শিরোনাম
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জরুরী রোগী ব্যবস্থাপনার দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু চা শ্রমিক নেতা বাবুল বিশ্বাসের মৃত্যুতে চা শ্রমিক নেতাদের শোক প্রকাশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট চায় না চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রদল বিডার কাছে ব্যবসায় সহজীকরণের উদ্যোগ চায় বিজিএমইএ মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বেপজার প্লট পেল বঙ্গ প্লাস্টিকসহ দেশি বিদেশি দশ প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ভেরিয়েন্ট দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে কাউন্সিলর শহিদুল আলম টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৮০০ পিস আন্দামান গোল্ড বিয়ার জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল চট্টগ্রাম চেম্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের ছুটি বাড়ল ৩০ জুন পর্যন্ত
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

আফগানিস্তানের কাবুলি মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা

নুরুন্নবী নুর / ১৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০

নুরুন্নবী নুর: শান্তি নিকেতনে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে মাত্র ২৩ বছর বয়সে আফগানিস্থান সরকারের অনুরোধে ‘কাবুল কৃষি কলেজে’ ফারসি এবং ইংরেজি ভাষার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন সৈয়দ মুজতবা আলী। দেশে বিদেশে ভ্রমণ লিপিটি শুরু হয় তার কলকাতা থেকে পেশাওয়ার হয়ে কাবুল যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে। কাবুলে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম রসবোধের সাহায্যে তাদের সাথে কথোপোকথন ও দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপ তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে আফগানিস্থানের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা ও মোল্লাতন্ত্র-প্রকৃত ধর্ম চর্চার প্রভেদ সম্পর্কে লেখক তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। কাবুলে অবস্থানের শেষ পর্যায়ে আফগানিস্থানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন শুরু হয় এবং বাচ্চায়ে সাকোর আক্রমণে বিপর্যস্ত কাবুল ত্যাগের করুণ কাহিনীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আখ্যান।

‘দেশে বিদেশে’ হচ্ছে কথা সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনী। এই বইটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণ কাহিনী হিসেবে গণ্য করা হয়; অন্য কোন ভ্রমণ কাহিনী আজ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে এর মতো এতোটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে নি। গ্রন্থটিতে তিনি প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্থানের ভূমি, পরিবেশ; সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে রচনাটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত গ্রন্থটি ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের আফগানিস্থান ভ্রমণের উপর রচিত। এটি ১৯৪৮ সালের মার্চ মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

দেশে বিদেশে’ গ্রন্থটি দু’টি খণ্ডে বিভক্ত করা হলেও আমি যে বইটি পড়েছি সেটি মূলত এক খণ্ডে কপিরাইটকৃত বই। প্রথম খণ্ডে আলোচিত হয়েছে-কলকাতা থেকে রেলপথে কাবুল যাত্রার এক চমৎকার বিবরণ। ট্র্যাভেলগের ভঙ্গিতে লেখক সেখানে তুলে ধরেছেন তার যাত্রা পথের সঙ্গী বিচিত্র সব চরিত্র, যারা একই সঙ্গে অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, মানবিকতায় দৃষ্টান্ত আবার আনন্দ দানে সক্ষম। চলার পথে তিনি যে সব এলাকা অতিক্রম করেন, সে সব অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, পোশাক-আশাক, সংস্কৃতি, কৌতুকবোধ কোনো কিছুই তার সরস কলমে বাদ পড়েনি। শুরু হয়েছে কলকাতার ফিরিঙ্গি সহযাত্রীকে নিয়ে। পরে তা বিস্তৃত হয়েছে পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে, বিশেষ করে পাঞ্জাব ও পেশোয়ারের পথের শিখ সর্দারজি ও পাঠান সহযাত্রীদের কথা।

দ্বিতীয় খন্ড অন্যরকম। প্রথম খন্ড পড়ে যারা ধারণা করবেন ‘দেশে বিদেশে’ হচ্ছে একটি ভ্রমণ কাহিনী, দ্বিতীয় খন্ডে তাদের হোঁচট খেতে হবে। সেখানে কোনো ভ্রমণ বৃত্তান্ত নেই। আছে লেখকের নতুন কর্মস্থল আফগানিস্থানের অভিজ্ঞতা। সেখানকার প্রগতিশীল শাসক আমানুল্লাহর আধুনিক আফগানিস্থান গঠনের স্বপ্ন, মোাল্লাতন্ত্রের বিরোধিতা, প্রতি বিপ্লবে আমানুল্লাহর পতন তথা আফগানিস্থানের উত্থান-পতনের বিবরণ। তিনি কাবুলি মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রা, চলন-বলনে, খাওয়া-দাওয়ায় যে ঐতিহ্য সব কিছুই নিপুণ শিল্পীর মতো তুলে ধরেছেন।

দেশে বিদেশে’ গ্রন্থটি পড়তে যেয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী সম্পর্কে বিশদ একটা ধারণা অর্জন হয়েছে। এক খণ্ডে কপিরাইটকৃত বইটি ৪২টি ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

পাঠককে ঘটনা পরিস্কার করতে মাঝে-মাঝে কিছু উপমা ব্যবহার করেছেন, যে উপমাগুলো খুবই নান্দনিক ও সম-সাময়িক। মাঝে-মাঝে চরণগুলোর নিচে পেন্সিল দিয়ে দাঁগিয়ে রেখেছি। প্রত্যেকটি ঘটনা আমার জীবনে প্রভাব ফেলতে না পারলেও কিছু যুক্তি, দর্শন, উপমা ও প্রবাদবাক্য কাজে দিবে বলে বিশ্বাস রাখি। সে জন্য নিচে দাগ দিয়ে টুকে রেখেছি। কিছু কথা বা উপমা সম-সাময়িকতার দরুন সামাজিক মাধ্যমে বিশ্লেষণ করতে চেষ্টা করেছি।

আনন্দের সাথে বলছি, সৈয়দদার চিন্তা ও দর্শন আমাকে খুব মোহিত করেছে। দেশে বিদেশের আংশিক ‘পাঠান মুলুক’ নামে প্রাইমারির বাংলা বইয়ে এবং মাধ্যমিকে ‘প্রবাসের বন্ধু’ নামে সংযুক্ত আছে। ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণ কাহিনী হলেও উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ সব সাহিত্যের ছোঁয়া আছে বলতে হয়।। কারণ, এটি বাস্তব অভিজ্ঞতার নির্ভর একটি বই। মূল বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৮টি হলেও সংগৃহীত বইয়ে ২৬৯টি পৃষ্ঠা। পড়তে প্রায় ১৮ দিন সময় লেগেছে।

যাঁরা ভ্রমণপ্রিয় মানুষ, তাঁদের জন্য বইটি খুবই চমকপ্রদ। পাঠ্যবইয়ের গুটিকতক গল্প-প্রবন্ধ ছাড়া সৈয়দ মুজতবা আলীকে জানার তেমন সুযোগ হয়ে উঠেনি। ‘দেশে বিদেশে’ বইটি বছরখানেক আগে ঢাকা থেকে কেনা। অনেকদিন বইয়ের তাকে অবহেলায় পড়েছিল। অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বইটা পড়া শুরু করলাম। বইটি পড়ে বেশ ভালোই লেগেছে। ভ্রমণ কাহিনীমূলক বই আমার পড়তে খুব ভালো লাগে। কেউ উপহার দিতে চাইলে, লজ্জা ভেঙে বলেই দিই, আমাকে যে কারো ভ্রমণ কাহিনীমূলক বই দিলে খুশি হই। এটা উপহার নয়, নিজের পকেট থেকে খরচ করে কেনা।

নিউ এজ পাবলিশার্স (প্রা.) লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত সৈয়দ মুজতবা আলী ‘দেশে বিদেশে’ বইটি উৎসর্গ করেছেন জান্নাতবাসিনী জাহান-আরার স্মরণে।

প্রথম সংস্করণ ১৩৫৬ এবং তেইশতম সংস্করণ ১৪১৪। গ্রন্থস্বত্ব সংরক্ষিত। গ্রন্থ নির্মাণ ও রূপায়ণে সৌম্যেন পাল। বইটির গায়ের মূল ৩০০ টাকা। অনেক আগে কিনেছি বিধায় কেনা দাম ঠিক মনে নেই।

লেখক:
তরুণ শিল্প সমালোচক
ছবি: উইকিপিডিয়া

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ