ঢাকাশুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আবদুর রহমান ও কাবুলিওয়ালার মধ্যে একটা সাদৃশ্য আছে

নুরুন্নবী নুর
নভেম্বর ১৮, ২০২০ ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নুরুন্নবী নুর: ‘প্রবাস বন্ধু’ সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ গ্রন্থের পঞ্চদশ অংশ। এটি একটি গল্প। এতে মূলত গল্পকার একটি দেশের মানুষ ও তার পরিবেশের প্রকৃতি সম্পর্কে তুলে আনতে চেয়েছেন, সাথে দেশটির মানুষের আচার-আচরণের বৈশিষ্ট্য থেকে শুরু করে সেখানকার খাদ্যাভাস তুলে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, অনেকটা পেরেছেনও বলতে হয়।আফগানিস্তান নামক দেশটিই মূলত লেখকের গল্পের মূল বিষয়বস্তু।

‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটিতে পড়তে গিয়ে বারবার রবীন্দ্রনাথের গল্প কাবুলিওয়ালার কথাই বেশি মনে পড়ছে। মনে হলো, কোথাও একটা যোগসূত্র রয়েছে। আখরোট, বাদাম, কিসমিস শব্দগুলো পরিচিত মনে হচ্ছে। আবদুর রহমান ও কাবুলিওয়ালর মধ্যে একটা সাদৃশ্য আছে মনে হলো।

‘প্রবাসী বন্ধু’ গল্পের সারসংক্ষেপ হলো- ‘প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্য-রসাত্মকভাবে রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক অভিজ্ঞতার পরিচয় আছে গল্পটিতে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খাজামোল্লা নামক গ্রামে বসবাসের সময় আবদুর রহমান নামের একজন তাঁর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। আফগান আবদুর রহমান চরিত্রের মধ্যে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিরায়ণতা ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমানের রান্না পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়। আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি এবং একই সঙ্গে নিকট-প্রতিবেশী এই জনপদের বরফ শীতল জলবায়ু আকর্ষণীয়। আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তা কখনো লেখকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটলেও শেষ অবদি সৈয়দ মুজতবা আলী একে গ্রহণ করেছেন শ্রদ্ধার সঙ্গে।’

‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটিতে বিচিত্র ধরনের শব্দের ব্যবহার ভাষায় এনেছে নতুনত্ব। গল্পটি পাঠকদের নিকট হয়েছে সমাদৃত। মুজতবা আলীর লেখার আলাদা একটি স্টাইল রয়েছে। সে জন্য লেখককে বলা হয়, নিজস্ব এক গদ্যশৈলীর নির্মাতা। বিভিন্ন ভাষায় ব্যুৎপত্তি ও অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সংমিশ্রণে তিনি যে গদ্য রচনা করেছেন, তা খুবই রসগ্রাহী হয়ে উঠেছে। আলোচ্য ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থটি ছাড়াও তাঁর অন্য উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো- পঞ্চতন্ত্র, চাচা কাহিনী, ময়ূরকণ্ঠী, শবনম ইত্যাদি।

জীবদ্দশায় মুজতবা আলী দেশি-বিদেশি নামকরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অধ্যাপনা করার সুযোগও পেয়েছেন। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগে তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়। ১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতীর রিডার নিযুক্ত হন।

সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে আসামের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করলেও পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারে। তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করে।

বাংলা সহিত্য পাঠে ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটি নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ানো হয়।

লেখক: শিল্প সমালোচক

Facebook Comments Box