শিরোনাম
সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩৩ অপরাহ্ন

‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’: নারীদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হোক

পরম বাংলাদেশ / ১৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

‘কমলা রঙের বিশ্বে নারী বাধার পথ দেবেই পাড়ি’ এ বিষয়টিকে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে বুধবার (২৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হলো আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধই এ পক্ষ পালনের মূল লক্ষ্য।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বছর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) পালন করছে।

এছাড়াও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা পক্ষকালব্যাপী নারী নির্যাতন বন্ধ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস উদযাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে এই দিবস ও পক্ষ পালন করছে।

করোনা মহামারীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের সরকার জনসাধারণের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমাতে লকডাউন ঘোষণা করেছিল। সরকারি এই আদেশ সাধারণ মানুষ কম-বেশি মেনেও চলেছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশেও এ সময়ে পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা প্রকোট আকার ধারণ করে। করোনাতেও বেড়েছে বাল্যবিয়ে, ধর্ষণ, হত্যা, গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ও পুড়িয়ে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতা।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মতে, করোনায় বাড়িতে বন্দী থাকার কারণে মানসিক চাপ যেমন পারিবারিক কলহ ও সহিংসতা বাড়িয়েছে, তেমনি সামাজিক দুরত্ব মানার বাধ্যবাধকতায় এবং পুলিশের অন্যান্য কাজের দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায়, এ বিষয়ে পুলিশী কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে। এছাড়া এ সব বিষয়ে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তা নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে আরও দুর্বল করেছে।

করোনাকালীন বিভিন্ন গবেষণা বলছে, দেশে সহিংসতার শিকার ৯১ ভাগ নারী ও কন্যাশিশু এবং এর ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতনকারী ঘরের মধ্যেই রয়েছে।

বলা হচ্ছে, করোনাকালে অর্থনৈতিক অনিরাপত্তা, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি কার্যক্রম কমে যাওয়াই জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও নির্যাতনে বাড়ার অন্যতম কারণ।

আর্টিকেল নাইনটিন নামে একটি সংস্থা বলছে, কোভিড-১৯ এর এই পরিস্থিতিতে নারী, শিশু, বালক-বালিকা, তৃতীয় লিঙ্গসহ সকলের উপর যে সহিংসতা ও নির্যাতন চলছে, তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক অবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার পাশাপাশি নির্যাতন বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে আমাদেরই।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃঢ়, শক্তিশালী ও সমন্বিত নীতিগত সমাধানের প্রক্রিয়া গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ পালনের মাধ্যমে নারীদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন-যাপন নিশ্চিত হোক এ প্রত্যাশা আমাদের।

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ