের, শাওন সোমা, রেজোয়ানা সুলতানা, মইনুল হোসেন, সোহেল শেখ, শ্রীসান।

Facebook Comments Box